Friday, July 17, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ভারতীয় দল গুয়াহাটির উদ্দেশে, শুভমন গিল কলকাতাতেই!‌ ইডেন গার্ডেন্সে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্টে বিরল নজির!‌

ইডেন গার্ডেন্সে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্টে তৈরি হয়েছে এক বিরল নজির। ভারতের খেলা কোনও টেস্টে এমন ঘটনা ঘটল প্রথম বার। বিশ্বক্রিকেটে ৬৬ বছর পর। ইডেন টেস্টের চারটি ইনিংসের মধ্যে সর্বোচ্চ রান ওঠে ভারতের প্রথম ইনিংসে। শুভমন গিলেরা করেন ১৮৯ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা দু’ইনিংসে করে যথাক্রমে ১৫৯ এবং ১৫৩ রান। ইডেনের ২২ গজে ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়েছে ৯৩ রানে। অর্থাৎ ইডেন টেস্টের কোনও ইনিংসেই ২০০ রান হয়নি। ভারতের মাটিতে আয়োজিত টেস্ট ম্যাচে প্রথম বার এমন ঘটনা ঘটল। ভারতের খেলা টেস্টগুলিতেও কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চার ইনিংসের কোনওটিতেই ২০০ রান হয়নি, এমন ঘটনা ঘটল ১২ বার। শেষ বার এমন নজির তৈরি হয়েছিল ১৯৫৯ সালে ঢাকায়। পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ় টেস্টের কোনও ইনিংসেই কোনও দল ২০০ রান করতে পারেনি। ওই টেস্টের ৬৬ বছর পর ইডেনে এমন ঘটনা ঘটল। টেস্টে প্রথম বার এমন নজির তৈরি হয়েছিল ১৮৮২ সালে ওভালে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে। দ্বিতীয় বার এমন ঘটনা ঘটে ১৮৮৭ সালে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টেস্টে। তৃতীয় ঘটনাও ১৮৮৭ সালে এবং সিডনিতেই। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টেস্টের চার ইনিংসের একটিতেও ২০০ রান ওঠেনি। চতুর্থ ঘটনা ১৮৮৮ সালে। সেটাও সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টেস্টে। পঞ্চম বার এমন হয়েছিল ১৮৮৮ সালেই লর্ডসে, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে। ষষ্ঠ নজির ১৮৯৬ সালে ওভালে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে। সপ্তম নজির ১৯০৭ সালে লিডসে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টে। অষ্টম বার এমন হয়েছিল ১৯৫০ সালে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টেস্টে। নবম নজির ১৯৫৪ সালে ওভালে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্টে। দশম নজির তৈরি হয় ১৯৫৪ সালে গকেরবারতে দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড টেস্টে। মহিলাদের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয় ইস্টবেঙ্গলের, ইরানের বাম খাতুন এফসি-কে হারাল লাল-হলুদ। ভারতের খেলা টেস্টে এমন নজির প্রথম বার তৈরি হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে তৃতীয় বার। শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের খেলা ১০টি টেস্টের চার ইনিংসে ২০০ রান হয়নি। ১২টি নজিরের প্রথম ১০টির ক্ষেত্রেই একটি দল ছিল ইংল্যান্ড।

কলকাতা ছেড়ে বুধবার ভারতীয় দল রওনা দেবে গুয়াহাটির উদ্দেশে। তবে দলের সঙ্গে যাওয়া হচ্ছে না শুভমন গিলের। ভারত অধিনায়ককে থাকতে হবে কলকাতাতেই। শরীরের উন্নতি হলে তবেই গুয়াহাটি রওনা দিতে পারবেন। ভারতীয় দল ইতিমধ্যেই ডেকে পাঠিয়েছে নীতীশ কুমার রেড্ডিকে। মঙ্গলবার ইডেন গার্ডেন্সে ঐচ্ছিক অনুশীলন ভারতের। সেখানে শুভমনকে দেখতে না পাওয়ারই সম্ভাবনা। তবে দলের বেশির ভাগ সদস্যই অনুশীলন করবেন বলে জানা গিয়েছে। বোর্ডের এক সূত্র বলেছেন, “ওর ঘাড়ে তীব্র ব্যথা রয়েছে। এখনই শুভমনের চোটের ব্যাপারে বিস্তারিত বলার অনুমতি নেই আমাদের। একটানা নেক কলার পরে পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। আপাতত তিন-চার দিনের জন্য বিশ্রাম নিতে বলা হয়েছে শুভমনকে। এই পরিস্থিতিতে গুয়াহাটিতে যাওয়া ওর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে প্রতি দিন ওর শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা করছি আমরা। মঙ্গলবারের মধ্যে পুরো ছবিটা অনেক স্পষ্ট হয়ে যাবে।” বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছিল, শনিবার ঘুম থেকে ওঠার পরেই শুভমন ঘাড়ে ব্যথা অনুভব করেন। তার জন্য তিনি ব্যথা কমানোর ওষুধ খেয়েছিলেন। তাতেও লাভ হয়নি। ব্যাট করতে নামার আগেও তিনি ব্যথা কমানোর ওষুধ খেয়েছিলেন। নিজের তৃতীয় বলে সাইমন হারমারকে স্লগ সুইপ মারতে গিয়ে ঘাড়ে আবার ব্যথা শুরু হয়েছিল শুভমনের। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে চলে এসেছিলেন ফিজিয়ো। পরীক্ষা করার পর শুভমনকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মাত্র তিন বল ক্রিজ়ে ছিলেন শুভমন। সমস্যা এতটাই যে ঘাড় ঘোরাতেই পারছিলেন না শুভমন। মেরুদণ্ডেও সমস্যা রয়েছে বলে জানা গিয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর এমআরআই হয়েছিল শুভমনের। সেখানেও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। এক বছর আগে এমনই একটি চোট পেয়েছিলেন শুভমন। তখনও এমআরআই করানো হয়েছিল। তখনকার এবং এখনকার এমআরআই-এর ফলাফলের মধ্যে মিল রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ছাড়া হয়েছিল শুভমনকে। টিম হোটেলে ফিরে গিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে খবর, রবিবার হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই দলের হার দেখেছিলেন শুভমন। ভারত যে ভাবে ইডেন গার্ডেন্সে আড়াই দিনে টেস্ট হেরেছে তাতে মনমরা তিনি। শুভমন হয়তো ভাবছিলেন, তিনি থাকলে খেলার ফল অন্য হতে পারত। কারণ, দুই ইনিংসেই ১০ জনে ব্যাট করতে হয়েছে ভারতকে। সেই কারণে দলের হারে আরও কষ্ট হয়েছে অধিনায়কের। রবিবার খেলা শেষে উডল্যান্ডস হাসপাতালে শুভমনকে দেখতে গিয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলার ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি প্রথমে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে শুভমনের সঙ্গে ১০-১৫ মিনিট কথা হয় তাঁর। বাংলার ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে খবর, সৌরভকে শুভমন জানিয়েছেন, হাসপাতালে দমবন্ধ লাগছে তাঁর। এই কঠিন সময়ে দলের সঙ্গে থাকতে চান তিনি। তাই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles