তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ। সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দীপশিতা ধর, ঐশী ঘোষসহ একাধিক বাম নেত্রী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অশালীন মন্তব্য ও ধর্ষণের হুমকি দিতেন। অভিযুক্ত রাজদীপ তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপা পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি-র সদস্য। প্রকাশ্যে অধ্যাপককে বেদম মারধর। সিপিএম নেত্রীদের ধর্ষণের হুমকি দিতেন। এই অভিযোগে ওই অধ্যাপককে প্রকাশ্যে মারধর করলেন বামপন্থী পড়ুয়ারা। শেষপর্যন্ত নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছেন অধ্যাপক। শনিবার কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে এই ঘটনা ঘটে। ওই অধ্যাপকের নাম রাজদীপ মাইতি। তাঁকে ঘিরে ধরে বামপন্থী যুবকেরা বেদম মারধর করে বলে অভিযোগ। ঘটনার সময় তৃণমূলের কোনও সমর্থক তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। রাজদীপ মাইতির বিরুদ্ধে বামপন্থী পড়ুয়াদের অভিযোগ, তিনি সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দীপশিতা ধর, ঐশী ঘোষ সহ একাধিক বাম নেত্রী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অশালীন মন্তব্য ও ধর্ষণের হুমকি দিতেন। বামপন্থী সংগঠনের ছাত্রছাত্রীদের দাবি, রাজদীপ তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপা পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি-র সদস্য। সেই সুযোগে শাসক দলের ছত্রছায়ায় এমন আচরণ করতেন। সেই অভিযোগে, কলেজ স্ট্রিটে রাজদীপ মাইতিকে ঘিরে ধরেন একদল যুবক। শুরু হয় পিছু ধাওয়া ও মারধর। এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, এক মহিলা তাঁর গালে সপাটে চড় মারছেন। সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক তাঁকে লাথি ও ঘুষি মারছে। অধ্যাপক ভয়ে কাঁপতে থাকেন এবং শেষপর্যন্ত ক্ষমা চান। বামপন্থী ছাত্রনেতারা জানান, তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের। রাজদীপ মাইতি কলকাতার সিটি কলেজ অব কমার্স অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে গণিতের অধ্যাপক। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য ও উত্তেজক পোস্টের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি। তবে বামপন্থী সংগঠনগুলি বলেছে, নারীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও হুমকির বিরুদ্ধে যেকোনও মূল্যে প্রতিবাদ করা হবে।
আবার এক ল’কলেজে ‘দাদাগিরি’। প্রেমের প্রস্তাব না মানায় ছাত্রীকে মারধর! সিনিয়র ছাত্রের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার ‘অপরাধে’ কলেজ ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে চরম হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠল। কলেজের তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, কান্দির রাজা বীরেন্দ্রচন্দ্র ল’কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীকে কলেজ কক্ষে আটকে রেখে চলে মারধর, শারীরিক নিগ্রহ। এমনকি তাঁকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে মাঠে ফেলে পেটানোর মতো অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার বিরুদ্ধে কান্দি থানায় ছ’জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা ছাত্রী। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কলেজের পাঁচ জন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও এক ছাত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা পলাতক, তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতিতা ছাত্রীর অভিযোগ, গত ৮ জুলাই কলেজে গেলে তাঁকে ও তাঁর বান্ধবীকে একটি ক্যাফেতে দেখা করতে ডাকেন এক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সেই প্রস্তাব তিনি সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাখ্যান করলে পাল্টা হুমকি দেওয়া হয় ‘দেখে নেওয়া হবে’। এরপর কলেজের এক রুমে তাঁকে ও বান্ধবীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর এক বহিরাগতদের ডেকে এনে ছাত্রীটির উপর চড়াও হয় ‘দাদা’রা। নির্যাতিতার বক্তব্য, প্রথমে ধাক্কা দেওয়া হয় তাঁকে। তারপর অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ। এছাড়াও, ছাত্রীর মুখে নখের আঁচড় কেটে দেয় অভিযুক্তরা। পরে তাঁকে মাঠের দিকে টেনে নিয়ে গিয়ে বুকে, পেটে লাথি মারে। ঘটনার কথা কলেজের অশিক্ষক কর্মী ও কিছু সহপাঠী জানার পর তাঁরা গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় তাঁকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে, পাল্টা অভিযোগ এনেছে অভিযুক্ত তৃতীয় বর্ষের ছাত্রও। তার দাবি, ওই ছাত্রী তার বাবা-মাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন। বিষয়টি সে অধ্যক্ষের কাছেও লিখিতভাবে জানিয়েছে। এমনকী সে নিজেই পোশাক খুলে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল তাকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজে উত্তেজনা। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুচিস্মিতা নাগ বলেন, ঘটনাটি কলেজ চত্বরে ঘটেনি। পুলিশকে সব রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। অধ্যক্ষ ছুটিতে। তিনি ফিরলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কলেজ জুড়ে ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ। যখন তখন অন্য ছাত্রছাত্রীদের হুমকি দেওয়া। ইচ্ছা হলেই হস্টেলের রুমে মদ্যপান ও ‘মোচ্ছব’। আইআইএম জোকার ক্যাম্পাসে তরুণী মনোবিদের যৌন নিগ্রহ ও তাঁর ধর্ষণের ঘটনার পর অভিযুক্ত পরমানন্দ মহাবীর টোপ্পান্নাবার ওরফে পরমানন্দ জৈনের একের পর এক ‘কীর্তি’ সামনে এসেছে পুলিশের। ওই কলেজ ক্যাম্পাসে মহিলা তথা বান্ধবীদের ডেকে নিয়ে আসা পরমানন্দর কাছে নতুন নয়। এর আগেও তার হাত ধরে একাধিক মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকেছিলেন বলে খবর পুলিশের কাছে। পুলিশ জেনেছে, এমবিএ-র দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র পরমানন্দ কলেজের একটি কমিটিতেও ছিল। সেই সূত্র ধরেই কলেজে ‘দাদাগিরি’ ফলানোর চেষ্টা করত সে।নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে রেখেছিল। কোনও নিরাপত্তারক্ষী কথা না শুনলে তাঁকে পরমানন্দের হুমকির মুখে পড়তে হত। তাই কোনও বহিরাগত সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে কলেজে নিয়ে এলেও পরমানন্দের ‘নির্দেশে’ কলেজের গেটের রেজিস্টার খাতায় ওই ‘অতিথি’র কোনও নাম লেখা হত না। বিভিন্ন ‘কীর্তি’র কারণে পরমানন্দর বিরুদ্ধে আইআইএম জোকা কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। তাই সে কলেজের ভোটে দাঁড়াতে পারেনি। তবে তাতে তার রোয়াব কমেনি। মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই পরমানন্দ নিজের ভুয়ো ‘জৈন’ পদবি ব্যবহার করত। তবে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র সে। চারটি ভাষায় দক্ষ পরমানন্দ ম্যানেজমেন্ট প্রবেশিকার পরীক্ষায় সে পেয়েছিল ৯৯.৭৩ শতাংশ। স্কুল থেকে মেধাবী পরমানন্দ ২০২২ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংও পাশ করে। সেই যুবকের বিরুদ্ধেই উঠল ধর্ষণের অভিযোগ। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে সে। জোকা কাণ্ডে ৯ সদস্যের সিট গঠন করল রাজ্য সরকার। একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দলটি। তারা কথা বলবে নির্যাতিতার সঙ্গে। ঘটনাস্থলেও যেতে পারেন তদন্তকারীরা।
আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে নবম শ্রেণির ছাত্রীর অশ্লীল ছবি তৈরি। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার অভিযোগ উঠল স্কুলেরই চার ছাত্রের বিরুদ্ধে। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে স্কুল চত্বর এবং থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন ছাত্রী ও অভিভাবকরা। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের পুরিয়া মহেশপুর হাই স্কুলের নবম শ্রেণির এক কিশোরী পড়ুয়ার মুখমণ্ডলের ছবি বসিয়ে ‘এআই’-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে অশ্লীল ছবি তৈরি করা হয়েছে। তা আপাতত ভাইরাল সমাজমাধ্যমে। তা নজরে আসায় স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছে ওই ছাত্রী। এহেন কুকীর্তিতে কাঠগড়ায় ওই স্কুলেরই চার ছাত্র। শনিবার এই ঘটনায় সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত সহপাঠীর পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদে সরব হলেন স্কুলের অন্যান্য পড়ুয়া, অভিভাবকরা। কালিয়াগঞ্জ থানায় বিক্ষোভ দেখিয়ে তাদের দাবি, অভিযুক্ত চার ছাত্রের কঠোরতম শাস্তি চাই। চার ছাত্রের বিরুদ্ধে এদিন সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। প্রতিবাদী নবম শ্রেণির ছাত্রীদের অভিযোগ, স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও আমাদের এক বান্ধবীর ছবি মোবাইল ফোনে তুলে স্কুলেরই চার দশম শ্রেণির দাদারা খারাপ ছবির সঙ্গে বান্ধবীর মুখ বসিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। এটা খুব অন্যায়। শাস্তি না হলে আমরাও এই জঘন্য ঘটনার শিকার হতে পারি।” একই অভিযোগে সরব হন অভিভাবকরা। এক অভিভাবকের অভিযোগ, “কয়েকদিন আগে কালিয়াগঞ্জের হরলাল বালিকা বিদ্যালয়ের হস্টেলের মেয়েদের স্নানের দৃশ্য সিসি ক্যামেরাবন্দি করার অভিযোগে স্কুলের অঙ্কন শিক্ষক-সহ দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। হস্টেলে এখন আর ছাত্রী নেই।” নিজের স্কুলে ঘটে যাওয়া আপত্তিকর ঘটনা নিয়ে পুরিয়া মহেশপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুমিত মজুমদার বলছেন, “কখন কে মোবাইল নিয়ে ক্লাসে ঢুকছে, তা চিহ্নিত করা সবসময় সম্ভব নয়।” কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন,” অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
২০২৬এর ভোটের পর বিজেপি ক্ষমতায় এলে পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের গণধোলাইয়ের হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব রাজ্যপালের। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনই দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এদিন তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর কাজ শুরু করতে কয়েকদিন সময় লাগে। পুলিশ আধিকারিকদের যে অংশ এখন প্রমাণ লোপাট করছেন, সেই সময় তাদের জীবন ও শরীরের সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্যপালকে। শমীকবাবু বলেন, ‘স্বচ্ছ ভোটার তালিকা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাটা নির্বাচন কমিশনের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ। আর রাজ্যপাল যিনি রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসাবে এখানে থাকবেন, তাঁর এটা বিশেষভাবে দেখা দরকার যে নির্বাচনের ফল বেরনোর পর যাতে এই তৃণমূল কংগ্রেসের যারা ওই চিহ্নিত বোমাবাজ আছেন, বা যারা চিহ্নিত পুলিশ অফিসার আছেন, যারা প্রমাণ লোপাটের কাজ করছেন, সিভিক ভল্যান্টিয়ারদের যে অংশ আছেন, তাদের জীবন ও তাদের শরীর যাতে অক্ষত থাকে সেটা দেখার দায়িত্বও কিন্তু তখন রাজ্যপালের। নতুন সরকার এলে তার তো কাজ শুরু করতে একটা সময় লাগে। সে তো রাতারাতি সমস্ত প্রশাসনকে ঠিক করতে পারবে না। তার তো ১৫ – ২০ দিন সময় লাগবে। তার মধ্যে যাতে এরা আক্রান্ত না হয়, তার মধ্যে কোনও গণধোলাইয়ের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেটা দেখার দায়িত্ব থাকবে রাজ্যপালের।’




