Wednesday, July 1, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

শতদ্রুর টাকার লেনদেন ঘিরে সন্দেহ! রিষড়া বাঙুর পার্কে ‘‌চারু সুধা’‌ বাড়িতে হানা সিটের

সন্দেহ করা হচ্ছে, মেসির এই সফরে কালো টাকা ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। সেদিকটা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার মামলায় তদন্তের গতি বাড়াল পুলিশ। শুক্রবার ভোররাতে ওই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের হুগলির রিষড়া পার্ক এলাকার বাড়িতে তল্লাশিতে যায় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরা। সকাল ছ’টা নাগাদ ‘চারু সুধা’ নামে পরিচিত ওই বাড়িতে পৌঁছন তাঁরা। সূত্রের খবর, রিষড়া থানার পুলিশও অভিযানে সামিল ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবভারতীতে হওয়া বিশৃঙ্খলার ঘটনার তদন্তের স্বার্থেই প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে শতদ্রুর বাড়িতে ছিলেন আধিকারিকরা। তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর বিধাননগর পুলিশের একটি দল রিষড়া থানায় যায়। সেখান থেকে কিছুক্ষণ পরে তাঁরা ফের বিধাননগরের উদ্দেশে রওনা দেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে আপাতত নারাজ পুলিশ। একই ভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি শতদ্রুর পরিবারের সদস্যরাও। গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী স্টেডিয়ামে নির্ধারিত অনুষ্ঠানে লিওনেল মেসির উপস্থিতি না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দর্শকদের একাংশ। সেই ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে স্টেডিয়াম চত্বরে। ঘটনার পরেই মূল উদ্যোক্তা হিসেবে শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যুবভারতীর এই ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে তিনটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে এক মামলায় দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত এই সংক্রান্ত মামলাগুলিতে কী নির্দেশ দেয়, সে দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের। ফুটবলের নক্ষত্রকে তিলোত্তমার ময়দানে আনার কাণ্ডারি ছিলেন যিনি, তাঁর নাম শতদ্রু দত্ত। এর আগে মারাদোনা সহ অনেক তারকাকে দেশে এনেছেন।

লিওনেল মেসি বরণে যুবভারতী কেলেঙ্কারির তদন্তে শতদ্রু দত্তের বাড়িতে হানা দিল ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল। রিষড়া বাঙুর পার্কে শতদ্রুর ‘চারু সুধা’ বাড়িতে শুক্রবার সকালে পৌঁছয় পুলিশ। রিষড়া থানার পুলিশের সহায়তায় মহিলা পুলিশকর্মী-সহ 5 জন আধিকারিক শতদ্রুর বাড়ির ঢোকেন। পরিচারিকাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি, বিলাসবহুল ওই তিনতলা বাড়ির বিভিন্ন অংশে তল্লাশিও চালানো হয়েছে। শতদ্রুর ঝাঁ-চকচকে তিনতলা বাড়িতে পৌঁছে সুইমিং পুল, ফুটবল মাঠ-সহ পুরো বাড়ি তল্লাশি করে পুলিশ। পরিচারিকা ছাড়া আর কেউ বাড়িতে ছিলেন না এদিন। তাঁর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি, বিলাসবহুল বাড়ির প্রতিটি ঘরে তল্লাশি অভিযান চালান তদন্তকারীরা। তবে কোনও কিছু সিজ করা হয়নি বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, মেসির এই সফরে কালো টাকা ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। সেদিকটা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। যুবভারতী বিশৃঙ্খলা কাণ্ডে ২টি এফআইআর দায়ের- বিধাননগর দক্ষিণ থানায় যুবভারতী বিশৃঙ্খলা কাণ্ডে পুলিশের পক্ষ থেকে দু’টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সেই এফআইআরের ভিত্তিতে কালো টাকার উৎস সন্ধানে তদন্ত হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, মেসির সফর ঘিরে নানা গুঞ্জন উঠছে। এই সফরে একশো কোটি টাকারও বেশি খরচ করেছে শতদ্রুর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা। সেই টাকা কীভাবে জোগাড় হল? সেই টাকার উৎসই বা কী ছিল?‌ কীভাবেই সেই টাকা পৌঁছল মেসির কাছে?‌ এই অর্থের কোনও দুর্নীতি আছে কি না, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দেখা দরকার বলে মনে করছে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা। উঠছে ইডির তদন্তের দাবিও।

শতদ্রুর পরিবার মুখ খুলতে নারাজ- এদিকে শতদ্রুকে আগেই ১৪ দিনের পুলিশে হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই ঘটনার তদন্তে আজ রিষড়ায় শতদ্রুর বাড়িতে আসেন বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্যরা। ভোর থেকে তিন ঘণ্টা তল্লাশির পর সকাল 9টা নাগাদ বেরিয়ে যান পুলিশকর্তারা। এরপর তাঁরা কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় ৷ তল্লাশি সম্পর্কে পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শতদ্রু পরিবারও এ নিয়ে কিছু মুখ খুলতে নারাজ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মীও এসেছিলেন শতদ্রুর বাড়িতে- পুলিশ বেরিয়ে যাওয়ার পরই একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পেনশন ইউনিয়নের সদস্য মৃত্যুঞ্জয় আঁশ আসেন শতদ্রুর বাড়িতে। শতদ্রুর বাবা রিষড়ার একটি ব্যাঙ্কের কর্মী ছিলেন ৷ বাবার মৃত্যুর পর মা সেই পেনশন পান। সেই পেনশনের কার্ড পেয়েছেন কি না তা জানার জন্য এসেছিলেন ওই ইউনিয়নের সদস্য। তিনি বলেন, “আমি ওই ঘটনা (যুবভারতী কাণ্ড) নিয়ে কিছু বলতে পারব না। শতদ্রু মা পেনশন পান। সেই কার্ড পেয়েছেন কি না সেটা জানতে এসেছিলাম। কিন্তু কাউকে ডেকে কোনও সাড়া পায়নি।”

কলকাতা বিমানবন্দর থেকে Goat India Tour-এর মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সোশাল মিডিয়া থেকে ফুটবলপ্রেমীদের তরফে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। এরপরই অরূপ বিশ্বাস পদত্যাগ করেন। ক্রীড়া দফতর নিজের হাতেই রাখেন মমতা। আগের প্রতিবার তিনি ছিলেন পর্দার আড়ালে। মেসির গোট ট্যুরকে কেন্দ্র করে তাঁর ইমেজ একধাক্কায় প্রায় নায়কের স্তরে উঠে যায়! কলকাতা, হায়দরাবাদ, দিল্লিতে কী হবে এই নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই আপডেট দিচ্ছিলেন শতদ্রু। ফলে জন-উন্মাদনাও ধাপে ধাপে বাড়ছিল৷ আজ যুবভারতীতে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার পর একধাক্কায় নায়ক থেকে খলনায়ক এই বাঙালি আয়োজক! মেসির ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর ২০২৫’ সেই ছবিটাই পাল্টে দিয়েছে। চার শহর কলকাতা, হায়দরাবাদ, মুম্বই, দিল্লি। প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়া আপডেট, সম্ভাব্য অতিথির নাম সবকিছুর কেন্দ্রে শতদ্রু নিজেই। পরিকল্পনা ছিল বড়। মেসিকে ঘিরে প্রদর্শনী ম্যাচ, তারকা-সাক্ষাৎ, রাজনীতি–বিনোদন–কর্পোরেট দুনিয়ার মেলবন্ধনে লক্ষ্য ছিল ভারতে ফুটবলের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বাড়ানো। বাস্তবের মাটি রুক্ষ, নির্মম। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দর্শক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, প্রবেশ–প্রস্থান সব মিলিয়ে একাধিক স্তরে ব্যর্থতা সামনে আসে। টিকিট কেটে দর্শকদের প্রায় কেউই মেসিকে ঠিকভাবে দেখতেই পাননি। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে।

মেসির কলকাতা সফরের সময় যুবভারতী মাঠ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ব্যাপক পরিস্থিতিতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে বিধাননগর কমিশনারেট দ্রুত কড়া পদক্ষেপ নেয়। একাধিক ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। রবিবার শতদ্রু দত্তকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিধাননগর উত্তর থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে কমিশনারেট পুলিশ। অশান্তি সৃষ্টি, ভাঙচুর, হিংসা ছড়ানো, নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালানো এবং জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৯২, ৩২৪ (৪)(৫), ৩২৬ (৫), ১৩২, ১২১ (২), ৪৫ ও ৪৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে। লিওনেল মেসি অবশেষে শহরে পা রেখেছিলেন। যুবভারতীতে শুধু কলকাতার নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও দর্শকরা মেসি দর্শনে জমায়েত হয়েছিলেন। দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও মেসি প্রেমীরা নেতাজি ইন্ডোরে উপস্থিত হয়েছিলেন। যুবভারতীতে মেসি প্রবেশের কিছুক্ষণ পরেই পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। দর্শকদের অভিযোগ, মেসিকে ঘিরে থাকছিলেন ভিআইপিরা, যাদের সংখ্যা কমিয়ে ১০০ করা হয়। এর ফলে গ্যালারি থেকে ২০ মিনিটের জন্য মেসিকে দেখা যায়নি, যা দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর বোতল ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মেসি এবং অন্যান্যরা দ্রুত মাঠ ছাড়েন। এরপর যুবভারতী মাঠ জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles