কেঁদে হালকা হওয়া! এই বাক্যের সঙ্গেও আমরা প্রত্যেকেই কম-বেশি পরিচিত। তাই মুম্বই শহরে ডাক ছেড়ে কান্নার একটি ঠিকানা হয়েছে। জীবনের ব্যস্ততম রাস্তাঘাট, দৌড়ঝাঁপ আর নিরন্তর প্রতিযোগিতার ভিড়ের মধ্যেও প্রশান্তির টুকরো ঠিকানা। শুনতে যতই অদ্ভুত লাগুক, আসলে এ এক গভীর মানবিক প্রয়াস। কারণ, মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কান্না শুধু আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং মানসিক ভারসাম্য রক্ষারও একটি কার্যকর উপায়। জাপানিরা বিশ্বাস করে, কান্না মানসিক চাপ কমাতে এবং আবেগের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ‘রুইকাতসু’ বা ‘টিয়ার-সিকিং থেরাপি’ সেই দেশে জনপ্রিয়। তার থেকেই এই ক্লাবের উদ্যোক্তারা অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। আসলে, আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন মানুষের কাছে আবেগ প্রকাশকে দুর্বলতা বলে মনে করা হয়। অফিসে প্রতিযোগিতা, সংসারে অশান্তি, সম্পর্কের অনিশ্চয়তা কিংবা ব্যক্তিগত সংগ্রাম– সবকিছুর চাপ জমে যায় মনের ভিতর। সমাজের চোখরাঙানি, আত্মসম্মানের ভয় বা লজ্জার কারণে মানুষ প্রায়শই কান্নাকে দমন করে রাখে। অথচ মনোবিজ্ঞানীরা বারবার বলেছেন, কান্না এক ধরনের প্রাকৃতিক থেরাপি। যা স্ট্রেস হরমোন কমায়, শরীর ও মনের উপর থেকে চাপ হালকা করে। মুম্বইয়ের ক্রাইং ক্লাব সেই চাপ মুক্তির একটি স্বাভাবিক, সুন্দর পরিসর করে দিয়েছে, যেখানে কান্না আর কোনও ‘লজ্জার বিষয়’ নয়, বরং মানুষের সহমর্মিতা ভাগ করে নেওয়ার একটি সেতুবন্ধন। কয়েকজন অচেনা মানুষ একসঙ্গে বসে চোখের জল ফেলছে, কিন্তু সেই অশ্রুতেই তৈরি হচ্ছে অদৃশ্য বন্ধন। কান্না এক ধরনের প্রাকৃতিক থেরাপি। বলছেন মনোবিজ্ঞানীরা। মুম্বইয়ের ‘ক্রাইং ক্লাব’ সেই চাপ মুক্তির একটি স্বাভাবিক, সুন্দর পরিসর দিয়েছে। লর্ড আলফ্রেড টেনিসনের ‘হোম দে ব্রট হার ওয়ারিয়র ডেড’ কবিতাটি অনেকেরই পড়া। এই কবিতার মধ্য দিয়ে টেনিসন মানুষের আবেগ প্রকাশের গভীরতা দেখিয়েছেন। কান্না সবসময় সহজে আসে না, অনেক সময় শোক তীব্র হলে মানুষ পাথর হয়ে যায়, অনুভূতিগুলি স্তব্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে শহিদ সেনার শোকে পাথর হয়ে যাওয়া বিধবা স্ত্রী শেষে কঁাদলেন। সে-কান্না দুর্বলতা নয়, বরং গভীর মানবিকতার প্রকাশ। আমরা যতই প্রযুক্তিনির্ভর হই না কেন, আসল সত্যটি হল, মানুষের গভীরতম প্রয়োজন মানুষেরই সঙ্গ। একাকিত্ব ভর করার এই সময়ে ‘ক্রাইং ক্লাব’ সেই শূন্যতাকে কিছুটা হলেও পূরণ করছে। হালের শহুরে বাস্তবতায় এই ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। যেমন নতুন ক্যাফে, ফিটনেস সেন্টার বা মল আমাদের আধুনিক জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে, তেমনই হয়তো একদিন কান্নার এই বিশেষ ক্লাবও সাধারণ জীবনের স্বাভাবিক অংশে পরিণত হবে। কারণ কান্না দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি, যা মানুষকে ভিতর থেকে শুদ্ধ করে, নতুন করে বঁাচার শক্তি দেয়। মুম্বইয়ের এই নতুন প্রবণতা নিঃসন্দেহে যুগোপযোগী, প্রয়োজনীয় এবং তাৎপর্যপূর্ণ। ক্রাইং ক্লাব দেখিয়ে দিল, অশ্রু লুকিয়ে রাখার নয়, বরং তা-ই হতে পারে মুক্তির রাস্তা। যদি এই ধারণা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তবে হয়তো আমরা আরও সুস্থ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সহমর্মী সমাজের দিকে এগিয়ে যেতে পারব। আ মরি কান্নাভাষা!
পুজোর সময় প্রাণভরে পেটপুজোয় বাড়তে পারে কোলেস্টেরল! পুজো এবার কড়া নাড়তে শুরু করেছে দরজায়। আর পুজো আসা মানেই ভূরিভোজ মাস্ট! ফলে শরীরের দফা রফা হওয়ার আশঙ্কাও সরিয়ে রাখা যায় না। অনিয়মে বাড়তে পারে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা। একে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকেই মেনে চলুন এই নিয়ম। তাহলে পুজোয় দিব্যি সুস্থ থাকবেন আপনি। আসলে যেকোনও বয়সেই কোলেস্টেরল বেড়ে যেতে পারে। এমনকী কম বয়সে নিয়ম মেনে না চললেও রক্তে বাড়তে পারে কোলেস্টেরল। নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব, অত্যধিক হারে বাইরের খাবার খাওয়া, তেল-মশলা ও চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার প্রতি ঝোঁক থাকলে কোলেস্টেরল বাড়তে পারে। কোলেস্টেরল ধরা পড়লে প্রথম থেকে সাবধান হওয়া জরুরি। রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, বিশেষ করে খারাপ কোলেস্টেরল ধমনীর দেয়ালে জমা হয়ে প্লেক তৈরি করে। এই প্লেকগুলি ধীরে ধীরে ধমনীকে সরু করে দেয়। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই আগেভাগে সাবধান হওয়া প্রয়োজন। কোলেস্টেরল বাড়লে দিনে এক ঘন্টা শরীরচর্চা করতেই হবে। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে কোলেস্টেরল বশে আনা বেশ মুশকিল। জিমে যাওয়ার দরকার নেই। বাড়িতেই করুন নির্দিষ্ট কিছু যোগ ব্যায়াম। সর্বাঙ্গাসন, ধনুরাসন, ত্রিকোণাসন বেশ উপকারী। এছাড়া হাঁটাহাঁটি, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো প্রভৃতিতেও বেশ কাজ দেয়। কোলেস্টেরল বাড়লে চর্বিযুক্ত খাবার, বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এই ধরনের ফ্যাটযুক্ত খাবার খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই চর্বিজাতীয় খাবার থেকে সবসময় নিজেকে দূরে রাখুন। খাসির মাংস, বার্গার, পেস্ট্রি, পাম তেল, কুকিজ প্রভৃতি এড়িয়ে চলুন। ফাইবার দুই ধরনের হয়ে থাকে। দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয়। এর মধ্যে দ্রবণীয় ফাইবার কোলেস্টেরল কমাতে বেশি সহায়ক। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, বিশেষ করে দ্রবণীয় ফাইবার শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। ওটস, বার্লি, আপেল, কমলালেবু, ফুলকপি, বাঁধাকপি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। গ্রিন টি কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ক্যাটাচিন, শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরের মোট কোলেস্টেরল এবং এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে। গ্রিন টি ছাড়াও ওট ড্রিংকস, সয়া ড্রিংকস এবং প্ল্যান্ট মিল্ক স্মুদি কোলেস্টেরল কমাতে বিশেষ সহায়ক। ঈষদুষ্ণ জলে লেবু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে পান করুন। এতে উপকার পাবেন। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি এবং ফ্ল্যাভোনয়েড যৌগ খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এই পানীয় দিয়ে দিন শুরু করলে শুধু কোলেস্টেরল নয়, আরও অনেক রোগের ঝুঁকি কমবে।
অন্ত্রের সমস্যার কারণ হতে পারে মানসিকও। কিছু খেলেই গ্যাস-অম্বলে ভোগেন! দিনভর বুক জ্বালা, পেট ব্যথার সমস্যা চলতেই থাকে? বাজার চলতি গ্যাসের ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, সুরাহা কিছুতেই হয় না। নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও একই হাল? তাহলে জেনে রাখা প্রয়োজন, আপনার পেটের সমস্যার মূলে রয়েছে দিনভর দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ। আজ্ঞে হ্যাঁ, অন্ত্রের স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হওয়ার মূলে রয়েছে আপনার মানসিক অবস্থা। এমনই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা। মেজাজের উপরই নির্ভর করে আপনার হজমের স্বাস্থ্য। কর্পোরেট লাইফ, অত্যাধিক ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা প্রভৃতি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে ব্যহত করে। ধীর বা ত্বরান্বিত করে হজম প্রক্রিয়াকে। এমনকী প্রভাবিত করতে পারে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের মতো অবস্থাকেও।Stress weakens gut health, find relief in these four ways হার্ভাড হেলথ পাবলিশিং-এর একটি তথ্য মতে, উদ্বেগ, চাপ বা উত্তেজনার মতো আবেগগুলি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। এমনকী এনআইএইচ-এ প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, অত্যাধিক মানসিক চাপ অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে তোলে। পেটের উপকারী জীবাণু হ্রাস করে। পরিবর্তে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বমি ভাব, পেট ব্যথা, বদহজম, গ্যাস-অম্বল লেগেই থাকে। উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা কিংবা যেকোনও মানসিক চাপ থেকে বেরোনোর চেষ্টা করুন। অযথা উত্তেজিত হয়ে উঠবেন না। প্রতিদিন আধ ঘন্টা করে যোগব্যায়াম করুন। খাওয়ার পর ৫ মিনিট বজ্রাসনে বসে থাকুন। নিয়মিত ও দীর্ঘ অভ্যাসে সুফল পাবেন। সঙ্গে অন্যান্য সমস্যাও ধীরে ধীরে দূর হবে। ফাস্ট ফুড খাওয়া বন্ধ করুন। মশলাদার ও ভাজাভুজি থেকে দূরে থাকুন। বেশি করে ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে বদহজমের সমস্যা কমবে। পেটের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই তামার পাত্রে ভেজানো জল পান করুন। এতে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা চিরতরে মিটবে। এছাড়াও দৈনিক ৩ লিটার জল প্রতিদিন পান করুন। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখবে। প্রতিদিন সকালে ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করুন। যোগব্যায়ামের পাশাপাশি প্রাণায়াম করুন। সময়ের অভাব হলে অন্তত ১৫ মিনিট অনুলোম-বিলোম, কপালভাতি বা যেকোনও সহজ প্রাণায়াম অভ্যাস করতে পারেন। এতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। ধীরে ধীরে হজম প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।




