Saturday, July 18, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

এভাবেও হেরে যাওয়া যায়? তীরে এসেও তরী ডুবল ভারতের! আর্চারদের আক্রমণে শুভমান গিলের দলের ব্যাটিং বিপর্যয় লর্ডসে

প্রথম ইনিংস
ইংল্যান্ড ৩৮৭ (রুট ১০৪, বুমরাহ ৫/৭৪)
ভারত ৩৮৭ (রাহুল ১০০, ওকস ৩/ ৮৪)

দ্বিতীয় ইনিংস
ইংল্য়ান্ড ১৯২ (রুট ৪০, ওয়াশিংটন ৪/২২)
ভারত ১৭০ (রাহুল ৬১, আর্চার ৫৫/৩)
ভারত হারে ২২ রানে।
সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে ভারত।

লর্ডসে তৃতীয় টেস্টের শেষ ইনিংসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিততে ভারতের দরকার ছিল ১৯৩ রান। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ২২ রানে হারল ভারত। জোফ্রা আর্চাররা বল ভিতরে এনে সমস্যায় ফেললেন। ভোগাল চাপ না নিতে পারার ব্যর্থতা। একা কুম্ভের মতো লড়ে গেলেন রবীন্দ্র জাদেজা।শেষ পর্যন্ত তীরে এসে তরী ডুবল। লর্ডসে হেরে ফের সিরিজে পিছিয়ে পড়লেন শুভমানরা। চতুর্থ দিনে ১৯২ রানে ইংল্যান্ডকে বেঁধে ফেলা লর্ডসে আগ্রাসনের ছিল নাম মহম্মদ সিরাজ। ‘সুন্দর’ বোলিংয়ে ওয়াশিংটন। ট্রেডমার্ক ইয়র্কার নিয়ে মঞ্চে প্রবেশ জশপ্রীত বুমরাহরও। ১৯২ রানে ইংল্যান্ডকে বেঁধে ফেলে ভারত। ভারতের তারকাখচিত ব্যাটিং বিভাগ। দলটা প্রথম টেস্টে ৮০০-র উপর রান ও দ্বিতীয় টেস্টে ৭০০-র কাছাকাছি রান করেছে। লর্ডসে প্রথম ইনিংসে করেছে ৩৮৭। শুভমান গিল, ঋষভ পন্থরা আগুনে ফর্মে। লর্ডসে শেষ ইনিংসের চাপ টের পেল ভারত। জোফ্রা আর্চারের বলে অফ স্টাম্পের বাইরে বলে বাউন্সারে পুল মারতে গিয়ে শূন্য রানে ফিরলেন যশস্বী জয়সওয়াল। শুরুতে খানিক নড়বড়ে রাহুলের ৫ রানের মাথায় নিজের বলে সহজ ক্যাচ ছাড়লেন ওকস। ১৪ রানের মাথায় ব্রাইডন কার্সের বল ছাড়তে গিয়ে প্যাডে লাগিয়ে আউট হন করুণ। দাঁড়াতে পারলেন না ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিলও। রাহুলকে সঙ্গে দিতে মাঠে নামা নৈশপ্রহরী আকাশ দীপ ১ রান করে আউট হন। চতুর্থ দিনের শেষে ভারতের রান ছিল ৪ উইকেট হারিয়ে ৫৮। পঞ্চম দিনে ঋষভ পন্থ ও কেএল রাহুলের কাঁধে ভারতকে জেতানোর দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও আর্চারের বলের লাইনই বুঝতে না পেরে পন্থ বোল্ড হয়ে ফিরলেন ৯ রানে। রাহুল ফিরলেন ৩৯ রানে। বেন স্টোকসের এলবিডব্লু হওয়ার পরই কার্যত ভারতের হাত থেকে ম্যাচ বেরিয়ে যায়। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারানো ভারতের ওয়াশিংটন সুন্দর, নীতীশ রেড্ডিরা ভরসা দিতে পারেন নি। রানের খাতা না খুলে জোফ্রা আর্চারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন সুন্দর। রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে অনেকক্ষণ ধৈর্য ধরে ব্যাট করে নীতীশ রেড্ডি লাঞ্চের ঠিক আগেই আউট। জশপ্রীত বুমরাহকে নিয়ে দীর্ঘ সময় একা কুম্ভের মতো লড়ে যান রবীন্দ্র জাদেজা। বুমরাহও স্টোকস-আর্চারদের সামলে দিলেও স্টোকসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। আশ্চর্যজনকভাবে আউট হলেন মহম্মদ সিরাজ। সোয়েব বশিরের বল তিনি ডিফেন্স করার সত্ত্বেও তা ঘুরে উইকেটে আঘাত করায় বেলটিও পড়ে গেল। ভেঙে গেল ভারতের স্বপ্নও। জাদেজা অসহায়ের মতো অপরাজিত ৬১ রানে। ভারতের ইনিংস শেষ হয় ১৭০ রানে। অক্লান্ত পরিশ্রমী আর্চারের ৩ উইকেট। যোগ্য সঙ্গ দিলেন স্টোকস-কার্সরাও। লর্ডস টেস্ট জিতে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।

ম্যাচের রাশ হাতে নিয়েও হারল টিম ইন্ডিয়া। লর্ডসে ২২ রানে হেরে সিরিজেও পিছিয়ে পড়ল শুভমান গিলের দল। কেন হারল ভারত? পিচে সামান্য অসমান বাউন্স আছে, বল অল্পবিস্তর মুভ করছে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ২২ রানে হারল ভারত। লর্ডসে শেষ ইনিংসের চাপ ভালোমতোই টের পেল ভারত। শুভমান গিল থেকে ঋষভ পন্থ, সকলেই ব্যর্থ। দুরবস্থাপন্ন করুণ নায়ার আর বোধহয় তিনি সুযোগ পাবেন না। লর্ডসে তৃতীয় টেস্টের শেষ ইনিংসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিততে ভারতের দরকার ছিল ১৯৩ রান। দলটা প্রথম টেস্টে ৮০০-র উপর রান ও দ্বিতীয় টেস্টে ৭০০-র কাছাকাছি রান করেছে। লর্ডসে প্রথম ইনিংসে করেছে ৩৮৭। শেষ ইনিংসে এভাবে ভারতীয় দল ব্যাটিং বিপর্যয়ের সামনে। অপ্রত্যাশিত। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে বুমরাহ পাঁচ উইকেট তুলেছিলেন। দুই উইকেট তোলেন মহম্মদ সিরাজও। জেমি স্মিথ ৫১ ও ব্রাইডন কার্স ৫৬ দুজন টেল এন্ডারের জুটিতে ওঠে ৮৬ রান। ভারতের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল দুই ইনিংসে ব্যর্থ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঋষভ পন্থের রান আউটের ধাক্কাও সামলাতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। অধিনায়ক শুভমান গিলও এই টেস্টে চর্চায় ছিলেন ব্যাটিংয়ের জন্য নয়, অতি আগ্রাসী আচরণের জন্য। মনঃসংযোগ নষ্ট হয়েছে দলের। সিরাজ, নীতীশ রেড্ডিরাও সমস্যায় জড়িয়েছেন। এজবাস্টনে ঐতিহাসিক জয়ের পর কি আত্মতুষ্টিতে ভুগছিলেন ক্রিকেটাররা? কোচ গৌতম গম্ভীর চিন্তায়। ম্যাচে দশ ওভারের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে, বলের আকার পরিবর্তিত হয়ে পুরনো হচ্ছে। ফলে নতুন বলে বুমরাহরা যতটা ভয়ঙ্কর, বল একটু পুরনো হলেই সেটা আর চোখে পড়েনি। বারবার দেখা গিয়েছে বল নিয়েই শুভমানদের বেশি চর্চা। লাল বলের ক্রিকেটে কোনও দলের পক্ষে লম্বা ব্যাটিং লেজ শোভনীয় নয়। প্রতি ম্যাচেই ভারতকে লড়াইয়ে পিছিয়ে দিচ্ছে। কোচ গম্ভীর নিশ্চয়ই ভাববেন। ভারতীয় টেস্ট দলের সাপ্লাই লাইন ভরসা দিতে পারছে না। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে শার্দূল ঠাকুর, ওয়াশিংটন, নীতীশদের খেলাচ্ছেন। ফল পাচ্ছেন না। ব্যাট বা বল হাতে দারুণ কিছু করতে পারছেন না কেউ। ভারতের লোয়ার মিডল অর্ডারকে বা সেকেন্ড লাইন বোলিংকে। টেস্টে দলের ‘সাপোর্ট সিস্টেম’ ঠিক মতো কাজ করছে না। গম্ভীরের দলও আইসিইউ থেকে পাকাপাকি ভাবে বেরোতে পারছে না। ২০২১ সালে লর্ডসেই ইংল্যান্ডকে ১৫১ রানে হারিয়েছিল বিরাট কোহলির দল। টেস্ট ক্রিকেটে কোহলি নেই। রোহিত শর্মা, রবিচন্দ্রন অশ্বিনেরাও নেই। গম্ভীরকে নতুন করে ভাবতে হবে। ব্যাটিং লেজ নিয়ে ভাবতে হবে। ‘সাপ্লাই লাইন’ নিয়ে ভাবতে হবে। কোহলি-রোহিতের উপযুক্ত পরিবর্তও খুঁজতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles