ভারতীয় ক্রিকেটারদের লড়াই করে হার। আফসোস শচীন তেণ্ডুলকর ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। ঘুরিয়ে প্রশ্নও তুলছেন সৌরভ। সেই লর্ডস, যেখানে ২৩ বছর আগে তিনি জার্সি খুলে উড়িয়েছিলেন। যা আজও ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে গর্বের। সেটা ঘটেছিল ২০০২ সালের ১৩ জুলাই। এই টেস্ট চলাকালীনই সেই ঘটনার বর্ষপূর্তি হয়েছে। অথচ। ২২ রানের জন্য লর্ডস টেস্ট হার। সৌরভ একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিলেন। সৌরভ লিখেছেন, ‘কী অসাধারণ একটা টেস্ট ম্যাচ। কিন্তু লর্ডস থেকে হতাশ হয়েই ফিরল ভারত। তিনটে টেস্টেই ভারতীয় দল ভালো খেলেছে। কিন্তু এখন ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে। এই টেস্টটা ভারত জিততে পারত। জাদেজা লড়াই করে দেখিয়ে দিয়েছে ১৯৩ রানের লক্ষ্য একেবারেই বড় ছিল না।’ লর্ডসে শেষ ইনিংসের চাপ ভালোমতোই টের পেল ভারত। শুভমান গিল থেকে ঋষভ পন্থ, সকলেই ব্যর্থ। দুরবস্থায় করুণ নায়ার আর সুযোগ পাবেন না। অস্ট্রেলিয়া সফরে একটা সেঞ্চুরির পর নীতীশ কুমার রেড্ডিও রানের মুখ দেখেননি। শুধু জাদেজা নন, বুমরাহ-সিরাজরা পর্যন্ত যেভাবে আর্চারদের সামলালেন, তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট পিচে ভয়ের কোনও কারণ। ব্যাটিং যেভাবে ব্যর্থ হল, কোচ গৌতম গম্ভীরের সামনে এখন অনেক প্রশ্ন। টিম ইন্ডিয়ার শেষের দিকে জশপ্রীত বুমরাহ ও মহম্মদ সিরাজকে সঙ্গে নিয়ে রবীন্দ্র জাদেজার লড়াই। শেষরক্ষা হল না। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় ভারতই নিয়ন্ত্রণ করেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডকে মাত্র ১৯২ রানে আটকে ফেলেছিল। তারপরও কাঙ্ক্ষিত জয় এল না। সেখানে ব্যাটিং বিপর্যয়ে হতাশার হারের সম্মুখীন হল ভারত। শচীন এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘এত কাছে এসেও এত দূরে! জাদেজা, বুমরাহ ও সিরাজ শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। টিম ইন্ডিয়া, ভালো চেষ্টা করেছ। চাপের মুখে ইংল্যান্ড দল ভালো খেলেছে। যে ফলটা আশা করেছিল, সেটা ছিনিয়ে নিতে পেরেছে। লড়াকু জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই।’

জোফ্রা আর্চারের দুর্দান্ত স্পেলের নেপথ্যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই জার্সি ওড়ানোর মুহূর্ত? পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ এগিয়ে গিয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের মোড় ঘোড়ানো স্পেল করেছেন জোফ্রা আর্চার। যা ভুলছেন না ইংল্যান্ড ক্রিকেট প্রেমীরা। মাত্র ১৯২ রানের পুঁজি নিয়ে টেস্ট জেতা সহজ নয়। ভারতীয় দলের কাছে জেতা ম্যাচ ছিল। চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং সহজ নয়। তবে ধৈর্য ধরে ক্রিজে থাকতে পারলে যে রান করা যায়, অনেকেই করে দেখিয়েছেন। শেষ দিকে রবীন্দ্র জাডেজা দুই লোয়ার অর্ডার ব্যাটারকে নিয়ে অনবদ্য লড়াই করলেও ২২ রানে হার। ভারত হারলেও শেষ দিকে লড়াইটা খুবই নজর কেড়েছে। ২০১৯ সালে একই দিনে ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। ম্যাচ টাই হওয়ায় সুপার ওভারে গড়িয়েছিল। সুপার ওভারেও স্কোর সমান হয়। বাউন্ডারি নিয়মে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। সেই লর্ডসেই রুদ্ধশ্বাস টেস্ট জিতে ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেন বেন স্টোকস জানালেন জোফ্রা আর্চারকে তাতিয়েছিল সৌরভের জার্সি ওড়ানোর সেই ছবি। লর্ডসে জয়ের পর বেন স্টোকস বলেন, ‘জোফ্রাকে বলেছিলাম-জানো আজকের দিনে কী হয়েছিল।’ আসলে ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জয়ের সেই মুহূর্ত মনে করিয়ে তাতাতে চেয়েছিলেন বেন স্টোকস। যদিও জোফ্রা পাল্টা বলেন, ‘তুমি জানো, বারবার একটা হাইলাইট দেখানো হচ্ছিল, ভারত ৩০০-র উপর রান তাড়া করে জিতেছে, আর গাঙ্গুলি (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) জার্সি খুলে ওড়াচ্ছে।’ আর্চার প্রথমে ভেবেছিলেন, সেটি ছ-বছর আগের বিশ্বকাপ ফাইনালের হাইলাইটস। সৌরভের জার্সি ওড়ানোর ছবি আর্চারকে বাড়তি তাগিদ জুগিয়েছিল, স্পষ্ট করেন স্টোকস।

মঙ্গলবার ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করলেন ভারতীয় দলের ক্রিকেটারেরা। ছিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর-সহ সব সাপোর্ট স্টাফেরাও। শুভমন, জসপ্রীত বুমরাহ, লোকেশ রাহুল, ঋষভ পন্থদের আগেই সেন্ট জেমস প্যালেসে পৌঁছে গিয়েছিল ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। লর্ডসে শুভমনদের লড়াইয়ের প্রশংসা করেন রাজা তৃতীয় চার্লস। সিরাজের দুর্ভাগ্যজনক আউটের কথাও শোনা গিয়েছে রাজার মুখে। হরমনপ্রীত, স্মৃতি মন্ধানাদের টি-টোয়েন্টি সিরিজ় জয়ের জন্য অভিনন্দন জানান রাজা। ব্রিটেনের রাজার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ভারতীয় দলের ক্রিকেটারেরা। অধিনায়ক শুভমন বলেন, ‘‘রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা দুর্দান্ত। অত্যন্ত উদার্য্য এবং সহৃদয়তার সঙ্গে তিনি আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমাদের সঙ্গে বেশ কিছু ক্ষণ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, লর্ডসে আমাদের শেষ ব্যাটার যে ভাবে আউট হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা বলেছি, ম্যাচের ফল যে কোনও দলের পক্ষেই যেতে পারত। ফলাফলটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের। আশা করি, বাকি দু’টি টেস্টে আমরা আরও ভাল খেলব।’’ রাজার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে খুশি মহিলা দলের ক্রিকেটারেরাও। ভারতের দুই দলের সব সদস্যদের সঙ্গে সেন্ট জেমস প্যালেসে গিয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকিয়া এবং সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা।

সিনেপর্দায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বর্ণময় ক্রিকেট কেরিয়ার থেকে ব্যক্তিগতজীবন। দর্শকদের কৌতূহল, উৎকণ্ঠার অন্ত নেই। পর্দায় প্রিন্স অফ ক্যালকাটার ভূমিকায় ‘দাদাগিরি’ দেখাবেন রাজকুমার রাও। আদা-জল খেয়ে ময়দানে নেমে পড়েছেন বলিপর্দার ‘মালিক’। প্রস্তুতিতেও সন্তুষ্ট নন! মহারাজের চরিত্র থেকে তাঁর ফিল্ড স্ট্র্যাটেজি আত্মস্থ করতে আরও সময়ের প্রয়োজন রাজকুমার রাওয়ের। আর সেই জন্যই বায়োপিকের শুটিং পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেতা। আসলে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনকাহিনি পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে কোনওরকম খামতি রাখতে চাইছেন না নির্মাতারা। আর সেই প্রেক্ষিতেই নিত্যদিন মাঠে ঘাম ঝরানোর পাশাপাশি হরেক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বলিউড অভিনেতাকে। সম্প্রতি রাজকুমার রাও নিজেই এক বলিউড সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “আসলে দাদার জীবনী পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে সকলেই ভীষণ তটস্থ। খুব যত্ন নিয়ে সিনেমাটা তৈরি করতে চাইছি আমরা। তাই প্রস্তুতির জন্য আমাদের আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। সেই জন্যই শুটিং পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে পরের বছর। কারণ ভারতীয় ক্রিকেটদুনিয়ার এহেন আইকনের চরিত্রে অভিনয় করা একটা বড় দায়িত্ব।” রাজকুমারের সংযোজন, “আমি ক্রিকেট খেলতে পারি। কিন্তু দাদার মতো বাঁ-হাতি ব্যাটার নই। আমি ডান হাতেই ব্যাট করতে অভ্যস্ত। সেটা রপ্ত করতেই আমার সময় লাগবে একটু।” কথা ছিল, চলতি জুলাই মাসেই সৌরভের বায়োপিকের শুটিং শুরু হবে। কিন্তু অভিনেতার কড়া হোমওয়ার্কের জন্যই যে শুটিং শিডিউল পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট। অভিনেতা জানিয়েছেন, “দাদার সঙ্গে এখনও আমার দেখা হয়নি। পুরোপুরি প্রস্তুতি নেওয়ার পরই ওঁর মুখোমুখি হতে চাইছি।” প্রসঙ্গত, এই বায়োপিকে অভিনয় করার জন্য তিনি যে নার্ভাস, সেকথা আগেই জানিয়েছিলেন রাজকুমার রাও। এদিকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের চরিত্র আত্মস্থ করার জন্য বাংলা বলাও শিখে ফেলেছেন অভিনেতা। তবে রাজকুমারকে মহারাজের ভূমিকায় দেখার জন্য আরেকটু ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ বায়োপিকের শুটিং শুরু হবে ২০২৬ সালে।
অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। সূচি জানিয়ে দিলেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থার কর্তারা। অলিম্পিকে একবারই মাত্র ক্রিকেট হয়েছিল ১৯০০ সালে। মাত্র দুটো টিম গ্রেট ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের একটি ম্যাচ হয়েছিল। গ্রেট ব্রিটেন সোনা জিতেছিল। পরবর্তী অলিম্পিক অর্থাৎ ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে ৬টি করে দল অংশ নেবে। অলিম্পিকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা হবে। লিগ পর্বের ম্যাচ হবে ২০২৮ সালের ১২ জুলাই। পদকের ম্যাচ ২০ ও ২৯ জুলাই। ক্রিকেটের ম্যাচগুলি হবে লস অ্যাঞ্জেলস থেকে ৫০কিমি দূরে পামোনায়। সেখানে অস্থায়ী স্টেডিয়াম তৈরি করে খেলা হবে। পুরুষ ও মহিলা উভয় ক্রিকেট দলই খেলবে। ৬টি করে অর্থাৎ ১২টি দল। প্রত্যেক টিমে ১৫ জন করে রাখা যাবে। পুরুষ ও মহিলা বিভাগ মিলিয়ে ১৮০ জন ক্রিকেটার থাকবেন অলিম্পিকে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী খেলাগুলি হবে সকাল ৯টা এবং সন্ধে ৬.৩০ থেকে। পদকের ম্যাচও হবে একই সময়ে। অলিম্পিকে কোন ছটি দেশ ক্রিকেটে অংশ নেবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ক্রমতালিকা অনুযায়ী ধরলে ভারতের খেলা নিশ্চিত। আর সেক্ষেত্রে একটা সম্ভাবনার কথাও মনে পড়ছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানিয়েছিলেন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, রবীন্দ্র জাডেজা। অলিম্পিকে ক্রিকেট ফেরার ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে বিরাট কোহলির। তিনিও অবসরের পর জানিয়েছিলেন, ভারত যদি অলিম্পিকে পদকের ম্যাচে ওঠে, অবসর ভেঙে ফিরতে পারেন। বিরাট কোহলি কি ফিরবেন?




