Saturday, July 18, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মস্তিস্কের বয়স বাড়লেই আয়ু কমে! সবসময় হাসিখুশিতে দিন কাটালে আয়ু বাড়ে

মস্তিষ্কের ‘বয়স’ই বলে দিতে পারে আয়ু। ক্যালিফর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক ৪৪,৪৯৮ জনের তথ্য নিয়ে তার উপর পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখেছেন। প্রয়োগ করেছেন রক্ত বিশ্লেষণ কৌশল ব্লাড অ্যানালিসিস টেকনিক। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বয়স বেড়ে যাচ্ছে আমাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের। অকালে কারও চুল পাকছে, কারও পড়ে যাচ্ছে দাঁত। মস্তিষ্কের বা ব্রেনের ‘বয়স’ কত? গবেষণা বলছে, বেঁচে থাকার সঙ্গে চনমনে, তাজা মস্তিষ্কের সম্পর্ক অনেক বেশি। শরীরের এক একটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বুড়িয়ে যেতে এক এক রকম সময় নেয়। কোনও অঙ্গ হয়তো কমবয়সেই বুড়িয়ে যায়। আবার কোনও অঙ্গ বেশি বয়সেও থেকে যায় তাজা। গবেষকেরা সম্প্রতি শরীরের এমন ১১টি অঙ্গের উপর পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখেছেন। জানিয়েছেন, মস্তিষ্কই আয়ু নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী।

ক্যালিফর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক ব্রিটেনের স্বাস্থ্য গবেষণা ডেটাবেস পরীক্ষানিরীক্ষা করে ৪০ থেকে ৭০ বছর বয়সি ওই ৪৪,৪৯৮ জনের তথ্যে রক্ত বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্লাড অ্যানালিসিস টেকনিক প্রয়োগ করে পেয়েছেন ওই মানুষগুলির মোট ১১টি অঙ্গের আনুমানিক বয়স। এর মধ্যে মস্তিষ্ক ছাড়াও ছিল হার্ট, ফুসফুস, পেশি, কিডনি, লিভার, অন্ত্র, অগ্ন্যাশয়, চর্বি, শিরা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। মস্তিস্ক নামক অঙ্গের ‘বয়স’ ব্যক্তিবিশেষের স্বাস্থ্যের দীর্ঘ ১৭ বছরের পরিসংখ্যানের রেকর্ড সঙ্গে তুলনা করে দেখা হয়েছে। সাধারণ ভাবে দেখা গিয়েছে, অঙ্গের চনমনে ভাব যত কম, মৃত্যুর ঝুঁকিও তত বেশি। এদের মধ্যে থেকে মস্তিষ্ককেই আদর্শ প্রতিনিধি হিসাবে বেছে নেওয়া যেতে পারে, জানিয়েছেন গবেষকেরা। পরিসংখ্যান বলছে, যাঁদের ব্রেন যত কম বুড়িয়েছে, তাঁদের আয়ু তত দীর্ঘ হয়েছে। স্ট্যানফর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিউরোসায়েন্টিস্ট টনি উইস্‌-কোরে বলেছেন, ‘‘ব্রেনই হল আমাদের দীর্ঘ জীবনের দ্বাররক্ষী। যদি আপনার ব্রেন বুড়িয়ে যায়, মৃত্যুর সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। আর আপনার বয়স যতই বাড়ুক, ব্রেন সতেজ থাকলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।’’

রক্তপরীক্ষার পদ্ধতি মূলত প্রোটিনের মাত্রা পরিমাপ করে। প্রোটিন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। জটিল কিছু গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বার করেছেন, কোন অঙ্গ কেমন চলছে। কোন অঙ্গ কতটা সতেজ। যে অঙ্গ যত ‘বয়স্ক’, তার প্রোটিন তত বেশি ক্ষয়ক্ষতি নির্দেশ করেছে। সেই অঙ্গে রোগ ধরার সম্ভাবনাও তাই তত বেশি। একই ভাবে এমন ‘বয়স্ক’ অঙ্গের সংখ্যা যার শরীরে যত বেশি রয়েছে, তার রোগভোগের সম্ভাবনাও তত বেড়ে যায়। গবেষণা বলছে, যাঁদের ব্রেন ‘অত্যন্ত বয়স্ক’ (বৃদ্ধ বয়সের সাত শতাংশ), তাঁদের ক্ষেত্রে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ। তুলনায় যাঁদের ব্রেনের বয়স কম, তাঁদের ব্রেন সাধারণ জৈবিক বয়সের সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ। ‘অত্যন্ত চনমনে’ মস্তিষ্কের অধিকারী যাঁরা, তাঁদের অকালমৃত্যুর শারীরিক কারণে সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ কমে যায়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তির উন্নয়নে মানুষের গড় আয়ু যত বাড়ছে, ততই চারপাশে বাড়ছে এমন মানুষের সংখ্যা, যাঁদের স্মৃতি দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্ত হচ্ছেন। যে রোগ নিরাময়ের কোনও ওষুধ এখনও নেই। গবেষকদের দাবি, ‘বয়স্ক’ ব্রেনের মানুষদের অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৩.১ গুণ বেড়ে যায়। ব্রেন চনমনে থাকলে এই রোগের সম্ভাবনা থাকে ৭৪ শতাংশ কম। প্রতি দিনের এমনই নানা ছোটখাটো বিষয়ের উপর মস্তিষ্কের ‘বয়স’ নির্ভর করে।

মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে হলে এমন কাজ করতে হবে, যা মন ভাল রাখে। যা উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। এতে মস্তিষ্কে নতুন কোষও গড়ে উঠতে পারে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার উপরে অনেকাংশে নির্ভর করে ব্রেনের ‘স্বাস্থ্য’। যাঁরা ফল, সব্জি, মাছ, বাদাম জাতীয় প্রোটিনযুক্ত খাবার খান, তাঁদের স্মৃতিশক্তি সতেজ থাকে।
মস্তিষ্কের খাতিরে পেশিকেও সবল রাখা জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ বেশি হয়। যেখান থেকে মানুষ চিন্তা করে, সেখানেও অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত দ্রুত পৌঁছে যায় ব্যায়ামের ফলে। উচ্চ রক্তচাপ মস্তিষ্ককে দুর্বল করে তুলতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাই প্রয়োজন ব্যায়াম, মানসিক চাপমুক্ততা এবং ভাল খাবার। দিনে দু’পেগের বেশি মদ খাওয়া উচিত নয়। রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে। ডায়াবেটিস থাকলে স্মৃতিভ্রংশতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, কম ডোজ়ের অ্যাসপিরিন নেওয়া মস্তিষ্কের বুড়িয়ে যাওয়া রুখে দিতে সক্ষম। সেই সঙ্গে যে কোনও প্রকার তামাকজাত দ্রব্য অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি মস্তিষ্ককে সতেজ রাখার অন্যতম চাবিকাঠি। গবেষণা বলছে, একা একা থাকলে, একা একাই চিন্তা করলে, মস্তিষ্কের ‘বয়স’ হয়ে যায় তাড়াতাড়ি। সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা, নিজের চিন্তা অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারলে মস্তিষ্ক বেশি দিন চনমনে থাকে।

ভারতের প্রাচীন আয়ুর্বেদশাস্ত্র। আয়ুর্বেদে বর্ণিত নয়টি অভ্যাস আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কী সেই নবরত্ন পদ্ধতি?
১. খাবারের আগে উষ্ণ জল পান: প্রতিটি মুখ্য ভোজ, অর্থাৎ সকালের খাবার, মধ্যাহ্নভোজ এবং রাতের খাবারের আগে উষ্ণ জল পান হজমশক্তি বাড়াতে এবং পরিপাকতন্ত্রকে মজবুত করতে সহায়ক।
২. রাত ১১টার আগে নিদ্রা: রাত ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে।
৩. প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা: দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক এবং হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে।
৪. সকালের রোদ গ্রহণ: প্রতিদিন ১৫ মিনিট সকালের হালকা রোদে বসা শরীরে ভিটামিন ডি-এর প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে কাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।
৫. ধীরে ও ভালভাবে চিবিয়ে খাওয়া: খাবার ধীরে ধীরে এবং সঠিকভাবে চিবিয়ে খেলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। ফলে শরীর নির্মেদ হয়।
৬. ঘুমতে যাওয়ার আগে ধ্যান: যাঁরা অনিদ্রায় ভোগেন তাঁদের জন্য এই অভ্যাস খুবই জরুরি। আধুনিক কালের সঙ্গে তুলনা করলে ঘুমতে যাওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে থেকে ফোন, টিভি প্রভৃতি থেকে বিরত থাকলে মন শান্ত হয়, ঘুম ভাল হয়।
৭. খালি পেটে ফল খাওয়া: দিনের শুরুতে খালি পেটে একটি ফল গ্রহণ শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে এবং শক্তি জোগায়।
৮. গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন: দৈনিক অন্তত ১০ মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের চর্চা মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
৯. পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখা: পরিপাকতন্ত্র বা অন্ত্র পরিষ্কার রাখা অপরিহার্য, কারণ এটি আমাদের মানসিক অবস্থা, ত্বকের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিদিন মলত্যাগ করা উচিত।

কর্মব্যস্ত জীবন, অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া-দাওয়া, মানসিক চাপ আর দৈহিক পরিশ্রমে অনীহা এই সবকিছুর যৌথ ফলাফল এক মারণব্যাধি। নাম সিএডি বা করোনারি আর্টারি ডিজিজ। হার্টের থেকে সারা দেহে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে ধমনীর মাধ্যমে। এই ধমনীর ভিতরে যখন ধীরে ধীরে চর্বি জমে কিংবা কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য বর্জ্যপদার্থের আস্তরণ তৈরি হয় তখন তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে প্লাক। হৃদযন্ত্রের নিজস্ব পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহকারী রক্তনালিগুলিকে বলে করোনারি আর্টারি। যখন এই ধমনীতে প্লাক জমে রক্তপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়, তখনই জন্ম নেয় এই রোগ। সময়মতো ধরা না পড়লে তা ডেকে আনতে পারে অ্যাঞ্জিনা, হার্ট অ্যাটাক, এমনকি মৃত্যু। কিন্তু এই প্লাক জমার প্রাথমিক উপসর্গগুলি এতটাই সূক্ষ্ম যে রোগী বুঝতেই পারেন না কখন বিপদ দরজায় কড়া নাড়ছে! এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলি এতই মৃদু যে, অনেকেই সেগুলিকে সাধারণ গ্যাস বা ক্লান্তি বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু সতর্ক না হলে সামান্য উপসর্গই ভবিষ্যতের বড় বিপদে রূপ নিতে পারে।
১. বুক ধড়ফড় বা চাপ অনুভব করা: হাঁটাচলা, সিঁড়ি ভাঙা বা মানসিক উত্তেজনার সময় বুকের মাঝখানে ভারী লাগা বা জ্বালাভাব হতে পারে। কখনও মনে হতে পারে বুকের মধ্যে কিছু একটা চেপে বসেছে।
২. ঘন ঘন হাঁপ ধরা: আগে যেটুকু পথ হাঁটতে কোনও সমস্যাই হত না, এখন সেইটুকু পথ পেরোতেই দম বেরিয়ে যাচ্ছে? সতর্ক হন। এটি হৃদযন্ত্রে ঠিকমতো রক্ত না পৌঁছনোর ইঙ্গিত হতে পারে।
৩. ঘাড়, চোয়াল, কাঁধ বা হাতে ব্যথা ছড়ানো: একে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে রেডিয়েটিং পেইন। অর্থাৎ ব্যথা যেন ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষত বাম হাতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া একটি এই রোগের একটি মূল লক্ষণ।
৪. ঘাম ও দুর্বলতা: কোনও কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম বা ক্লান্তিভাব আসছে বারবার? এ রকম লক্ষণকেও হালকাভাবে নিলে চলবে না। করোনারি আর্টারি ডিজিজ-এর লক্ষণ হতে পারে।
৫. বমিভাব ও পেট গুড়গুড়: অনেকেই জানেন না যে হার্টের সমস্যা থেকেও পেটে গোলমাল হতে পারে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডজনিত সমস্যার উপসর্গ হিসেবে পেটখারাপ, অরুচি বা বমিভাব দেখা যায়। প্রায়ই এই সমস্যাগুলি গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বলে ভুল করেন মানুষ।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
বেশি বয়সের পুরুষ ও মহিলারা অর্থাৎ যাঁদের বয়স ৫০ পেরিয়ে গিয়েছে, ডায়াবেটিস রোগী, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলে ভোগা মানুষ, ধূমপানকারী, স্থূলকায় ব্যক্তি এবং যাঁদের পরিবারে কারও হৃদরোগের ইতিহাস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি অনেক বেশি।
কী করণীয়?
১. নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে চিনি ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা
২. ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, স্ট্রেস টেস্ট কিংবা অ্যাঞ্জিওগ্রাফি ইত্যাদি পরীক্ষা করানো
৩. ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান বন্ধ করা
৪. নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা
৫. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা শেষ কথা
করোনারি আর্টারি ডিজিজ নিঃশব্দ ঘাতক। একবার হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেলে বিপদ অনেকটাই বেড়ে যায়, তাই প্রতিরোধই হল আসল বাঁচার পথ। উপসর্গ বুঝে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া জরুরি।

কোলেস্টেরলের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। ধমনীর ভিতর ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল জমতে থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। অনেকেই এর জন্য নিয়মিত ওষুধ খান। তবে শুধুমাত্র ওষুধ নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ করে রাতের খাবার, এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কিছু খাবার রয়েছে যা রাতে খেলে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
১। বাদাম: বাদাম বলতে কিন্তু চিনাবাদাম নয়। বা বলতে আমন্ড ও আখরোট। এগুলিতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তের ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ‘ভাল’ কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।
২। ওটস: রাতের খাবারে বা শোয়ার আগে অল্প পরিমাণে ওটস খেতে পারেন। এতে বিটা-গ্লুক্যান নামক দ্রবণীয় ফাইবার শরীর থাকে। এটি কোলেস্টেরল বের করে দিতে অত্যন্ত কার্যকর।
৩। রসুন: রসুনের মূল উপাদান অ্যালিসিন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। রাতের খাবার খাওয়ার সময় পাতে দুই-এক কোয়া রসুন রাখলে উপকার মিলতে পারে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
৪। ডাল ও বিনস: মুসুর, ছোলা বা রাজমার মতো ডালে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে। এই ফাইবার অন্ত্রে কোলেস্টেরলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাকে শরীর থেকে বার করে দেয়। ফলে দেহে খারাপ কোলেস্টেরলের প্রভাব কিছুটা হলেও হ্রাস পায়।
৫। পালং: পালং শাক এবং বাংলার অন্যান্য ধরনের শাকে লুটেইন এবং ক্যারোটিনয়েড থাকে। এই উপাদানগুলি ধমনীর প্রাচীরে কোলেস্টেরল জমা হতে বাধা দেয়। ফলে রক্তনালী সাফ থাকে।
৬। মেথি: মেথি প্রকৃতির এক অমূল্য দান। মেথি দানা বা শাক, দু’টিই শরীরের জন্য উপকারী। এতে স্যাপোনিন নামক যৌগ থাকে, যা কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয়। রাতে মেথি ভেজানো জল পান করলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৭। সামুদ্রিক মাছ: স্যামন, ম্যাকেরেল কিংবা বাঙালির অতি প্রিয় ইলিশের মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এই উপাদানটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এবং সার্বিক ভাবে হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
৮। সয়াবিন: সয়া দুধ বা টোফুর মতো সয়াজাত দ্রব্য ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমানোর জন্য পরিচিত। রাতের খাবারের তালিকায় এগুলি রাখলে তা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
৯। ইসবগুল: অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ইসবগুল খান। কিন্তু জানেন কি এটি কোলেস্টেরল কমাতেও উপযোগী! এতে থাকা ঘন দ্রবণীয় ফাইবার কোলেস্টেরল কমানোর এক অব্যর্থ উপাদান। রাতে শোয়ার আগে জলে গুলে ইসবগুল খেলে তা হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীর থেকে কোলেস্টেরল দূর করতে সাহায্য করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles