ইডেন গার্ডেন্সের পিচ নিয়ে তুমুল বিতর্ক। খলনায়কের ভূমিকা নিয়েছে পিচ। ভারতের বোলিং মর্নি মর্কেল স্বীকার করলেন, ইডেনের পিচ খারাপ। মর্কেল বলেন, “সত্যি বলতে, এত তাড়াতাড়ি পিচ খারাপ হয়ে যাবে সেটা আমরা ভাবতে পারিনি। ম্যাচের আগের দিন, এমনকি ম্যাচের সকালেও আমরা ভেবেছিলাম পিচ ভাল। এমনকি প্রথম দু’ঘণ্টাতেও খারাপ কিছু মনে হয়নি। তাই পিচ দ্রুত খারাপ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে, যা অপ্রত্যাশিত। তবে উপমহাদেশে খেলার এটাই মজা। আপনাকে সব সময় মানিয়ে নিতে হবে এবং পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। আমাদেরও সমস্যা হয়েছে। তবে আমরা নিজেদের শক্তি অনুযায়ীই পিচ বানাতে চাই।” ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং বাইশ গজের চরিত্র দেখার পরে বিরক্ত হয়ে বলেই দেন, টেস্ট ক্রিকেটের প্রয়াণ ঘটেছে। ব্যাটারদের আসা এবং যাওয়া দেখে স্থির থাকতে পারেননি দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট ক্রিকেট প্রায় শেষই বলা যায়…টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কী প্রহসনটাই না চলছে… রিপটেস্টক্রিকেট।” অশ্বিন আবার খোঁচা দিয়েছেন প্রাক্তন অজি তারকা অ্যারন ফিঞ্চকে। অজি ক্রিকেটার লিখেছেন, কলকাতায় আমরা যে উইকেট দেখেছি, তা দেখে কী মনে হচ্ছে? ভারতের প্রাক্তন অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলেছেন, ”হাই ফিঞ্চি, বাভুমা তার রক্ষণাত্মক টেকনিক দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এই পিচে ব্যাট করা সম্ভব।’ প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ১৫৯ রান। ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ১৮৯ রানে। ভারত তিরিশ রানে এগিয়ে থাকে প্রথম ইনিংসে। প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় ইনিংসে ভাঙন ধরান রবীন্দ্র জাদেজা। তিনিই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটারদের সামনে মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে হাজির হন। দ্বিতীয় দিনের শেষে প্রোটিয়াদের রান ৭ উইকেটে ৯৩। দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৩ রানে এগিয়ে। ভক্তরা বলছেন, ইডেন গার্ডেন্সের পিচ লজ্জাজনক। ব্যাট আর বলের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা দারুণ, বোলার-বান্ধব পিচও ভাল। কিন্তু এই পিচ খুবই বিপজ্জনক, বিশেষ করে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বাউন্স একদমই ঠিক ছিল না।” আরেক ভক্ত লিখেছেন, ইডেনের পিচ ডিমেরিট পয়েন্ট পাবে। বিরাট সংখ্যক দর্শক মাঠে আসছেন। কিন্তু যা মনে হচ্ছে তৃতীয় দিনেই খেলা শেষ হয়ে যাবে। এক ভক্তের মতে, ইডেনের ইতিহাসে এটাই সব থেকে নিকৃষ্ট পিচ। সংশ্লিষ্ট ভক্তটি লিখেছেন, ”এই পিচে ১২০ রান তাড়া করাও শেষ ইনিংসে কঠিন হবে। বিশেষ করে গিল ছাড়া। দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্রুত ফেলে দিতে হবে যাতে ওরা ১০০ রানের নিচে লিড দিতে পারে।” হতশ্রী পিচ হতশ্রী ক্রিকেট উপহার দেয়। ইডেন গার্ডেন্সের কিউরেটরকে নিয়ে হতাশ। আরেকটু ভাল হতেই পারত পিচ। এমন কথাও লিখেছেন এক ভক্ত। প্রোটিয়াদের ইয়ানসেনের পেস ও হারমারের স্পিনে ভারত কুপোকাৎ হয়। ভারতীয় ইনিংসে লোকেশ রাহুল ৩৯ সর্বোচ্চ রান করেন। পেস ও স্পিনের সঙ্গে সন্ধি করতে না পেরে ভারতের প্রথম ইনিংস দ্রুত শেষ হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসের গোড়া থেকেই উইকেট পড়তে থাকে। দিনের শেষে অক্ষর প্যাটেল বলে গেলেন, এই উইকেটে রক্ষণাত্মক নীতি চলবে না। মানসিক দিক থেকে আক্রমণাত্মক হতে হবে। আক্রমণই সেরা নীতি হওয়া উচিত। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হল ১৫৩ রানে। একা লড়লেন প্রোটিয়া অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। এক ওভারে দুটো উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ করেন মহম্মদ সিরাজ। রবীন্দ্র জাদেজার চার উইকেটের পাশাপাশি কুলদীপ যাদব ও মহম্মদ সিরাজ নেন ২টি করে উইকেট। বুমরাহ ও অক্ষর প্যাটেল নেন একটি করে উইকেট। ইডেনের পিচ নিয়ে চলছে চর্চা। চলছে বিতর্ক। কিন্তু প্রোটিয়া অধিনায়ক দেখিয়ে দিলেন, পিচকে বশ মানানো সম্ভব। দরকার দক্ষতা। দরকার সঠিক রক্ষণাত্মক রণনীতি। ভারতীয় বোলাররা সবাইকে ফেরালেও বাভুমাকে আউট করতে পারেননি। তিনি শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানে অপরাজিত থেকে যান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে জানসেনের বলে ভেরেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে শূণ্য রানেআউট যশস্বী। রান হওয়ার আগেই উইকেট হারাল ভারত। জানসেনের বলে ভেরেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট রাহুলও ১ রানে। ইডেন টেস্টে আর খেলতে পারবেন না শুভমন। ফলে এক জন কম ব্যাটার নিয়ে রান তাড়া করতে হয় ভারতকে। হারমারের বলে বড় শট নিয়ে গিয়ে আউট জুরেল ১৩ রানে। ক্যাচ দিলেন বসের হাতে। হারমারের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে আউট পন্থও ২ রান করে। তৃতীয় উইকেট হারমারের। এলবিডব্লিউ জাডেজা ১৮ রানে। মার্করামের বলে হারমারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট ওয়াশিংটন ৩১ রানে। কুলদীপকে ১ রানে এলবিডব্লিউ করলেন হারমার। কেশব মহারাজের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট অক্ষর ২৬ রানে। দুরন্ত ক্যাচ ধরলেন বাভুমা।




