Saturday, July 18, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আইএফএ বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী!‌ চ্যাম্পিয়ানদের পুরস্কার তুলে দিলেন লোথার ম্যাথিউজ

‘প্রতিপক্ষ অনেকেই। তবে কঠিনতম ম্যাথাউজই।’ জার্মানির প্রাক্তন অধিনায়ক সম্পর্কে এটাই ছিল দিয়েগো মারাদোনার বিশ্লেষণ। ঐতিহাসিক কলকাতা টাউন হলে সেই বিশ্ববরেন‍্য ফুটবলার বিশ্বকাপ জয়ী প্রাক্তন জার্মান অধিনায়ক লোথার ম্যাথুজ। কিংবদন্তি ফুটবলারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যমন্ডিত সংস্থা আইএফ-এর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রিমিয়ার ডিভিশনের সেরাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে, তিনি ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে বলেন। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়া ও যুব কল‍্যান মন্ত্রী মাননীয় অরূপ বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সেরা রেফারি, অনূর্ধ্ব তেরো, পনেরো, সতেরো ইউথ লীগসহ নার্সারি ডিভিশন, কন্যাশ্রী কাপ, পঞ্চম থেকে প্রিমিয়ার ডিভিশনের সকল চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স দলসমূহকে ও প্রতিটি বিভাগের সেরা কোচ, সবোর্চ্চ গোলদাতাদের পুরস্কৃত করা হয়।

বিভিন্ন ডিভিশনের জন্য ফেয়ার প্লে ট্রফি দেওয়া হয়। সদ্য সাব জুনিয়র জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলা দল, জুনিয়র জাতীয় ফুটবলে রানার্স ও সিনিয়র মহিলা জাতীয় ফুটবলে রানার্স বাংলা দলকে সংবর্ধিত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে ময়দান থেকে জেলা ফুটবলের বাংলার ফুটবল পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আইএফএ কর্মীদের তাঁদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, কার্তিক শেঠ, ভাস্কর গাঙ্গুলি, কম্পটন দত্ত, নাসির আহমেদ, রঞ্জিত মুখার্জী, দীপক মন্ডল, বিদেশ বসু, সুমিত মুখার্জী, সঞ্জয় মাঝি, দিপেন্দু বিশ্বাস, বিশ্বনাথ মন্ডল, মেহতাব হোসেন, ফাল্গুনী দত্ত, গৌতম ঘোষ সহ একঝাঁক প্রাক্তন ফুটবলার । অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইএফএ চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত ও অজিত বন্দোপাধ্যায়। সবাইকে স্বাগত জানান সচিব অনির্বাণ দত্ত।

মধ্যাহ্নভোজে পাতে লুচি, আলুপোস্ত, মিষ্টি দই, ধুতি-পাঞ্জাবি পরিয়ে ম্যাথাউজকে স্বাগত জানাল ফুটবলের মক্কা. ‘প্রতিপক্ষ অনেকেই। তবে কঠিনতম ম্যাথাউজই।’ জার্মানির প্রাক্তন অধিনায়ক সম্পর্কে এটাই ছিল দিয়েগো মারাদোনার বিশ্লেষণ। ফুটবল রাজপুত্রের মন্তব্যে পরিষ্কার, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে কতটা সমীহ করতেন ম্যাথাউজকে। ১৯৮৬ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাঁ পায়ের জাদুকরকে রোখার দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই দিয়েছিলেন কোচ বেকেনবাওয়ার। মেক্সিকোয় আর্জেন্তিনা জিতলেও ইতালিতে শেষ হাসি হাসেন লোথারই। রবিবার সকালে কলকাতায় পা রাখছেন ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ম্যাথাউজ। বেঙ্গল সুপার লিগের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর তিনিই। কিংবদন্তি জার্মান ফুটবলারকে স্বাগত জানাতে তৈরি সিটি অব জয়। সূত্রের খবর, বান্ধবী তেরেসাকে সঙ্গী করে শহরে আসছেন ম্যাথাউজ। ধুতি, পাঞ্জাবি, শাড়ি পরিয়ে সারপ্রাইজ। লাঞ্চে ম্যাথাউজের পাতে সাজিয়ে দেওয়া হল রকমারি বাঙালি খাবার।

মেনুতে লুচি, কষা মাংস, পোলাও, পাবনা মুরগী, নারকেল কুচি দেওয়া ছোলার ডাল, আলুপোস্ত, রসগোল্লা, মিষ্টি দইয়ের সম্ভার ম্যাথাউজের অপেক্ষায়। ঝটিকা সফরে কলকাতায় জার্মান লেজেন্ড। ঠাসা সূচিতে চষে বেড়ালেন গোটা শহর। অন্যতম আকর্ষণ ফুটবলের মাস্টারক্লাস। নামী স্কুল ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৫০ প্রতিভাবান ফুটবলারকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিলেন ম্যাথাউজ। লাঞ্চের পর কলকাতা পুলিশ ফ্রেন্ডশিপ কাপে হাজির।

বিকেলে ঐতিহাসিক টাউন হলে আইএফএ’র বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ম্যাথাউজ বাড়তি আকর্ষণ। আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্তের প্রচেষ্টায় গোটা অনুষ্ঠান অন্য মাত্রায় পৌঁছে গেছে। এরপর যুবভারতীতে বেটন কাপ হকির ফাইনালে অন্যতম অতিথি এই প্রাক্তন তারকা। হোটেলে ডিনারের পাশাপাশি নিলামের অনুষ্ঠান। বেঙ্গল সুপার লিগের সরকারি সূচনা তো থাকছেই। সোমবার ভোরে শহর ছাড়বেন লোথার ম্যাথাউজ। উল্লেখ্য, এর আগেও ফিফা ট্রফি ট্যুরের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছিলেন প্রাক্তন জার্মান অধিনায়ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles