শুক্রে ফলাফল ঘোষণা পর থেকেই তোড়জোড়। নয়া সরকার গঠনের কাজ চলছে পুরদস্তুর। সূত্রের খবর, বুধ নয়, বৃহস্পতিতে বিহারে নয়া সরকার গঠন হবে। ঠিক তার আগে, বুধবার ইস্তফা দেবেন বিহারের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। শপথগ্রহণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি থাকায় অনুষ্ঠানকে আরও বৃহৎ আকারে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। গান্ধী ময়দানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, স্থাপন করা হচ্ছে বিশাল মঞ্চ, অতিথিদের জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষ আসনব্যবস্থা। বিহার বিজেপি সভাপতি দিলীপ জয়সওয়াল সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার গান্ধী ময়দানে এনডিএ-র শপথ অনুষ্ঠানে যোগদানকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির প্রধান নেতারা, বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রীরা। তিনি জানিয়েছেন, ‘আগামিকাল বিজেপির আইনসভা দলের সভা রয়েছে এবং তার পরে এনডিএ-র আইনসভা দলের সভা ডাকা হবে। ২০ নভেম্বর গান্ধী ময়দানে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি, বিভিন্ন রাজ্যের প্রধান বিজেপি নেতা, মুখ্যমন্ত্রী এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।’ নীতীশ কুমারকে আইনসভা দলের নেতা নির্বাচিত করা হবে ১৯ নভেম্বর। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, বিজেপি, জেডি(ইউ), লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস), রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা (আরএলএম) এবং হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (ধর্মনিরপেক্ষ) বা এইচএএম (এস) নিয়ে গঠিত জোটের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য দলগুলি থেকে প্রতি ছয়জন বিধায়কের জন্য, একটি মন্ত্রী পদ বরাদ্দ করার কথা ভাবা হয়েছে, যদিও এই বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি এখনও। একটি করে পদ সম্ভবত আরএলএম এবং এইচএএম(এস), তিনটি এলজেপি(আরভি) এবং বাকি ৩০-৩১টি পদ বিজেপি এবং জেডি(ইউ)-এর মধ্যে ভাগ করা হবে বলে সূত্রের খবর। এনডিএ ১৮তম বিধানসভায় পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বিজেপি ৮৯টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। নীতীশ কুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড) ৮৫টি আসন পেয়েছে। শরিকদের মধ্যে এলজেপি (রামবিলাস) ১৯টি, হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (HAM–Secular) ৫টি এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা ৪টি আসন দখল করেছে। মোট ২০২টি আসন পেয়ে এনডিএ শক্ত অবস্থান নিয়েছে। বিপরীতে, মহাগঠবন্ধন এককভাবে মাত্র ৩৫টি আসন পেয়েছে। ২০২৫ সালের এই রায় ২০২০ সালের তুলনায় একেবারে উল্টো ছবি তুলে ধরেছে। ২০২০ সালে মহাগঠবন্ধন ছিল এনডিএর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বহু এলাকায় সমানে টক্কর দিয়েছিল। কিন্তু এবার বিরোধী জোট কার্যত ভেঙে পড়ে। আরজেডির ফলাফল আশানুরূপ হয়নি; দলের প্রত্যাশার তুলনায় আসন সংখ্যা অনেক কমেছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের পরিস্থিতি আরও করুণ। মাত্র ৬টি আসনে জিতেছে তারা। তাদের ৮.৭১ শতাংশ ভোট শেয়ার ২০২০ সালের কাছাকাছি থাকলেও দুর্বল সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীদের খারাপ নির্বাচন এবং নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা আসনে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়েছে।




