Saturday, July 11, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

শূন্য থেকে মহাশূন্যের পথে ভারতীয় ফুটবল!‌ দেশের ফুটবল ক্রমশ নিম্নগামী?‌ বেহাল দশা কাটাতে আগ্রহী সঞ্জয় সেন!‌

ভারতীয় ফুটবলের বেহাল দশা। অতল গহ্বরে তলিয়ে যাওয়ার পথে দেশের ফুটবলা। ফিফা র‌্যাঙ্কিংএ সুনিল ছেত্রীরা ক্রমশ নিম্নগামী?‌ উজবেকিস্তান, জর্ডনের মতো দেশ বিশ্বকাপ খেলে। ভারত পারে না, অতলে তলিয়ে যাচ্ছে দেশের ফুটবল। সমাধানে উদ্যোগী হতে চাইছেন কোচ সঞ্জয় সেন। ভারতীয় ফুটবল দলের ফিফা র‌্যাঙ্কিং ক্রমশ নিম্নগামী। পেশাদারিত্বের অভাব। সঠিক পরিকল্পনা না থাকার কারণে ডুবতে বসেছে দেশের ফুটবল। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় কোচদের উপর আস্থা রাখুক ফেডারেশন। এমনটাই মনে করছে ফুটবল মহল। সফল কোচ সঞ্জয় সেন। সেনের কোচিংয়ে সন্তোষ ট্রফি জিতেছে বাংলা। দলগত প্র্যাকটিস থেকে সম্পূর্ণ দূরে থেকেও ভারতীয় দলকে সেয়ানে সেয়ানে টেক্কা দিয়েছেন তাঁর কোচিংয়ে থাকা রবি হাঁসদারা। সঞ্জয় সেন অত্যন্ত ব্যথিত ভারতীয় ফুটবলের এমন বিবর্ণ ছবি দেখে। জাতীয় দলের হাল ফেরাতে ভারতীয় কোচদের উপর আস্থা রাখুক ফেডারেশন। প্রস্তাব পেলে তিনিও সুনীল ছেত্রীদের কোচিং করাতে আগ্রহী। বছর সাতেক আগে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারতের ঠিক এক ধাপ উপরে ছিল উজবেকিস্তান। ভারতের মতোই সে দেশের ফুটবলও অন্তর্দ্বন্দ্বে দীর্ণ ছিল। মাঝের সাত বছর সব বদলে গেছে। উজ়বেকিস্তান র‌্যাঙ্কিংয়ে তরতর করে উপরের দিকে। প্রথম বার ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করে নিয়েছে। ছ’বছর আগে ৯৯তম স্থানে থাকা জর্ডনও পরের বছর বিশ্বকাপ খেলবে। ভারত নামতে নামতে এখন ১২৭-এ। তাইল্যান্ডের মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশের কাছেও হার। মঙ্গলে হংকংয়ের কাছে জঘন্য ফুটবল খেলে হার। এশিয়ান কাপে খেলাও দূর অস্ত।

মঙ্গলে এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে হংকংয়ের কাছে হেরে ভারতের পক্ষে এশিয়ান কাপও ধরাছোঁয়ার বাইরে। ভারতীয় ফুটবলের দুর্দশা? আই লিগজয়ী কোচের কথায়, “আমাদের আত্মসমীক্ষার দরকার আছে। কোচ নির্বাচন, সাপ্লাই লাইন, পরিকাঠামো, সব জায়গাতেই আমরা কিছু ভুল করে ফেলেছি। স্ট্রাইকারের অভাব বা অন্যান্য সমস্যা, এগুলো জেনেই তো কোচেরা দায়িত্ব নেন। আর তারপর বিভিন্ন অজুহাত দেন। ফলাফলের জন্য দীর্ঘ পরিকল্পনা দরকার। আমাদের তো তরুণ ফুটবলার তৈরি করতে হবে। সেই জায়গাটাতেই অভাব। সারা পৃথিবীতে জাতীয় দলের কোচ সেদেশের কোচেরাই হন। সেটার উদাহরণই সবচেয়ে বেশি। আমাদের দেশে দীর্ঘ ২০-৩০ বছর ধরে বিদেশি কোচ নিয়ে ফলাফল শূন্য। ফুটবল সংস্থাগুলোকে সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।” ফুটবলারদের দায়বদ্ধতা নিয়েও কিছু প্রশ্ন তুলেছেন সঞ্জয়। হংকং ম্যাচের আগে সন্তোষজয়ী বাংলার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল ভারত। সেই ম্যাচে হারলেও সঞ্জয়ের ছাত্ররা দারুণ লড়াই করেছিল জাতীয় দলের বিরুদ্ধে। ভারতীয় ফুটবলকে এই দুরাবস্থা থেকে টেনে তোলার জন্য ভারতীয় কোচদের উপরেই ভরসা রাখুক ফেডারেশন, এমনটাই চান সঞ্জয়। তবে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এখনও তাঁর কাছে কোনও প্রস্তাব আসেনি। যদি প্রস্তাব আসে তাহলে সুনীলদের কোচিং করাতে যথেষ্ট আগ্রহী সঞ্জয়।

বাংলার ফুটবলের জন্য তুলনামূলক ভাল। মোহনবাগান আইএসএল-এর লিগ-শিল্ড এবং কাপ জিতেছে, তেমন বাংলা জিতেছে সন্তোষ ট্রফি। ইস্টবেঙ্গল জিতেছে মহিলাদের আই লিগ। বাংলার ফুটবলের সুসময় হলেও ভারতীয় ফুটবলের আশা ক্রমশ কমছে। উদ্দীপনা আর নেই। জাতীয় দলের খেলা নিয়েও উৎসাহ নেই। কয়েক বছর ধরে এই অধঃপতন। কোচের পর কোচ আসছেন। সকলেই ব্যর্থ। রমরমা আইএসএল-এর। কিন্তু সেখান থেকে কোনও ফুটবলার উঠে আসছেন না, যিনি ভবিষ্যতে স্বপ্ন দেখাতে পারেন। সুনীল ছেত্রীর মতো চল্লিশের কোঠা ছুঁয়ে ফেলা ফুটবলারকে জাতীয় দলের হয়ে গোল করার জন্য অবসর ভেঙে ফিরতে হচ্ছে। বিস্ময়কর! অধঃপতনের কারণ একাধিক। তৃণমূল স্তরে ফুটবলার খোঁজায় ব্যর্থতা এবং দুর্বল পরিকাঠামো। ফুটবলবিশ্বের সফল দেশগুলির সাফল্যের নেপথ্যে কারণ, শক্তিশালী তৃণমূল স্তর অর্থাৎ, খুব ছোট বয়স থেকে ফুটবলার তুলে আনা এবং তাদের দেখাশোনার কাজ। এখানেই সবচেয়ে পিছিয়ে ভারত। এ দেশের ফুটবলে না আছে তৃণমূল স্তর থেকে ফুটবলার তুলে আনার উৎসাহ, না আছে প্রতিভা খোঁজার জন্য ‘স্কাউট’। না আছে ভাল মানের অ্যাকাডেমি, না আছে উন্নত মানের কোচিং। কোনও খুদে শিক্ষার্থী বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও সঠিক পরিকাঠামো এবং যন্ত্রপাতির অভাবে তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। আইএসএল-এর বিভিন্ন দল যেমন, রিলায়্যান্স, পাঞ্জাব, ওড়িশা, মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল যুব ফুটবলের দিকে বেশি করে নজর দিচ্ছে। ফেডারেশনের এলিট অ্যাকাডেমিগুলিও উদ্যোগ। আইএসএল-এ কোটি কোটি টাকার খেলা। সাধারণ মানের ফুটবলারেরাও বিরাট বেতন পান। ভারতীয় ফুটবলের কোনও উন্নতি হয় না। কারণ, বেশির ভাগ দলেই সাফল্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা থাকে বিদেশি ফুটবলারদের। বেশি বেতন তাঁরাই পান। বিদেশি নির্ভরতার কারণে দেশীয় ফুটবলারেরা নিজেদের প্রমাণ করার যথেষ্ট সুযোগও পান না। দ্বিতীয় সারির প্রতিযোগিতা আই লিগে কিছু দল অর্থ কম থাকায় দেশীয় ফুটবলার খেলানোর চেষ্টা করে। প্রতিভাবান ফুটবলার খোঁজার কেউ নেই। আইএসএল-এ অবনমন চালু না হওয়ায় খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মানসিকতার অভাব।

এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সম্ভাবনাও রীতিমতো ক্ষীণ সুনীলদের। লাগাতার ব্যর্থতার পর পদত্যাগ করতে পারেন ব্লু টাইগার্সদের কোচ মানোলো মারকুয়েজ। ভারতীয় ফুটবলে এমন কালো দিন এনে দেওয়ার জন্য ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণকেই দায়ী করেছেন বাইচুং। ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কল্যাণের কাছে হেরেছিলেন ‘পাহাড়ি বিছে’। এখন তাঁর অভিযোগ, দায়িত্বে থেকে ভারতীয় ফুটবলকে ধ্বংস করেছেন ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট। একটি সাক্ষাৎকারে বাইচুং বলেন, “ভারতীয় ফুটবলকে একেবারে শেষ করে দিয়েছে কল্যাণ চৌবে। এখনই ওর পদত্যাগ করে চলে যাওয়া উচিত। একের পর এক বিতর্ক, দুর্নীতি হচ্ছে। এত মাস কেটে যাওয়ার পরেও জানা নেই আই লিগ চ্যাম্পিয়ন কে? টেকনিক্যাল কমিটিকে উপেক্ষা করে মানোলোকে কোচ করা হল। তিনি এফসি গোয়ার সঙ্গেই জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলালেন। আসলে তৃণমূলস্তরে কোনও উন্নতি হচ্ছে না। মাঠের বাইরে কেবলই খারাপ খবর। সমস্ত কিছুর প্রভাব পড়ছে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে।” দুটোই বিকল্প আই লিগ জিতে এসো, নাহলে টাকা দিয়ে খেলো। ভারতের ঘরোয়া লিগ চলে ফ্র্যাঞ্চাইজ় মডেলে। উত্তরণ-অবনমন বা প্রোমোশন-রেলিগেশন নেই। গোটা বিশ্বের ফুটবল যে পদ্ধতিতে চলে, ভারতে তার উল্টো! ডেম্পো, চার্চিল ব্রাদার্সের মতো ভারতীয় ফুটবলের ঐতিহ্যশালী দলগুলো এখনও প্রথম সারির আইএসএল-এ খেলতে পারেনি। মিনার্ভা অ্যাকাডেমির কর্ণধার রঞ্জিত বজাজ ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, “১০০ কোটি টাকা খরচ করব, সব ট্রফি জিতব। তার পরেও আইএসএল-এ খেলতে পারব না! তা হলে টাকা নষ্ট করে লাভ কী?” আইএসএল ক্লাবগুলিকে প্রতি বছর ‘ফ্র্যাঞ্চাইজ়‌ি ফি’ বাবদ ১২-১৬ কোটি টাকা দিতে হয়। বদলে তারা লিগের লভ্যাংশ পায়। আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আইএসএল-এ যোগ্যতা অর্জন করলে সেই ‘ফ্র্যাঞ্চাইজ়‌ি ফি’ দিতে হয় না। তবে লভ্যাংশও পাওয়া যায় না। ২০২৩ সালে পঞ্জাব এফসি আই লিগ থেকে আইএসএল-এ আসার সময় ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি’ দিয়েছিল। ফলে তারা লভ্যাংশও পেয়েছে। ২০২৪-এ মহমেডান ‘ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি ফি’ দেয়নি, লভ্যাংশও পায়নি। দিন দিন খেলোয়াড়দের বেতন বাড়ছে। ক্লাব চালাতেও প্রচুর খরচ। লাভ না থাকলে দীর্ঘ দিন ক্লাব চালানো মুশকিল। এফসি পুণে সিটি, দিল্লি ডায়নামোজ়ের মতো ক্লাব উঠে গিয়েছে। হাতবদল হয়েছে হায়দরাবাদ এফসি-রও।

ইউরোপে প্রিমিয়ার লিগে উঠে লিড্‌স ইউনাইটেড আয় করেছে ভারতীয় মুদ্রায় ৫০০ কোটি টাকা। শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যোগ্যতা অর্জন করলেই ১৭০ কোটি টাকা আয় করা যায়। ভারতে আইএসএল-এর লাভ আসে স্পনসরশিপ, সম্প্রচার স্বত্ব এবং ম্যাচের দিন টিকিট বিক্রি থেকে। পারফরম্যান্সের জন্য আলাদা অর্থ না থাকায় কোনও দলই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে না। ভারতীয় ফুটবল পুরোপুরি বিদেশি কোচের উপর নির্ভরশীল। দেশীয় কোচেদের মান খারাপ। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য ভারতীয় কোচেদের কৌশল, তথ্যনির্ভর অনুশীলন এবং প্রতিটি ফুটবলার ধরে ধরে তার দিকে আলাদা নজর নেই। দেশীয় কোচেদের অমুক ডিগ্রি, তমুক ডিগ্রি থাকলেও আধুনিক ফুটবলে মস্তিষ্কের পাশাপাশি নিত্যনতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত নন। ডিগ্রির বড়াই করা কোচেরা শিক্ষা নিতে পারেন আইপিএল-এর দলগুলির কৌশল ঠিক করার জন্য সঠিক প্রযুক্তি এবং ব্যক্তিবিশেষের উপর নির্ভর। খারাপ ফল হলেই কোচ বদল। বব হাউটন, উইম কোভারমার্স, স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন, ইগর স্তিমাচ, মানোলো মার্কেজের মতো কোচদের নিজস্ব দর্শন, কঠিন দর্শন, ফুটবলারদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না ভারতীয় ফুটবল। ফলাফল ভারতীয় ফুটবল তলানিতে।

ভারতীয় দলে ২০ বছরের কমবয়সি ফুটবলারের অভিষেকের অভাব। ছ’বছর বয়স থেকে কোচিং শুরু করা প্রয়োজন। খেলাধুলো, ক্রীড়াবিজ্ঞান, পুষ্টি, ফিটনেস, পেশি শক্তিশালী, শারীরিক জোরে বাকিদের টেক্কা দেওয়া শেখাতে হবে ছোটবেলা থেকে। ভারতে বেশির ভাগ ফুটবলার আসেন দরিদ্র পরিবার থেকে। প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি। আফ্রিকা বা লাতিন আমেরিকার দেশগুলির খেলোয়াড়েরাও দরিদ্র পরিবার এলেও জিনগত ভাবে পেশির গঠন শক্তিশালী। ভারতে তা নেই। আন্তর্জাতিক স্তরে টিকে থাকতে গেলে শারীরিক সক্ষমতা দরকার। ফুটবলে ক্রীড়াবিজ্ঞানের গুরুত্ব এখানেই। এশিয়ায় জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরানের মতো শক্তিশালী দেশগুলি নিয়মিত নিজের দেশের ফুটবলারদের ইউরোপে খেলতে পাঠায়। ইউরোপের ক্লাবে তৃতীয় সারিতে খেলেও যে উপকার হয়, এশিয়ার ক্লাবে প্রথম সারিতে তা হয় না। এই মনোভাব ভারতে নেই। এখানে দেশের লিগে এত টাকা, যে বিদেশে খেলতে যাওয়ার আগ্রহ দেখায় না কেউ। বিদেশে টাকা কম, থাকা-খাওয়ার খরচ বেশি হলেও যে শিক্ষা পাওয়া যায় তা ভারত কেন, এশিয়ার সেরা দেশে খেলেও পাওয়া যাবে না। এত কিছু জানা সত্ত্বেও গুরপ্রীত সিংহ সান্ধুর মতো গোলকিপার নরওয়ের প্রথম সারির ক্লাব স্টেবায়েকে খেলেও ভারতে ফিরে আসেন বেশি অর্থের জন্য। মেন্টাল কন্ডিশনিং এবং চাপ সামলানোর দক্ষতা অর্থাৎ ফুটবলে মানসিক জোরও জরুরি। আধুনিক ফুটবলে দক্ষতার সঙ্গে ঠান্ডা মাথা, বুদ্ধি এবং মানসিক কাঠিন্য দরকার। ভারতের ফুটবলারদের মধ্যে মানসিক কাঠিন্যের অভাব। চাপের মুখে ভেঙে পড়েন। নিয়মিত মনোবিদের কাছে গিয়ে নিজেদের মানসিক অবস্থার কথা জানাতে হবে ফুটবলারদের। যতই দক্ষতা এবং টেকনিক থাকুক, মানসিকতা সঠিক না হলে সফল হওয়া সম্ভব নয়।

অর্থহীন ফ্রেন্ডলি ম্যাচ, আন্তর্জাতিক স্তর সম্পর্কে অজ্ঞতা। ভারতীয় খেলেছে, ভারতের থেকে ক্রমতালিকায় সামান্য উপরে বা নীচে থাকা দলের বিরুদ্ধে। গতি, টেকনিক এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও জরুরি। হংকং কিছু দিন আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে। আর ভারত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলার রাজ্য দল এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলা দলের সঙ্গে! ষাট বা সত্তরের দশকে এশিয়া দাপাত ভারতীয় ফুটবল। ক্রমশ পিছিয়ে যাওয়ার মূল কারণ অপেশাদারিত্ব। একের পর এক ‘ভিশন’, ‘টার্গেট’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। ফেডারেশনের কাজকর্মে পেশাদারিত্ব নেই। ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ নেই। রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার লড়াই, সঙ্কীর্ণ ভাবনাচিন্তা,দুর্নীতিতে শেষ ফেডারেশনের কাঠামো। ফেডারেশন কর্তাদের শেখার কোনও ইচ্ছা নেই! বর্তমান ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবের আমলে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ। ফল, ভারতীয় ফুটবলের ক্ষতি। সন্তোষ ট্রফির মতো প্রতিযোগিতার শেষ পর্ব সৌদি আরবে করে ফুটবলার এবং কিছু কর্তার বিদেশভ্রমণ। সভাপতি হওয়ার পর কল্যাণ বিভিন্ন দেশে ঘুরে সে দেশের ফুটবল সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছেন। কল্যাণ কথা, ‘‘যা করার জুনিয়র স্তরে করতে হবে। অনূর্ধ্ব ১৭ এবং অনূর্ধ্ব ২০ পর্যায়ে উন্নতি করতে না পারলে কিছু হবে না। শুধু সিনিয়র দল নিয়ে কাজ করে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি ঘটানো সম্ভব নয়। ভুবনেশ্বরে ফিফা অ্যাকাডেমি করেছি আমরা। খুব শীঘ্রই এ রকম আরও একটা অ্যাকাডেমি তৈরি হবে। আরও একটা কথা বলতে চাই। অন্য পজিশনে উন্নতি হলেও আমাদের দেশে ভাল স্ট্রাইকার নেই এখনও। সহজ কথা হল, জিততে গেলে তো গোল করতে হবে। তার জন্য ভাল স্ট্রাইকার দরকার। ক্লাব স্তরের সর্বোচ্চ দুটো প্রতিযোগিতা যদি দেখি, সেখানে ক’জন ভারতীয় স্ট্রাইকার খেলে? এই ছবিটা বদলানো দরকার।’’

হংকং থেকে ফিরেই গোয়াতে গিয়ে এফসি গোয়ার কর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক কথা বলে স্পেনে চলে গেলেন সদ্য ভারতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানো মানোলো মার্কেজ। স্পেনের বিমান ধরতে হবে বলে সময়ের অভাবে এফসি গোয়ার কর্তাদের জানিয়েছেন, দল নিয়ে স্পেনে পৌঁছনোর পর কথা বলে নেবেন। বুধে ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করার প্রক্রিয়াও আইনিভাবে সম্পন্ন করতে পারেননি। প্রথম বছর জাতীয় কোচ হিসেবে ফেডারেশনের সঙ্গে ম্যাচ অনুযায়ী শিবির ভিত্তিক চুক্তি হয় মানোলোর। ১ জুন থেকে টানা এক বছরের চুক্তি হবে মানোলো মার্কেজের সঙ্গে। সেইমতো এফসি গোয়া থেকে রিলিজ নিয়েছিলেন কোচ। কিন্তু কিছুদিনেই বুঝে যান এই দল নিয়ে বিশেষ কিছুই করতে পারবেন না তিনি। পাশাপাশি এফসি গোয়া এই মরশুমে এএফসি খেলবে। সঙ্গে সঙ্গে মত পরিবর্তন করে ফেডারেশন কর্তাদের জানিয়ে দেন, হংকং ম্যাচের পর তিনি আর জাতীয় দলের কোচ থাকবেন না। যোগ দেবেন গোয়াতে। সেইমতো এফসি গোয়ার কর্তাদের সঙ্গেও কথা বলে নেন। জানিয়ে দেন, ১ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত জাতীয় দলের কোচিং করলেও কোনও অর্থ নেবেন না তিনি। এমনকী হংকং ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগেও ফেডারেশন কর্তাদের পাশাপাশি দলের ফুটবলারদেরও মানোলো জানিয়ে দেন, হংকং ম্যাচের পর তিনি আর নেই। হংকং ম্যাচে হারের পর তাঁর পদত্যাগ নিয়ে ফেডারেশনকে সরকারিভাবে জানিয়ে দেন তিনি। একটা সময় পর্যন্ত ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবের পরিকল্পনা ছিল, কোচের সঙ্গে একই বিমানে দিল্লি চলে যাওয়া। সেখানে গিয়ে মানোলোকে বোঝানো, জাতীয় দলের কোচ হিসেবে থেকে যাওয়ার জন্য। কিন্তু হংকংয়ের বিরুদ্ধে হারের পর ফেডারেশনও ঠিক করে নেয়, মানোলোকে আর থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে না। মানোলো হংকং থেকে দুপুরে দিল্লি এসে সরাসরি গোয়া চলে যান। রাতেই স্পেনে চলে যাবেন বলে, এফসি গোয়ার কর্তারা চেয়েছিলেন চুক্তি নবীকরণ নিয়ে প্রাথমিক কথা বলে নিতে। তবে ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তি বিচ্ছিন্ন করা নিয়ে এখনও কিছু আইনি সমস্যা রয়েছে বলে ফেডারেশন কর্তারা আপাতত মানোলোর পদত্যাগ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। ১ জুন থেকে মানোলোর সঙ্গে টানা এক বছরের চুক্তি করে ফেডারেশন। চুক্তি অনুযায়ী কোনও এক পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে, যে চুক্তি ভাঙতে চাইবে, সেই পক্ষকে এক বছরের অর্থ ফেরত দিতে হবে। কিন্তু মানোলো আর ফেডারেশন যেহেতু নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে চুক্তি ভাঙছেন, তাই ঠিক হয়েছে, ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’ হবে। তারজন্য মানোলোকে লিখিত দিতে হবে, চুক্তি ভেঙে ফেডারেশনের রিলিজ নেওয়ার পর ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে অথবা ফেডারেশনের কারও বিরুদ্ধে কোনওরকম বিরূপ মন্তব্য করতে পারবেন না। বুধবার হংকং থেকে দিল্লি হয়ে যেহেতু সোজা গোয়া চলে যান, তাই সময়ের অভাবে ফেডারেশন কর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বিচ্ছিন্ন করা নিয়ে আইনি আলোচনাও ঠিকভাবে করতে পারেননি। ফেডারেশন কর্তারা ভেবেছিলেন, গোয়া পৌঁছনোর পর ফোনে মানোলোর সঙ্গে কথা বলে নেবেন। গোয়ার কর্তাদের সঙ্গে ব্যস্ত থাকার জন্য সময় বের করতে পারেননি মানোলো। স্পেনে পৌঁছনোর পর মানোলোর সঙ্গে কথা বলবে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। ১৩ জুন, শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন ফেডারেশনের।

ভারতের ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১২৭-এ নেমে যাওয়ার অর্থ শুধু পতন নয়। ফেডারেশন, ক্লাব, সরকার এবং অন্যান্য পক্ষকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তৃণমূল স্তরের উন্নতি, কোচিংয়ের উন্নতি, ঘরোয়া লিগের মান বাড়ানো, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং বিদেশে খেলার সুযোগ করে দেওয়া, শুধু গঠন এবং দৃষ্টিভঙ্গির রোগ সারিয়ে তোলা প্রয়োজন। ভারতীয় ফুটবলে প্রতিভার অভাব নেই। ভারতীয় ফুটবল মহল রীতিমতো বিধ্বস্ত। এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের তৃতীয় রাউন্ডের গ্রুপ সি-তে সবার শেষে রয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এমনকী বাংলাদেশও রয়েছে ভারতের উপরে। এ পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলে একটিতে ড্র অপরটিতে হারের মুখ দেখতে হয়েছে সুনীল ছেত্রীদের। অন্যদিকে বাংলাদেশও সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে সমান পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে। হংকং ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে তৃতীয় স্থানে। সিঙ্গাপুরও ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। তবে গোলপার্থক্য ভালো থাকায় তারা শীর্ষস্থানে। ভারত এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে হোম ম্যাচে ড্র করেছে এবং হংকংয়ের কাছে অ্যাওয়ে ম্যাচে হারের মুখ দেখেছে। এখনও সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ, হংকংয়ের বিরুদ্ধে হোম ম্যাচ এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। এশিয়ান কাপে খেলতে হলে শেষের এই চার ম্যাচের চারটিই জিততে হবে সুনীল ছেত্রীদের। সেটা হলে ১৩ পয়েন্টে পৌছবে ভারতীয় দল। ভারত সবকটা ম্যাচ জিতলে হংকং ছাড়া আর কোনও দল ১৩ পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। সেক্ষেত্রে হংকংয়ের থেকে ভালো গোলপার্থক্য থাকতে হবে ভারতের। তাহলেই গ্রুপে শীর্ষে থেকে ভারত চলে যাবে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে। ভারত কোনওভাবেই শেষ চার ম্যাচে আর পয়েন্ট নষ্ট করতে পারবে না। বস্তুত প্রতিপক্ষের যা মান তাতে পয়েন্ট নষ্ট করার কথাও নয়। তবে এরপর যদি ভারতীয় দল পয়েন্ট নষ্ট করে তাহলে অন্যান্য দলের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে সুনীল ছেত্রীদের। এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সম্ভাবনাও রীতিমতো ক্ষীণ সুনীলদের। সম্ভাবনা শূন্য?‌ শূন্য থেকে মহাশূন্যের পথে ভারতীয় ফুটবল!‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles