Wednesday, July 15, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ!‌ ‘ডাক্তার’ তকমা কেড়ে নিল তৃণমূল সরকার!শান্তনু সেনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল, কসবাকাণ্ডেও তৃণমূল যোগ স্পষ্ট?‌

নামের পাশে আর ‘ডাক্তার’ লিখতে পারবেন না শান্তনু সেন! পারবেন না প্রেসক্রিপশনও লিখতে! বিদেশি ডিগ্রি নিয়ে বিতর্কে সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল নেতার ডাক্তারি লাইসেন্স দু’বছরের জন্য বাতিল করল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। আরজি কর কাণ্ডে দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পর থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর দুর্দিন। দল থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করেছিল তৃণমূল। এবার ডাক্তারির রেজিস্ট্রেশনটাও গেল শান্তনু সেনের। ভুয়ো ডিগ্রি ব্যবহার করায় শান্তনু সেনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে সুদীপ্ত রায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। এর ফলে অন্তত ২ বছর কারও চিকিৎসা করতে পারবেন না তিনি। পালটা আক্রমণ শানিয়ে শান্তনুবাবু বলেন, আমি হাসপাতাল খুলে তোলাবাজি করি না। অভিযোগ ছিল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলকে না জানিয়ে বিদেশি ডিগ্রি FRCP ব্যাবহার করছেন শান্তনু সেন। এই অভিযোগ শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়। বৃহস্পতিতে চূড়ান্ত শুনানির জন্য শান্তনুবাবুকে ডাকা হয়েছিল। সেখানেই তাঁর রেজিস্ট্রেশন ২ বছরের জন্য বাতিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সাংবাদিক বৈঠক করে সুদীপ্ত রায় বলেন, ওকে সিঁথির লোক স্কোয়্যার ফুট সেন বলে চেনে। ও একটা তোলাবাজ। সেজন্য দল ওকে সাসপেন্ড করেছে। ও ভুল প্রেসক্রিপশন লেখে। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলকে না জানিয়ে ডিগ্রি ব্যবহারের অধিকার কারও নেই।

পালটা সাংবাদিক বৈঠক করে শান্তুনুবাবু দাবি করেন, যে ডিগ্রির কথা বলা হচ্ছে সেটা একটা সাম্মানিক ডিগ্রি। সাম্মানিক ডিগ্রি ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন লাগে না। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। আরজি কর কাণ্ডের সময় দলের অবস্থানের বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমেছিলেন শান্তনু সেন। অভিযোগ তুলেছিলেন, আরজি করের বিরুদ্ধে যে অরাজকতা চলছে তা টের পাওয়া গিয়েছে বহুদিন ধরেই।নামের পাশে আর ‘ডাক্তার’ লিখতে পারবেন না শান্তনু সেন! পারবেন না প্রেসক্রিপশনও লিখতে! বিদেশি ডিগ্রি নিয়ে বিতর্কে সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল নেতার ডাক্তারি লাইসেন্স দু’বছরের জন্য বাতিল করল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন না করিয়েই ‘এফআরসিপি গ্লাসগো’ নামে একটি বিদেশি ‘ডিগ্রি’ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল শান্তনুর বিরুদ্ধে। গত মাসেই তা নিয়ে শান্তনুকে নোটিস ধরিয়েছিল কাউন্সিল। বৃহস্পতিবার তলব করেই কাউন্সিল শান্তনুর ডাক্তারি রেজিস্ট্রেশন দু’বছরের জন্য বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। কাউন্সিলের বক্তব্য, ‘এফআরসিপি’ ডিগ্রির কথা কাউন্সিলকে জানাননি শান্তনু। ‘এফআরসিপি’ একটি সাম্মানিক ডিগ্রি। ওই ডিগ্রির ব্যাপারে জানতে গ্লাসগোতে তারা একটি মেলও করেছিল। জানতে চাওয়া হয়েছিল, যাঁদের এই ডিগ্রি রয়েছে, তাঁরা প্র্যাকটিস করতে পারেন কি না। কিন্তু মেলের এখনও কোনও উত্তর আসেনি বলেই জানিয়েছে কাউন্সিল। কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তের পর শান্তনু কি আর ডাক্তারি প্র্যাকটিস করতে পারবেন? জবাবে এক আধিকারিক বলেন, ‘‘তা-ই তো উচিত।’’ দীর্ঘ দিন রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে ছিলেন শান্তনু। চলতি বছরের শুরুতে মেডিক্যাল কাউন্সিলের সেই সরকারি পদও হারিয়েছিলেন। শান্তনুকে দল থেকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল।

আরজি কর-কাণ্ডের পর থেকেই শান্তনুর অবস্থান এবং তাঁর নিজস্ব মতামত ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে। ‘মেয়েদের রাত দখল’ কর্মসূচিতে সমর্থন ছিল শান্তনুর। চিকিৎসক নেতার স্ত্রীকেও দেখা গিয়েছিল আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে থাকতে। সেই সময় হাসপাতাল প্রশাসনের অন্দরে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলেছিলেন চিকিৎসক নেতা। আরজি কর পর্বের পর থেকেই শান্তনুর সঙ্গে তৃণমূলের সমীকরণ নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়। দলের মুখপাত্রের পদ থেকেও সরানো হয়। বিভিন্ন হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে সরকারি প্রতিনিধিদের তালিকাতেও বাদ। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে শান্তনুকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল। এবার শান্তনুর ডাক্তার তকমাও কেড়ে নিল রাজ্য। ডিগ্রি বিতর্কে শাস্তির খাঁড়া নামল চিকিৎসক-নেতা শান্তনু সেনের উপর। দু’বছরের জন্য তাঁকে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। এই ২ বছর তিনি ডাক্তারি করতে পারবেন না। তবে মেডিক্যাল কাউন্সিলরের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন ডাঃ শান্তনু সেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে কথা না বলে, ব্যাখ্যার সুযোগ না দিয়েই এই রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হল। তা মোটেই কাম্য নয়। ডাক্তার সেন রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন। ডাক্তার শান্তনু সেন মূলত রেডিওলজিস্ট। সেই হিসেবে দীর্ঘকাল প্র্যাকটিস করেছেন তিনি। এমবিবিএস বাদে তাঁর আরও কিছু ডিগ্রি রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম গ্লাসগো থেকে একটি সাম্মানিক ডিগ্রি। শান্তনু সেন সেই ডিগ্রি ব্যবহার করতেন। এ বিষয়ে তাঁর থেকে জানতে চায় রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। কিন্তু অভিযোগ, কাউন্সিলের এথিক্স কমিটি তাঁকে বারবার তলব করলেও তিনি হাজিরা দেননি, ব্যাখ্যাও দেননি। সেই কারণে শেষমেশ ২ বছরের জন্য শান্তনু সেনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে তাঁকে সাসপেন্ড করা হল। এমনই জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি ডাক্তার সুদীপ্ত রায়। বৃহস্পতিবার সাসপেনশনের খবর পেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান শান্তনু সেন বলেন,‘‌‘‌আমার সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। আমাকে আমার কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়নি। আলোচনা ছাড়াই রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন যে আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আমার আগে সেই খবর সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে গেল! গ্লাসগো থেকে আমি একটি সাম্মানিক ডিগ্রি পেয়েছি। মেডিক্যাল কাউন্সিলের অনুমতি অনুযায়ী আমি তা ব্যবহার করি। কিন্তু এখন এই কারণে আমার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হল! আমি এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাব এবং জিতবই। আমি কাউন্সিলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব।”

কসবার আইন কলেজে গণধর্ষণের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ইতিমধ্যেই হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। এই ঘটনায় মোট তিনটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে উচ্চ আদালতে। এই মামলাগুলিতে এবার যুক্ত হতে চেয়ে আবেদন করেছেন নির্যাতিতার পরিবার। নিজেদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, নির্যাতিতার পরিবার এই ঘটনায় পুলিশের ওপরই ভরসা রাখছেন। বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চে এই জনস্বার্থ মামলাগুলির শুনানি হবে। এর মধ্যে একটি মামলায় আবেদন করা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে সিবিআই তদন্ত হোক। অপর এক মামলায় আবেদন করা হয়েছে, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা বসানো হোক। গত ২৫ জুনের এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ ৯ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযোগ দায়েরের কয়েক ঘণ্টা পরই মনোজিৎ মিশ্র সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। পরে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল কলেজের নিরাপত্তারক্ষীকেও। জানা যায়, এই নিরাপত্তারক্ষীর ঘরেই গণধর্ষণ করা হয়েছিল সেই ছাত্রীকে। তদন্তে নেমে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের কসবা ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে একধিক প্রমাণ। যে কমন রুমে সেই নির্যাতিতা মারধরের অভিযোগ করেছিলেন, সেখানে রক্তের দাগ পেয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে নমুনাও সংগ্রহ করেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। এদিকে কলেজ থেকে হকিস্টিকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, সেই হকিস্টিক দিয়ে নির্যাতিতাকে মারধর করা হয়েছিল। পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে কলেজের সিসিটিভির হার্ডডিস্ক। পুলিশ জানিয়েছে, সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ থেকে পাওয়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ২৪ বছরের এক ছাত্রীর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ জুন বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে রাত ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সাত ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজে কলেজ চত্বরের চারপাশের গতিবিধি ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, নির্যাতিতাকে জোর করে গার্ডের ঘরে ঢোকানো হয়, যেখানে তিন অভিযুক্ত তাকে যৌন নির্যাতন করে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মেয়েটির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাতে তিন অভিযুক্ত, নিরাপত্তারক্ষী ও নির্যাতিতার গতিবিধি দেখা যাচ্ছে। মূল অভিযুক্তের মোবাইল ফোন থেকে দেড় মিনিটের একটি ভিডিয়ো ক্লিপও উদ্ধার করা হয়েছে। ভিডিয়োটির ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠিয়েছিল পুলিশ। এছাড়া আরও এক অভিযুক্তও নাকি ঘটনাক ভিডিয়ো করেছিল নিজের ফোনে। জেরায় সে কথা উঠে এসেছে। কসবা ল’ কলেজে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই ছাত্রীর গলায় কামড়ের দাগ রয়েছে। যৌনাঙ্গ ক্ষত রয়েছে। এছাড়া শরীরের অন্যান্য জায়গায় মারধরের দাগও দেখা গিয়েছে। মেডিক্যাল রিপোর্ট থেকে এটাই মনে করা হচ্ছে যে যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন সেই অভিযোগকারী তরুণী। অভিযুক্ত মনোজিতের দাবি, ছাত্রীর সম্মতিতেই সব হয়েছিল। কসবা আইন কলেজে গত ২৫ জুন গণধর্ষণের পর কাকে কাকে ফোন করেছিল মনোজিৎ মিশ্র? রিপোর্টে দাবি করা হল, ঘটনার পরপরই কলেজ থেকেই নাকি এক প্রভাবশালী তৃণমূল ছাত্রনেতাকে ফোন করেছিল মনোজিৎ। সেই ছাত্রনেতার বাড়িতেও নাকি যেতে চেয়েছিল মনোজিৎ। সেই টিএমসিপি নেতা রাজি হননি। বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে নাকি সেই টিএমসিপি নেতার সঙ্গেই দেখা করেছিল মনোজিৎ।

সেই টিএমসিপি নেতা কে, তা বের করতে বিজন সেতুর দুধারে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ফার্ন রোড থেকে নাকি মনোজিৎ এরপর হাজরা রোডে যায়। সেখানেও এক ছাত্রনেতার সঙ্গে তাঁর দেখা করার কথা ছিল। গভীর রাত পর্যন্ত হাজরা মোড়েই মনোজিতের টাওয়ার লোকেশন পাওয়া যায়। সেই ঘটনার পর নাকি নির্যাতিতাকেও গভীর রাতে ফোন করেছিল মনোজিৎ। ২৫ জুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই মনোজিৎ মিশ্র সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে নেমে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের কসবা ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে একধিক প্রমাণ। যে কমন রুমে সেই নির্যাতিতা মারধরের অভিযোগ করেছিলেন, সেখানে রক্তের দাগ পেয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে নমুনাও সংগ্রহ করেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। এদিকে কলেজ থেকে হকিস্টিকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, সেই হকিস্টিক দিয়ে নির্যাতিতাকে মারধর করা হয়েছিল। পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে কলেজের সিসিটিভির হার্ডডিস্ক। পুলিশ জানিয়েছে, সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ থেকে পাওয়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ২৪ বছরের এক ছাত্রীর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ জুন বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে রাত ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সাত ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজে কলেজ চত্বরের চারপাশের গতিবিধি ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, নির্যাতিতাকে জোর করে গার্ডের ঘরে ঢোকানো হয়, যেখানে তিন অভিযুক্ত তাকে যৌন নির্যাতন করে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মেয়েটির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাতে তিন অভিযুক্ত, নিরাপত্তারক্ষী ও নির্যাতিতার গতিবিধি দেখা যাচ্ছে। মূল অভিযুক্তের মোবাইল ফোন থেকে দেড় মিনিটের একটি ভিডিয়ো ক্লিপও উদ্ধার করা হয়েছে। ভিডিয়োটির ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠিয়েছিল পুলিশ। এছাড়া আরও এক অভিযুক্তও ঘটনার ভিডিয়ো করেছিল নিজের ফোনে। জেরায় সে কথা উঠে এসেছে।

২৫ জুন কসবার আইন কলেজে গণধর্ষণের পর রাত ১০টা ৫০ মিনিট নাগাদ চলে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা। এরপর আর কতক্ষণ কলেজে ছিল মনোজিৎ মিশ্র, জাইব আহমেদরা? সেই সময় কী করছিল তারা? তারপর বেরিয়ে কোথায় গিয়েছিল তারা? এই ঘটনা এখনও পর্যন্ত কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল নয়না চট্টোপাধ্যায় সহ মোট ১৬ জনকে জেরা করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ২৫ জুন রাতে ঘটনার পরে আর বেশিক্ষণ কলেজে ছিল না অভিযুক্তরা। পুলিশ তদন্ত করে জানতে চাইছে, এই তিনজন তারপর কোথায় গিয়েছিল। তারা প্রমাণ লোপাটের কোনও চেষ্টা করেছিল কি না। এদিকে ধৃতদের ফোনকলের রেকর্ড খতিয়ে দেখেছে পুলিশ। এর থেকে জানা যাচ্ছে, ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল মনোজিৎ। এদিকে ঘটনার দিন অভিযুক্তরা যে পোশাক পরেছিল, সিসিটিভি দেখে তা চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের বাড়ি থেকে সেই পোশাক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এদিকে গ্রেফতারির এক ঘণ্টা আগেই নাকি মনোজিৎ ফার্ন রোডে গিয়েছিল একজনের সঙ্গে দেখা করতে। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ২৫ জুনের গণধর্ষণের ঘটনায় কলকাতা পুলিশ ৯ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে তদন্ত চালাচ্ছিল। সেই তদন্তভার এখন তুলে দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা বিভাগের হাতে। অভিযোগ দায়েরের কয়েক ঘণ্টা পরই মনোজিৎ মিশ্র সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। পরে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল কলেজের নিরাপত্তারক্ষীকেও। জানা যায়, এই নিরাপত্তারক্ষীর ঘরেই গণধর্ষণ করা হয়েছিল সেই ছাত্রীকে। তদন্তে নেমে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের কসবা ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে একধিক প্রমাণ। যে কমন রুমে সেই নির্যাতিতা মারধরের অভিযোগ করেছিলেন, সেখানে রক্তের দাগ পেয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে নমুনাও সংগ্রহ করেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। এদিকে কলেজ থেকে হকিস্টিকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, সেই হকিস্টিক দিয়ে নির্যাতিতাকে মারধর করা হয়েছিল। পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে কলেজের সিসিটিভির হার্ডডিস্ক। পুলিশ জানিয়েছে, সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ থেকে পাওয়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ২৪ বছরের এক ছাত্রীর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ জুন বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে রাত ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সাত ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজে কলেজ চত্বরের চারপাশের গতিবিধি ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, নির্যাতিতাকে জোর করে গার্ডের ঘরে ঢোকানো হয়, যেখানে তিন অভিযুক্ত তাকে যৌন নির্যাতন করে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মেয়েটির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাতে তিন অভিযুক্ত, নিরাপত্তারক্ষী ও নির্যাতিতার গতিবিধি দেখা যাচ্ছে। মূল অভিযুক্তের মোবাইল ফোন থেকে দেড় মিনিটের একটি ভিডিয়ো ক্লিপও উদ্ধার করা হয়েছে। ভিডিয়োটির ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠিয়েছিল পুলিশ। এছাড়া আরও এক অভিযুক্তও নাকি ঘটনাক ভিডিয়ো করেছিল নিজের ফোনে। জেরায় সে কথা উঠে এসেছে।

কসবা কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সেই আবহে রাজ্যের সব সরকার পোষিত কলেজে পরিচালন সমিতির দায়িত্বে এখনই কিছু পরিবতর্ন আনতে চায়ছে না উচ্চ শিক্ষা দফতর। এই পরিস্থিতিতে পরিচালন সমিতির মেয়াদ আরও বাড়ল। ছ’মাস মেয়াদ বাড়িয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর। নির্দেশিকা করি করে উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালন সমিতির বর্তমান মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা দফতর এক নির্দেশে জানিয়েছে, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালন সমিতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিংবা শিগগিরই শেষ হতে চলেছে, সেগুলির পুনর্গঠনের কাজ আপাতত বন্ধ থাকছে। ফলে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্তমান পরিচালন সমিতিগুলোকেই দায়িত্বে রাখা হবে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কারও মতে, প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে এবং প্রতিষ্ঠান চালু রাখতেই রাজ্য সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবার অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এক পরিচালন সমিতিকে ক্ষমতায় রাখা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। এতে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

প্রসঙ্গত, কসবা কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে ‘কসবা কাণ্ড’-এর জেরে এখন পঠনপাঠন আপাতত বন্ধ রয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কলেজে ক্লাস চালু থাকার কথা। পরিচালন সমিতি কী ভেবে পঠনপাঠন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা খোঁজ নিতে হবে। ছাত্রছাত্রীরা শীঘ্রই স্বাভাবিক ক্লাসে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন ব্রাত্য। কলেজের প্রশাসনিক কাজকর্ম চলছে পুরোদমে। অধ্যক্ষ নয়না চট্টোপাধ্যায়-সহ শিক্ষাকর্মীরা কলেজে নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন। এই পরিস্থিতিতে তদন্তে নামেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির পাঁচ সদস্য। কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়েও তাঁরা মূল ঘটনাস্থলে ঢুকতে পারেননি, কারণ সেটি পুলিশি তদন্তের কারণে বন্ধ। ফলে আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখে এবং পুলিশ ও অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন। জানা যাচ্ছে, অধ্যক্ষের কাছে একাধিক প্রশ্নের জবাব চাওয়া হয়েছে যেমন, মূল অভিযুক্ত কীভাবে কলেজে আসত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন, সিসিটিভি কতগুলি রয়েছে ও সেগুলি ঠিকমতো কাজ করে কিনা, কলেজের পঠনপাঠন শেষে কারা থেকে যেতেন ইত্যাদি। কলেজ সম্পর্কে কড়া মন্তব্য সহ রিপোর্ট জমা পড়তে পারে বলেই খবর। পাঁচ সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অফ ল, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, ইনস্পেক্টর অফ কলেজ, বাণিজ্য বিভাগের প্রধান ও একজন অধ্যাপক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles