ইডেন গার্ডেন্স টেস্টে নেই ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল। রবিবার জানিয়ে দিল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। ওয়াশিংটন সুন্দর আউট হওয়ার পর ৩৫তম ওভারে নেমে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইনিংসের সূচনা করেছিলেন তিনি। সাইমন হার্মারের বলে দারুণ এক বাউন্ডারিতে ইনিংস শুরু করেন, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই চোটের কারণে তাকে মাঠ ত্যাগ করতে হয়। রবিবার সকালে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের তরফ থেকে জানানো হয়, ”দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চলতি ইডেন টেস্টে অধিনায়ক শুভমন গিল ঘাড়ে চোট পান। দ্বিতীয় দিনের খেলার শেষে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই টেস্ট ম্যাচে তাঁকে আর খেলতে দেখা যাবে না। বিসিসিআই-এর মেডিক্যাল টিম গিলকে পর্যবেক্ষণে রাখবে।” শনিবার সাইমন হার্মারের বলে দারুণ এক বাউন্ডারিতে ইনিংস শুরু করেন গিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই চোটের কারণে তাঁকে মাঠ ত্যাগ করতে হয়। গিলের চোট প্রসঙ্গে মেডিক্যাল বুলেটিন আগেই জারি করেছিল বিসিসিআই। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের আপডেট অনুযায়ী, গিলের ঘাড়ে ‘নেক স্প্যাজম’ ধরা পড়ে। দ্বিতীয় দিনের শেষে মাঠ থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় গিলকে তাঁর ঘাড়ের পরীক্ষার জন্য। বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘’শুভমন গিলের নেক স্প্যাজম হয়েছে এবং তাঁকে বিসিসিআই মেডিক্যাল টিম পর্যবেক্ষণে রাখছে। আজকে তিনি খেলতে পারবেন কি না, তা তার চিকিৎসার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।’’ হার্মারের প্রথম দুটি বল সহজেই খেলে নেওয়ার পর স্কোয়ার লেগের ওপর দিয়ে সুইপ করে আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেন গিল। ঠিক সেই শটের পর ফলো-থ্রুতে ঘাড়ে অস্বস্তি অনুভব করতে দেখা যায় তাঁকে। সঙ্গে সঙ্গে হেলমেট খুলে তিনি ঘাড় চেপে ধরেন। দ্রুতই ফিজিও মাঠে ছুটে আসেন। কিছুক্ষণ পরীক্ষার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গিল যখন অবসৃত হন, তখন তাঁর রান ছিল ৪। গিলকে ঝকঝকে দেখাচ্ছিল। ৩ বলের মধ্যে একটি ভাল বাউন্ডারিও মারেন। কিন্তু তারপরই ঘাড়ের কাছে ব্যথা অনুভব করেন ভারত অধিনায়ক। শেষমেশ ওই ব্যথা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। দিনের শেষে চোটের পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য যেতে হয় হাসপাতালে। রাতের খবর তাঁকে পর্যবেক্ষণ এবং সতর্কতার জন্য আইসিইউ-তে রাখা হয়। রবিবার সকালে বোর্ডের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ইডেন টেস্ট থেকে ছিটকে গিয়েছেন ভারত অধিনায়ক। দ্বিতীয় টেস্টেও অনিশ্চিত হয়ে পড়েন শুভমন গিল।

মহম্মদ সিরাজের বলে এলবিডব্লিউ মহারাজ ০। বাভুমা ৫৫ রানে অপরাজিত। ১৫৩ রানে শেষ দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংস। ভারতের জয়ের লক্ষ্য ১২৪। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ ১৫৩ রানে। একা লড়লেন প্রোটিয়া অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। ইডেন গার্ডেন্সে জয়ের জন্য ভারতকে করতে হবে ১২৪ রান। এক ওভারে দুটো উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ করেন মহম্মদ সিরাজ। রবীন্দ্র জাদেজার চার উইকেটের পাশাপাশি কুলদীপ যাদব ও মহম্মদ সিরাজ নেন ২টি করে উইকেট। বুমরাহ ও অক্ষর প্যাটেল নেন একটি করে উইকেট। ইডেনের পিচ নিয়ে চলছে চর্চা। চলছে বিতর্ক। কিন্তু প্রোটিয়া অধিনায়ক দেখিয়ে দিলেন, পিচকে বশ মানানো সম্ভব। দরকার দক্ষতা। দরকার সঠিক রক্ষণাত্মক রণনীতি। ভারতীয় বোলাররা সবাইকে ফেরালেও বাভুমাকে আউট করতে পারেননি। তিনি শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানে অপরাজিত থেকে যান। দ্বিতীয় দিনের শেষে প্রোটিয়াদের রান ছিল ৭ উইকেটে ৯৩। দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়েছিল ৬৩ রানে। রবি-সকালে আরও ৬০ রান জোড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। কর্বিন বশকে ২৫ সঙ্গে নিয়ে বাভুমা প্রতিরোধ গড়ে তুলছিলেন। ভারতীয়রা উইকেট তুলতে মরিয়া ছিলেন। কর্বিন বশকে বোল্ড করে বুমরাহ প্রথম আঘাত হানেন। স্কোরবোর্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার রান তখন ১৩৫। প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ দু’টি উইকেট তুলে নেন সিরাজ।

ভারতে এসে চিরকালই দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যর্থ হয়েছে। এবারও কি সেটাই হতে চলেছে? তবে রান তাড়া করতে নেমে ভারতকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ অধিনায়ককে ছাড়াই খেলতে হবে ভারতকে। ইডেন গার্ডেন্স টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন গিল। রবিবার জানিয়ে দিল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। শনিবার সকালে ব্যাট করতে নেমে কিছুক্ষণ পরই রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন অধিনায়ক শুভমন গিল। ওয়াশিংটন সুন্দর আউট হওয়ার পর ৩৫তম ওভারে নেমে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইনিংসের সূচনা করেছিলেন তিনি। সাইমন হার্মারের বলে দারুণ এক বাউন্ডারিতে ইনিংস শুরু করেন, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই চোটের কারণে তাকে মাঠ ত্যাগ করতে হয়। রবি সকালে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের তরফ থেকে জানানো হয়, ”দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চলতি ইডেন টেস্টে অধিনায়ক শুভমন গিল ঘাড়ে চোট পান। দ্বিতীয় দিনের খেলার শেষে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই টেস্ট ম্যাচে তাঁকে আর খেলতে দেখা যাবে না। বিসিসিআই-এর মেডিক্যাল টিম গিলকে পর্যবেক্ষণে রাখবে।”

ইডেন গার্ডেন্সের পিচ নিয়ে তুমুল বিতর্ক। দু দিনে উইকেট পড়ল ২৬টি। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং বাইশ গজের চরিত্র দেখার পরে বিরক্ত। বলেই দেন, টেস্ট ক্রিকেটের প্রয়াণ ঘটেছে। প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ১৫৯ রান। ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ১৮৯ রানে। ভারত তিরিশ রানে এগিয়ে থাকে প্রথম ইনিংসে। প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় ইনিংসে ভাঙন ধরান রবীন্দ্র জাদেজা। তিনিই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটারদের সামনে মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে হাজির হন। দ্বিতীয় দিনের শেষে প্রোটিয়াদের রান ৭ উইকেটে ৯৩। দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৩ রানে এগিয়ে। ভক্তরা বলছেন, ইডেন গার্ডেন্সের পিচ লজ্জাজনক। ব্যাট আর বলের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা দারুণ, বোলার-বান্ধব পিচও ভাল। কিন্তু এই পিচ খুবই বিপজ্জনক, বিশেষ করে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বাউন্স একদমই ঠিক ছিল না।” আরেক ভক্ত লিখেছেন, ইডেনের পিচ ডিমেরিট পয়েন্ট পাবে। বিরাট সংখ্যক দর্শক মাঠে আসছেন। কিন্তু যা মনে হচ্ছে তৃতীয় দিনেই খেলা শেষ হয়ে যাবে।

এক ভক্তের মতে, ইডেনের ইতিহাসে এটাই সব থেকে নিকৃষ্ট পিচ। সংশ্লিষ্ট ভক্তটি লিখেছেন, ”এই পিচে ১২০ রান তাড়া করাও শেষ ইনিংসে কঠিন হবে। বিশেষ করে গিল ছাড়া। দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্রুত ফেলে দিতে হবে যাতে ওরা ১০০ রানের নিচে লিড দিতে পারে।” হতশ্রী পিচ হতশ্রী ক্রিকেট উপহার দেয়। ইডেন গার্ডেন্সের কিউরেটরকে নিয়ে হতাশ। আরেকটু ভাল হতেই পারত পিচ। এমন কথাও লিখেছেন এক ভক্ত। প্রোটিয়াদের ইয়ানসেনের পেস ও হারমারের স্পিনে ভারত কুপোকাৎ হয়। ভারতীয় ইনিংসে লোকেশ রাহুল ৩৯ সর্বোচ্চ রান করেন। পেস ও স্পিনের সঙ্গে সন্ধি করতে না পেরে ভারতের প্রথম ইনিংস দ্রুত শেষ হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসের গোড়া থেকেই উইকেট পড়তে থাকে। দিনের শেষে অক্ষর প্যাটেল বলে গেলেন, এই উইকেটে রক্ষণাত্মক নীতি চলবে না। মানসিক দিক থেকে আক্রমণাত্মক হতে হবে। আক্রমণই সেরা নীতি হওয়া উচিত। প্রোটিয়াদের ১২৫ রানের মধ্যে থামিয়ে ভারত প্রথম টেস্ট জিতে নিতে চাইবে।




