নারীদের যৌন আকাঙ্ক্ষার কোনও নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। ইচ্ছা, পরিস্থিতি এবং মনোভাবের উপর নির্ভর করে তা পরিবর্তিত হতে পারে। সমাজে এই বিষয়ে সচেতনতা ও ইতিবাচক আলোচনা বাড়লে নারীর যৌনতা নিয়ে ভুল ধারণাগুলো দূর হবে, আর যৌন স্বাস্থ্য ও সম্পর্ক হবে আরও পরিপূর্ণ ও অর্থবহ। মহিলাদের যৌন ইচ্ছা নিয়ে সমাজে নানা রকম ধারণা প্রচলিত থাকলেও সাম্প্রতিক গবেষণা এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আকাঙ্ক্ষা থেমে যায় না। বরং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তা ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। তরুণ ও মধ্য বয়সে, বিশেষ করে ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, অনেক নারী যৌন আকাঙ্ক্ষার শিখরে পৌঁছান। হরমোনের স্বাভাবিক মাত্রা, মানসিক আত্মবিশ্বাস এবং শরীরের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব—এসব কিছু মিলে এই বয়সে যৌন চাহিদা অনেক বেশি থাকে। এ সময় নারী নিজেকে আরও ভালোভাবে জানতে পারেন এবং যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। ৪০-এর পরে, যখন শরীরে প্রাক-মেনোপজ এবং মেনোপজের পরিবর্তন দেখা দেয়, তখন অনেক নারী হরমোনজনিত কারণে যৌন ইচ্ছায় সামান্য ঘাটতি অনুভব করতে পারেন। যোনি শুষ্কতা, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা বা মানসিক উদ্বেগ এ সময় যৌন সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। তবে গবেষণা বলছে, এই সময়েও বহু নারী স্বাভাবিক যৌন জীবন উপভোগ করেন এবং কেউ কেউ এমনকি আগের তুলনায় বেশি মানসিক স্বাধীনতা এবং ঘনিষ্ঠতা অনুভব করেন। সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব কমে যাওয়া ও নিজস্ব সময় বাড়ার ফলে তাঁরা নিজেদেরকে আরও উদারভাবে প্রকাশ করতে পারেন। পঞ্চাশ, ষাট এমনকি সত্তরের দশকেও অনেক নারী যৌনভাবে সক্রিয় থাকেন। শারীরিক সম্পর্ক এখানে শুধুমাত্র যৌন চাহিদার বিষয় নয়, বরং মানসিক ঘনিষ্ঠতা, সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানো, ভালোবাসা ও বন্ধনের এক রকম প্রকাশ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, যৌন জীবনকে যারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন, তাঁদের মধ্যেই যৌন ইচ্ছা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকে। আকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করে অনেকগুলো বিষয়—হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন, শারীরিক অসুস্থতা বা ওষুধের প্রভাব। আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে যৌনতাকে তেমন গুরুত্ব না-ও দিতে পারেন, সেটিও একধরনের স্বাভাবিক মানসিকতা।
গর্ভাবস্থায় সহবাস নিয়ে নানা ধরণের ভুল ধারণা এবং ভীতি সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত। বিশেষ করে গর্ভধারণের প্রথম এবং শেষ তিন মাসে সহবাস করলে সন্তানের ক্ষতি হতে পারে—এমন আশঙ্কা অনেকের মধ্যেই কাজ করে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এই ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি গর্ভাবস্থা স্বাভাবিক এবং জটিলতামুক্ত হয়, আর চিকিৎসকের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তবে সহবাস সম্পূর্ণ নিরাপদ। এতে গর্ভের শিশুর ক্ষতির কোনও আশঙ্কা থাকে না। চিকিৎকদের মিতে, অনেকেই সহবাসের ইচ্ছা ও অভ্যাসে পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন, যা একেবারেই স্বাভাবিক। এটি নিয়ে দম্পতির মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হওয়া জরুরি। কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যেমন ভারী রক্তপাত, জরায়ুমুখের দুর্বলতা, প্লাসেন্টা প্রিভিয়া বা আগের গর্ভধারণে সময়ের আগেই সন্তান প্রসব হলে, সহবাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে সহবাস করলে জরায়ুতে হালকা সংকোচন বা “Braxton Hicks” অনুভূত হতে পারে, যা স্বাভাবিক এবং প্রসবের সংকেত নয় বলেও জানান চিকিৎসকেরা।সহবাসের ভঙ্গিমা নিয়েও সাবধানতা জরুরি। পেটের চাপ এড়িয়ে কাত হয়ে কিংবা অন্যান্য আরামদায়ক অবস্থানে সহবাস করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি এড়াতে নিরোধ ব্যবহারের দিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় উচ্চতা সামান্য বেড়ে যায়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে এর পেছনে। আসলে ঘুমের সময়, শরীর দীর্ঘক্ষণ শায়িত অবস্থায় থাকে বলে মেরুদণ্ডে চাপ কমে যায়। মেরুদণ্ডের কশেরুকার মধ্যে একটি ধরনের অর্ধতরল পদার্থ বা “ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্ক” থাকে, যা দিনের বেলায় দাঁড়িয়ে বা বসে থাকার সময় চাপের কারণে সংকুচিত হয়। কিন্তু রাতে, সেই চাপ না থাকায় এই ডিস্কগুলির মধ্যে তরল আবার ছড়িয়ে পড়ে এবং ফাঁকা জায়গাগুলি একটু প্রসারিত হয়। এর ফলেই সকালে উচ্চতা বাড়ে প্রায় ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত। দিনের কাজকর্ম শুরু হওয়ার পর, মাধ্যাকর্ষণের টানে আবার সেই ফাঁকাগুলি চেপে যায়, উচ্চতা আগের অবস্থায় ফিরে আসে। অর্থাৎ, সকালে উঠে নিজেকে একটু লম্বা লাগলেও, সেটা শুধু সাময়িক শরীরের ভেতরের এক স্বাভাবিক ও নিঃশব্দ পরিবর্তন। দীর্ঘস্থায়ী ভাবে লম্বা হওয়ার পদ্ধতি নয় এটি। গম্ভীর গলা না কি বিশাল অণ্ডকোষ। একসঙ্গে দুটোই পাওয়া কঠিন হাওলার বানরের জন্য। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে প্রজাতির হাওলার বানরের গলা যত গম্ভীর ও জোরালো, তাদের অণ্ডকোষ ততই ছোট। আর যাদের অণ্ডকোষ বড়, তাদের ডাক অপেক্ষাকৃত কোমল। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী জ্যাকব ডান ও তাঁর সহকর্মীদের গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। তারা ৯টি প্রজাতির ১৪৪টি হাওলার বানরের হাড় এবং পূর্বে রেকর্ড করা ডাক বিশ্লেষণ করে দেখেছেন বড় হাইয়য়েড হাড় (যা গলার আওয়াজ নির্ধারণ করে) মানে বেশি আওয়াজ, কিন্তু তুলনায় ছোট অণ্ডকোষ। অন্যদিকে, বড় অণ্ডকোষযুক্ত বানরদের ডাক অনেকটাই দুর্বল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে একটি বিবর্তনমূলক শক্তি বণ্টনের কৌশল। যেসব প্রজাতির পুরুষ বানর এককভাবে বা ছোট দলে থাকে, তারা বাইরের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হুমকি দিতে উচ্চস্বরে ডাকে, যাতে নিজের গোষ্ঠীর মেয়েদের একচেটিয়া ভাবে পায়। তাদের বেশি শুক্রাণু উৎপাদনের প্রয়োজন পড়ে না। আর যেসব প্রজাতিতে একাধিক পুরুষ একসঙ্গে থাকে, সেখানে ডাক নয় প্রজনন প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য দরকার বেশি শুক্রাণু, তাই বড় অণ্ডকোষই সেখানে কার্যকর। গবেষণা আরও একবার দেখিয়ে দিল, প্রাণীরা যৌন সাফল্যের জন্য কত বিচিত্রভাবে নিজেদের শরীর ও শক্তির ব্যবহার করে। কারও অস্ত্র আওয়াজ, কারও আবার নীরব সঞ্চয়।
ভুল অন্তর্বাস পরেই বাড়ছে পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব! প্রতিদিন ঘুমোনো, খাওয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ নিয়মিত অন্তর্বাস বদলানো। এটা কমবেশি আমাদের সকলের জানা। সে পুরুষ হোক বা মহিলা, নিয়ম করে অন্তর্বাস বদলানোটা প্রয়োজনীয়। অন্তর্বাস বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও একেক জনের একেক রকম পছন্দ থাকে। কেউ খুব টাইট ফিটিং অন্তর্বাস পছন্দ করেন। কেউ পছন্দ করেন একটু ঢিলেঢালা অন্তর্বাস। কিন্তু বিষয়টাকে যতটা হালকা ভাবে নেওয়া হয় ততটাও কিন্তু হালকা নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভুল অন্তর্বাস বেছে নেওয়ার কারণে বড় বিপদে পড়তে পারেন পুরুষরা। গবেষণা বলছে এমনকি পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে ভুল অন্তর্বাস। হিউম্যান রিপ্রোডাকশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষ ঢিলেঢালা-ফিট বক্সার বা শর্টস পরেন, তাঁদের শুক্রাণুর ঘনত্ব টাইট অন্তর্বাস পরা পুরুষদের তুলনায় বেশি। বিশেষজ্ঞরা কিন্তু জানাচ্ছেন, ভুল অন্তর্বাস বেছে নেওয়ার কারণে বড় বিপদে পড়তে পারেন পুরুষরা। গবেষণা বলছে এমনকি পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে ভুল অন্তর্বাস। হিউম্যান রিপ্রোডাকশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষ ঢিলেঢালা-ফিট বক্সার বা শর্টস পরেন, তাঁদের শুক্রাণুর ঘনত্ব টাইট অন্তর্বাস পরা পুরুষদের তুলনায় বেশি। গবেষণা অনুসারে যেসব পুরুষ টাইট-ফিটিং অন্তর্বাস পছন্দ করেন তাঁদের মধ্যে তুলনায় ফলিকেল-উত্তেজক হরমোনের মাত্রাও বেশি ছিল। যেহেতু এই হরমোন শুক্রাণু উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে, গবেষকদের অনুমান এগুলি অণ্ডকোষকে শুক্রাণু উৎপাদনে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করে। সেক্ষেত্রে শুক্রাণুর ঘনত্ব কম হলেও বেশি পরিমাণে শুক্রাণু উৎপাদন খানিকটা হলেও সেই ক্ষতি পূরণ করার চেষ্টা করে। ওই গবেষণা অনুসারে যেসব পুরুষ টাইট-ফিটিং অন্তর্বাস পছন্দ করেন তাঁদের মধ্যে তুলনায় ফলিকেল-উত্তেজক হরমোনের মাত্রাও বেশি ছিল। যেহেতু এই হরমোন শুক্রাণু উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে, গবেষকদের অনুমান এগুলি অণ্ডকোষকে শুক্রাণু উৎপাদনে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করে। সেক্ষেত্রে শুক্রাণুর ঘনত্ব কম হলেও বেশি পরিমাণে শুক্রাণু উৎপাদন খানিকটা হলেও সেই ক্ষতি পূরণ করার চেষ্টা করে। হার্ভার্ডের টিএইচ চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের গবেষণা বিজ্ঞানী লিডিয়া মিঙ্গুয়েজ-আলারকন জানান, অন্তর্বাসের পছন্দ শুক্রাণু উৎপাদনকে প্রভাবিত করে কিনা তা বেশ কয়েক বছর ধরে গবেষণার বিষয়। এই গবেষণাতে উঠে এসেছে কী ভাবে পুরুষের অন্তর্বাস নির্বাচন তার অণ্ডকোষের কার্যকারিতাকে বিভিন্ন উপায়ে প্রভাবিত করে। হার্ভার্ডের টিএইচ চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের গবেষণা বিজ্ঞানী লিডিয়া মিঙ্গুয়েজ আলারকন জানান, অন্তর্বাসের পছন্দ শুক্রাণু উৎপাদনকে প্রভাবিত করে কিনা তা বেশ কয়েক বছর ধরে গবেষণার বিষয়। এই গবেষণাতে উঠে এসেছে কী ভাবে পুরুষের অন্তর্বাস নির্বাচন তার অণ্ডকোষের কার্যকারিতাকে বিভিন্ন উপায়ে প্রভাবিত করে। আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিন অনুসারে, বীর্য বিশ্লেষণ (স্পার্ম অ্যানালিসিস) হল একজন পুরুষের বীর্যপাতের একটি মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা। পরীক্ষার পরামিতিগুলির মধ্যে রয়েছে বীর্যের পরিমাণ (অর্গ্যাজমের সময় একজন পুরুষ কতটা তরল বীর্যপাত করে), শুক্রাণুর সংখ্যা (প্রতি নমুনায় মোট শুক্রাণুর সংখ্যা), শুক্রাণুর ঘনত্ব (প্রতি মিলিলিটারে শুক্রাণুর সংখ্যা), শুক্রাণুর গতিশীলতা (চলমান শুক্রাণুর সংখ্যা), এবং শুক্রাণুর রূপবিদ্যা (শুক্রাণু সঠিক আকার এবং আকৃতির কিনা)। আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিন অনুসারে, বীর্য বিশ্লেষণ (স্পার্ম অ্যানালিসিস) হল একজন পুরুষের বীর্যপাতের একটি মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা। পরীক্ষার পরামিতিগুলির মধ্যে রয়েছে বীর্যের পরিমাণ (অর্গ্যাজমের সময় একজন পুরুষ কতটা তরল বীর্যপাত করে), শুক্রাণুর সংখ্যা (প্রতি নমুনায় মোট শুক্রাণুর সংখ্যা), শুক্রাণুর ঘনত্ব (প্রতি মিলিলিটারে শুক্রাণুর সংখ্যা), শুক্রাণুর গতিশীলতা (চলমান শুক্রাণুর সংখ্যা), এবং শুক্রাণুর রূপবিদ্যা (শুক্রাণু সঠিক আকার এবং আকৃতির কিনা)। মিঙ্গুয়েজ-আলার্কন জানান, যদিও বীর্য নমুনার বিশ্লেষণ পুরুষের বন্ধ্যাত্ব নির্ণয়ের প্রথম ধাপ। এটি চূড়ান্ত নয়। এই গবেষণার জন্য, তিনি এমন পুরুষদের বেছে নেন যাঁরা ২০০০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। ১৮ থেকে ৫৬ বছর বয়সী, প্রতিটি পুরুষ বীর্য এবং রক্তের নমুনা উভয়ই সরবরাহ করেন। তাদের অন্তর্বাস সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেন। মিঙ্গুয়েজ-আলার্কন জানান, যদিও বীর্য নমুনার বিশ্লেষণ পুরুষের বন্ধ্যাত্ব নির্ণয়ের প্রথম ধাপ। এটি চূড়ান্ত নয়। এই গবেষণার জন্য, তিনি এমন পুরুষদের বেছে নেন যাঁরা ২০০০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। ১৮ থেকে ৫৬ বছর বয়সী, প্রতিটি পুরুষ বীর্য এবং রক্তের নমুনা উভয়ই সরবরাহ করেন। তাদের অন্তর্বাস সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেন। ৬৫৬ জন পুরুষের মধ্যে, অর্ধেকেরও বেশি জানান যে তাঁরা সাধারণত বক্সার শর্টস পরতেন। এই সব পুরুষদের মধ্যে ক্লিঙ-ফিট অন্তর্বাস পরা, গরম জলে স্নান করার ধাত বেশি ছিল। অনান্য অভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ সব বিবেচনা করার পর গবেষকরা দেখেন, ঢিলেঢালা অন্তর্বাস পরা পুরুষদের মধ্যে শুক্রাণুর ঘনত্ব ২৫% বেশি, শুক্রাণুর সংখ্যা ১৭% বেশি, গতিশীল শুক্রাণু ৩৩% বেশি এবং ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোনের মাত্রা ১৪% কম ছিল। ৬৫৬ জন পুরুষের মধ্যে, অর্ধেকেরও বেশি জানান যে তাঁরা সাধারণত বক্সার শর্টস পরতেন। এই সব পুরুষদের মধ্যে ক্লিঙ-ফিট অন্তর্বাস পরা, গরম জলে স্নান করার ধাত বেশি ছিল। অনান্য অভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ সব বিবেচনা করার পর গবেষকরা দেখেন, ঢিলেঢালা অন্তর্বাস পরা পুরুষদের মধ্যে শুক্রাণুর ঘনত্ব ২৫% বেশি, শুক্রাণুর সংখ্যা ১৭% বেশি, গতিশীল শুক্রাণু ৩৩% বেশি এবং ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোনের মাত্রা ১৪% কম ছিল।
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জল খাওয়ার অভ্যাস আপনার শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। প্রতিদিন শরীরকে সুস্থ রাখতে নির্দিষ্ট পরিমাণে জল খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। জল শরীর থেকে টক্সিন দূর করে, হজমে সহায়তা করে এবং কিডনিকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। জলস্বল্পতা থেকে ডিহাইড্রেশন, ক্লান্তি এবং নানা রোগ দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রায় ৩ থেকে ৪ লিটার জল খাওয়া উচিত। তবে এই চাহিদা ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হতে পারে। সহজভাবে বলতে গেলে, প্রস্রাবের রঙ দেখে বোঝা যায় শরীরে জলের প্রয়োজন মিটছে কি না। দাঁড়িয়ে জল খাওয়া। বিপদের কারণ। চটজলদি তেষ্টা মেটাতে দাঁড়িয়ে জল খাওয়ার অভ্যাস অনেকের। চিকিৎসকদের মতে, দাঁড়িয়ে জল খেলে জলের প্রবাহ খুব দ্রুত শরীরে প্রবেশ করে, ফলে হজমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এতে স্নায়ুতন্ত্রের উপরও চাপ পড়ে। আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের মতে, দাঁড়িয়ে জল খেলে শরীরের জয়েন্টে জল জমার আশঙ্কা থাকে, যা পরবর্তীতে বাতজনিত সমস্যা ডেকে আনতে পারে। এমনকি শরীরের জলীয় ভারসাম্য নষ্ট হয়ে জয়েন্টে ব্যথা বাড়তে পারে। শুয়ে জল খাওয়া আরও বিপজ্জনক। অনেকে আবার শুয়ে শুয়ে জল খাওয়ার অভ্যাস করেন, যা আরও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, এইভাবে জল খেলে শ্বাসনালিতে জল ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা থেকে শ্বাসকষ্ট পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বসে জল খাওয়া শরীরের জন্য সবচেয়ে ভালো। এতে জল ধীরে ধীরে শরীরে প্রবেশ করে এবং হজমে সহায়ক হয়। শরীর সুস্থ রাখতে জল খাওয়া জরুরি, তবে তার সঙ্গে সঠিক পদ্ধতিও মাথায় রাখা প্রয়োজন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে জল খান এবং চেষ্টা করুন বসে থেকে ধীরে ধীরে পান করতে। জীবন বাঁচায় জল। তবে পান করুন সচেতনতার সঙ্গে।
হার্ভার্ড হেলথ থেকে বিজ্ঞান পত্রিকা জার্নাল অব ইমিউনোলজি, এমন সব বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান অন্তত জানাচ্ছে তেমনটাই। তথাকথিত ‘ভদ্র’ সমাজে এই সব আচরণকে অশোভন, নোংরা কিংবা অভদ্র বলে মনে করা হয়। কিন্তু জানেন কি, এই ‘নোংরা’ অভ্যাসগুলির মধ্যেই লুকিয়ে আছে শরীরের উপকার? নাক খোঁটা কথাটা অস্বস্তিকর। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, নাক খোঁটা বা শিশুদের সর্দি চেটে ফেলার মধ্যে লুকিয়ে আছে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির চাবিকাঠি। অস্ট্রিয়ায় একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নাকের ভিতরের মিউকাসে থাকা ব্যাকটেরিয়া শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে আরও সক্রিয় করে তোলে। উচ্চস্বরে ঢেকুর তোলা। রেস্তোরাঁয়, অফিসে বা প্রেমিকার সামনে ঢেকুর তোলা ‘সামাজিক অপরাধ’। কিন্তু চিকিৎসাশাস্ত্র বলছে, নিয়মিত ঢেকুর হজমের পক্ষে ভাল। এটি পাকস্থলীর ভেতরে গ্যাসের চাপ কমায়, অ্যাসিড রিফ্লাক্স প্রতিরোধ করে এবং খাদ্যনালির অস্বস্তি কমায়। খালি পায়ে হাঁটা। খালি পায়ে হাঁটলে রাস্তার ধুলো, পাথর, জীবাণু লেগে যায়। একথা অসত্য নয়। কিন্তু একে ডাক্তারি পরিভাষায় বলা হয় ‘আর্থিং’ বা ‘গ্রাউন্ডিং’। মাটি স্পর্শ করলে শরীর প্রাকৃতিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে যা স্ট্রেস হরমোন কমায়, ঘুম ভাল করে, এমনকি হৃদযন্ত্রকেও সুস্থ রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে অন্তত ১৫ মিনিট খালি পায়ে ঘাসে হাঁটলে মন ও শরীর দুই-ই প্রশান্ত থাকে। ঘাম ঝরানো, যতই দুর্গন্ধ। অনেকেই অতিরিক্ত ঘাম নিয়ে বিব্রত হন। ঘাম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া এটি টক্সিন বার করার প্রাকৃতিক রাস্তা। ঘামের মাধ্যমে ভারী ধাতু (যেমন সীসা, পারদ) এবং অপ্রয়োজনীয় লবণ শরীর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তার থেকেও বড় কথা, ঘাম শরীরের প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। মানে, এতে উপস্থিত পেপটাইড নানা রোগজীবাণুকে ধ্বংস করতে সক্ষম। জোরে হাই তোলা: অলসতার চিহ্ন নয়, বরং ব্রেন কুলিং মেকানিজম। হাই তোলা শুধু ক্লান্তির বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি আসলে মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখার একটি স্বাভাবিক পদ্ধতি? নিউরোসায়েন্টিস্টরা বলছেন, হাই তোলার সময় মুখ বড় করে খোলার ফলে ঠান্ডা বাতাস শরীরে পৌঁছয়, এর প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কেও, যা অতিরিক্ত উত্তাপ কমায়।
মৌমাছি পৃথিবীর সবচেয়ে উপকারী পতঙ্গদের মধ্যে অন্যতম। মধুর বহুমুখী উপকারিতা সম্পর্কে প্রায় সকলেই অবগত। কিন্তু জানেন কি মধু ছাড়াও মৌমাছি এমন একটি খাদ্য তৈরি করে যা অত্যন্ত উপকারী। জিনিসটির নাম ‘বি ব্রেড’। একে বাংলায় বলা হয় ‘মৌরুটি’ বা ‘মধুভৃত’। মধুচক্রে মৌমাছিরা পরাগরেণু, মধু ও তাদের নিঃসৃত উৎসেচক মিশিয়ে যে খাদ্য তৈরি করে তাকেই মৌরুটি বলে। মৌচাকে এটি ক্ষুদে মৌমাছিদের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে মানুষের জন্যও এটি একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর। প্রাকৃতিক প্রোটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিডের উৎস। মৌরুটি প্রায় ৩০% প্রোটিন ও নানা রকম অ্যামিনো অ্যাসিডে ভরপুর। এই প্রোটিন শরীরের কোষ পুনর্গঠন, পেশি গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যাঁরা নিরামিষ খান, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। বি ব্রেড-এ রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড ও পলিফেনল নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের কোষে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়ে। ফলে ক্যানসার প্রতিরোধ, বার্ধক্য রোধ ও চামড়া সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। হজমক্ষমতা উন্নত করে। মৌরুটিতে থাকে প্রাকৃতিক উৎসেচক, যা হজমের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়। গ্যাসের সমস্যা, অ্যাসিডিটি বা বদহজমের সমস্যায় এটি আরাম দিতে পারে। রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোধে সহায়ক। মৌরুটি আয়রন, ফোলেট ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সে সমৃদ্ধ। যাঁরা রক্তস্বল্পতায় ভোগেন, তাঁদের জন্য এটি রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে একটু কার্যকর প্রাকৃতিক বিকল্প হতে পারে। প্রাকৃতিক শক্তিবর্ধক। বি ব্রেড প্রাকৃতিক শর্করা, খনিজ ও ভিটামিনে পরিপূর্ণ, যা ক্লান্তি দূর করে ও দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। কফি বা এনার্জি ড্রিঙ্কের পরিবর্তে এটি খেলে সারাদিন ঘোড়ার মতো শক্তি থাকবে শরীরে। মৌমাছি বা পরাগরেণুতে অ্যালার্জি থাকলে খাদ্য গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি এটি অল্প খাওয়াই ভাল।
রোজের চরম ব্যস্ততা। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডান আত্মীয়-পরিজনকে এড়িয়ে চলতে পারলেই ভাল হয়। মনোবিদেরা বলেন, ক্লান্তি, অবসাদ আর হতাশা যখন মন জুড়ে থাকে, তখন তার থেকেই বিচ্ছিন্নতাবোধ জন্মায়। মন বিষণ্ণ হয়ে থাকে। কোনও কিছুতেই উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকে না। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ডিসোসিয়েটিভ ডিজ়অর্ডার’ বলা হয়। আর যখন ছোটখাটো সব বিষয়েই উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বাড়ে, তখন তা থেকে হয় ‘অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার’। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে যোগব্যায়ামকেই আদর্শ বলে মনে করেছেন গবেষকেরা। সেতুবন্ধাসন বা ব্রিজ় পোজ। ম্যাটের উপর টানটান হয়ে শুয়ে দুই হাঁটু ভাজ করতে হবে। এর পর পিঠ ও কোমরে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে কোমর উপরে তুলতে হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ওই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসতে হবে। মন ভাল রাখার পাশাপাশি মেদ কমাতে, পিঠের ব্যথা নিরাময়েও উপযোগী এই আসন। হাঁটু মুড়ে গোড়ালির উপর বসতে হবে। তার পর কোমর থেকে শরীরের উপরের অংশ সামনের দিকে হেলিয়ে দিন। শরীরটা এমন ভাবে ঝুঁকিয়ে আনুন, যাতে বুক ঊরুতে গিয়ে ঠেকে। মাথা ম্যাটের উপরে ঠেকিয়ে হাত দু’টি সামনের দিকে প্রসারিত করে দিন। শ্বাস স্বাভাবিক রেখে ওই ভঙ্গিতে ৩০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে। এই আসন অন্তত তিন সেট করতে হবে। বিপরীত করণী বা লেগ-আপ ওয়াল পোজ। চিত হয়ে শুয়ে দু’পা একত্রে সোজা করে মাটি থেকে উপরে তুলতে চেষ্টা করুন। হাতে ভর দিয়ে কোমর ধীরে ধীরে উপর দিকে তুলতে চেষ্টা করুন। শরীরের ভঙ্গি অনেকটা সর্বাঙ্গাসনের মতো হবে। তবে দুই পা ৯০ ডিগ্রিতে না রেখে সামান্য হেলিয়ে রাখতে হবে। শুরুতে দেওয়ালে ভর দিয়ে আসনটি অভ্যাস করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে কোমর থেকে পা উপর দিকে তুলে দেওয়ালে রাখতে হবে।উত্তনাসন বা স্ট্যান্ডিং ফরোয়ার্ড ফোল্ড। ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ানো। কোমর, পিঠ থাকবে টান টান। এ বার কোমর থেকে শরীর ঝুঁকিয়ে দুই হাতের তালু দিয়ে মাটি স্পর্শ করার চেষ্টা করতে হবে। তবে হাঁটু ভাঙলে হবে না। শরীরচর্চা করার অভ্যাস না থাকলে খুব বেশি ক্ষণ এই অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন না। মোটামুটি ১০ সেকেন্ড মতো থেকে আবার প্রথম অবস্থানে ফিরে আসা। মার্জারাসন। প্রথমে মাটিতে দুই পা এবং হাতের উপর ভর দিয়ে বিড়ালের মতো ভঙ্গি। পিঠ উঁচু করে মাথা ঝুঁকিয়ে শ্বাস, আবার পেট ঢুকিয়ে শ্বাস ছাড়া। এই আসন অভ্যাস ৫ বার করে অন্ততপক্ষে ৫ মিনিট।




