মহাকাশযাত্রা আবার পিছিয়ে গেল। ভারতের শুভাংশু শুক্লা। সঙ্গে চার মহাকাশচারী। পঞ্চম বার বাধার মুখে পড়ল যাত্রা। বুধে ভারতীয় সময় বিকেলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র অর্থাৎ আইএসএসএর উদ্দেশে পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল শুভাংশুদের। ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের তৈরি ‘ড্রাগন’ মহাকাশ যানে চেপে আমেরিকার ফ্লরিডা থেকে যাত্রা শুরুর কথা। স্পেসএক্সের তরফে মহাকাশযাত্রা পিছোনেরর কারণ ব্যাখ্যা মাস্কের সংস্থার। বুধ সকালে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে শুভাংশুদের মহাকাশযাত্রা পিছোনোর বিষয়টি জানিয়ে মাস্কের সংস্থার তরফে জানানো হয়, মহাকাশযাত্রার ফ্যালকন-৯ রকেটে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে শুভাংশুদের যাত্রা আপাতত স্থগিত করা হচ্ছে। উৎক্ষেপণের নতুন তারিখ প্রযুক্তিগত সমস্যা মেটানোর পরেই ঘোষণা করা হবে। রকেটে সমস্যা? স্পেসএক্সের জানাচ্ছে, উৎক্ষেপণের আগে মহাকাশযানের ‘ফায়ার বুস্টার’ পরিদর্শনের সময় দেখা যায় যে রকেটে ‘এলওএক্স’ লিক করছে। অর্থাৎ রকেটে অক্সিজেন লিক করছে। ফ্যালকন-৯ রকেটের এই সমস্যা নতুন নয়। আগের অভিযানেই অক্সিজেন লিকের সমস্যাটা নজরে আসে। সেই সমস্যার কারণেই এ বারও শুভাংশুদের মহাকাশযাত্রা পিছিয়ে দিতে হল স্পেসএক্সের। মঙ্গলে মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু ও তাঁর তিন সঙ্গীর। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে পিছিয়ে যায় যাত্রার দিনক্ষণ। বুধবারের যাত্রা নিয়েও সংশয় ছিল। অক্সিজেন লিকের সমস্যা ভাবাচ্ছিল বিজ্ঞানীদের। শেষপর্যন্ত সেই সমস্যার কারণেই পঞ্চম বারের জন্য পিছিয়ে গেল শুভ্রাংশুদের মহাকাশযাত্রা।
প্রজাপতি পাখা মেলত ২৩ কোটি বছর আগেও! প্রত্নতাত্ত্বিক বিষ্ঠা পরীক্ষা করতে করতেই আবিষ্কার, অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানে পাইলটের ভূমিকায় রয়েছেন শুভাংশু। রাকেশ শর্মার চার দশক পরে মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার কথা কোনও ভারতীয়। অ্যাক্সিয়ম স্পেস নামে আমেরিকার একটি বেসরকারি সংস্থার মহাকাশ অভিযানে ছাড়পত্র দিয়েছে নাসা। সেই অভিযানেই যাওয়ার কথা শুভাংশুদের। ১৪ দিন আইএসএসে থেকে, বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা চালাবেন। নাসা এবং ইসরোর যৌথ উদ্যোগে দলটি এই কাজ করবে। ভবিষ্যতে ইসরোর গগনযান প্রকল্পের অধীনে যে অভিযানের ভিত্তিও স্থাপন করবেন শুভাংশু। অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানে পাইলটের ভূমিকায় রয়েছেন শুভাংশু। রাকেশ শর্মার চার দশক পরে মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন কোনও ভারতীয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র আইএসএসএর উদ্দেশে পাড়ি দিতে চলেছেন ভারতের শুভাংশু শুক্লাসহ চার মহাকাশচারী। ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার সময়ে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেস এক্সের তৈরি ‘ড্রাগন’ মহাকাশ যানে চেপে আমেরিকার ফ্লরিডা থেকে যাত্রা শুরু করবেন। আইএসএসে গিয়ে করবেন সাত পরীক্ষানিরীক্ষা। ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ও যান্ত্রিক ত৭রুটের কারণে মোট চার বার পিছিয়ে গিয়েছে শুভাংশুদের মহাকাশ যাত্রা। এ বারও অনিশ্চয়তা। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা এবং ইসরোর যৌথ অভিযান অ্যাক্সিয়ম-৪-এ বাদ সাধতে পারে আবহাওয়া। যান্ত্রিক সমস্যাও রয়েছে। শুভাংশুদের মহাকাশ যানটিকে উৎক্ষেপণ করবে ইলন মাস্কের সংস্থার স্পেস এক্সের তৈরি যে ফ্যালকন-৯ রকেটে কিছু যান্ত্রিক সমস্যা। স্পেস এক্সের ‘বিল্ড অ্যান্ড ফ্লাইট রিলায়াবিলিটি’-র ভাইস প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম জারস্টেনমায়ার জানিয়েছেন, রকেটে অক্সিজেন লিক করার সমস্যা। মহাকাশচারীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার তাদের মূল লক্ষ্য। কাজটা সহজ নয়। প্রতি দিনই গবেষকেরা শিখছেন এবং চেষ্টাও চলছে।
অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানে পাইলটের ভূমিকায় শুভাংশু। রাকেশ শর্মার চার দশক পরে মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন কোনও ভারতীয়। অ্যাক্সিয়ম স্পেস নামে আমেরিকার একটি বেসরকারি সংস্থার মহাকাশ অভিযানে ছাড়পত্র দিয়েছে নাসা। শুভাংশুরা ১৪ দিন তাঁরা আইএসএসে থাকবেন, বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা চালাবেন। নাসা এবং ইসরোর যৌথ উদ্যোগে দলটি এই কাজ করবে। ভবিষ্যতে ইসরোর গগনযান প্রকল্পের অধীনে অভিযানের ভিত্তিও স্থাপন করবেন শুভাংশু। অভিযানের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, কী কী বিষয়ে গবেষণা করবেন শুভাংশু। প্রথমত, মহাকাশে থাকলে মহাকাশচারীদের পেশি দুর্বল হয়ে যায়। মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস সেই সমস্যায় পড়েছিলেন। প্রায় সাড়ে ন’মাস আইএসএসে থাকার পরে তিনি যখন পৃথিবীতে আসেন, তখন তাঁর পেশি দুর্বল হয়ে যায়। শূন্য মাধ্যাকর্ষণে কেন এ রকম হয়, তা নিয়ে গবেষণা করবেন শুভাংশুরা। দীর্ঘ দিন মহাকাশ অভিযানে সেই সমস্যা যাতে এড়ানো যায়, তা-ও গবেষণা করে দেখা হবে। এই গবেষণার পরামর্শ দিয়েছে ভারতের ইনস্টিটিউট অফ স্টেম সেল সায়েন্স অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিন। দ্বিতীয়ত, ছ’টি শস্যের উপর মহাকাশের আলোর প্রভাব কী রকম হবে, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। তাদের জিনগত বিশ্লেষণও করা হবে। এই গবেষণার পরামর্শ দিয়েছে কেরলের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।তৃতীয়ত, অভিযানে শুভাংশুর সঙ্গী হবে ক্ষুদ্র প্রাণী টার্ডিগ্রেডস বা ওয়াটার বেয়ার। কঠিন পরিস্থিতিতে বাঁচতে পারে এই প্রাণী। খুব গরম বা প্রবল ঠান্ডাতেও অনায়াসে বেঁচে থাকে তারা। মহাকাশে কী ভাবে বেঁচে থাকে এই ওয়াটার বেয়ার, তার উপর কী প্রভাব পড়ে, তা পরীক্ষা করবেন শুভাংশু।চতুর্থত, তিন প্রজাতির ক্ষুদ্র অ্যালগি (শ্যাওলা) কী ভাবে মহাকাশে বেঁচে থাকে, তা-ও পরীক্ষা করে দেখবেন শুভাংশু। পঞ্চমত, বীজের বংশবৃদ্ধিতে মহাকাশের আলো কী প্রভাব ফেলে, আইএসএসে তা পরীক্ষা করে দেখবেন শুভাংশু। ইসরোর হয়ে এই গবেষাণা করবেন তিনি। ষষ্ঠত, মহাকাশে জলের ব্যাকটিরিয়া কী ভাবে বৃদ্ধি পায় বা আদৌ বৃদ্ধি পায় কি না, তা পরখ করে দেখা হবে। ইসরো এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) এই গবেষণা চালাবে। সপ্তমত, মহাকাশে বসে কম্পিউটার চালালে কী হতে পারে? কী ভাবে কম্পিউটারের পর্দায় লেখা পড়েন মহাকাশচারীরা? তখন কী ভাবে নড়াচড়া করে তাঁদের চোখ? শুভাংশুর মাধ্যমে এই পরীক্ষাও করা হবে। শুভাংশুর সঙ্গে অভিযানে নাসার প্রাক্তন মহাকাশচারী পেগি হুইটসন, পোল্যান্ডের স্লায়োস, উজনানস্কি উইসনিউস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবর কাপু।
সাড়ে ২৩ কোটি বছরের পুরনো বিষ্ঠা থেকে মিলল লেপিডপ্টেরা (প্রজাপতি বা মথ জাতীয় পতঙ্গ)-এর আঁশ। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার তালাম্পায়া জাতীয় উদ্যানে খননকার্য চালিয়ে কোটি কোটি বছর পুরনো বিষ্ঠার নমুনায় লেপিডপ্টেরার আঁশ খুঁজে পেয়েছেন জীবাশ্মবিদেরা, যা থেকে প্রমাণ হয়, সাড়ে ২৩ কোটি বছর আগেও পৃথিবীতে ছিল প্রজাপতি, মথ! বিজ্ঞানীরা খাতায়কলমে প্রমাণ করেছিলেন, লেপিডপ্টেরার উৎপত্তি হয়েছিল আনুমানিক ২৪ কোটি বছর আগে। কিন্তু এত দিন পর্যন্ত লেপিডপ্টেরার অস্তিত্বের যে সব প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল, তার কোনওটিই এত পুরনো নয়। এ পর্যন্ত আবিষ্কার হওয়া লেপিডপ্টেরার প্রাচীনতম জীবাশ্মটি ছিল ২০ কোটি বছর আগের। ফলে এত দিন গবেষণা ও বাস্তব প্রমাণের মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ৪ কোটি বছরের। এ বার আর্জেন্টিনায় ২৩ কোটি ৬০ লক্ষ বছর পুরনো লেপিডোপ্টেরার আঁশ মেলায় সেই শূন্যস্থান পূরণ হল বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের জীবাশ্মবিদদের যৌথ দলের উদ্যোগে তালাম্পায়ায় খননকার্য চালিয়ে ওই লেপিডপ্টেরানের আঁশ পাওয়া গিয়েছে। এ বিষয়ে তাঁদের গবেষণা বিস্তারিত আকারে জার্নাল অফ সাউথ আমেরিকান আর্থ সায়েন্সেসে প্রকাশিত হয়েছে। বিষ্ঠার নমুনায় কী ভাবে লেপিডোপ্টেরানের ডানার আঁশ খুঁজে পাওয়া গেল, গবেষণাপত্রে সেই বিবরণও দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা! ২০১১ সালে তালাম্পায়া জাতীয় উদ্যানের একটি স্থানে খননকার্য শুরু হয়। কাজ শুরু হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, কোটি কোটি বছর আগে ওই স্থানটি শৌচকর্মের জন্য ব্যবহার করত জীবজন্তুরা! বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ওই এলাকায় প্রস্রাব বা মলত্যাগ করত। সঙ্গে সঙ্গে ওই স্থান থেকে বিষ্ঠার প্রাচীন নমুনাগুলি সংগ্রহ করে গবেষণার জন্য আর্জেন্টিনার লা রিওজার গবেষণাগারে পাঠানো হয়।পরীক্ষানিরীক্ষার পর প্রায় ২৩ কোটি ৬০ লক্ষ বছরের পুরনো সেই বিষ্ঠার নমুনাতেই মেলে লেপিডোপ্টেরানের আঁশ! আকারে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ওই আঁশের দৈর্ঘ্য মাত্র ২০০ মাইক্রন, যা লেপিডোপ্টেরা অর্থাৎ মথ বা প্রজাপতি জাতীয় পতঙ্গের আঁশ বলে শনাক্ত করেন বিজ্ঞানীরা। সাড়ে ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে ট্রায়াসিক যুগ চলছিল। এর মাত্র ১ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগেই শেষ হয়েছে পার্মিয়ান যুগ, যার সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে মুছে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাণী প্রজাতি! এ বার সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগের বিষ্ঠার নমুনার খোঁজ মেলায় ওই যুগের প্রাণীজগৎ সম্পর্কে আরও বিশদে জানা যাবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। লেপিডোপ্টেরার ওই সদ্য আবিষ্কৃত প্রাচীনতম প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘আম্পাটিরি এলোইসা’। গবেষকদের দাবি, সময়কালের নিরিখে মনে করা হচ্ছে, এই প্রজাতিটি সম্ভবত ‘গ্লসাটা’ উপগোষ্ঠীর অন্তর্গত ছিল। তবে আধুনিক মথ বা প্রজাপতির সঙ্গে এদের মূল পার্থক্য হল, ট্রায়াসিক যুগে ফুলের অস্তিত্ব ছিল না। ফলে সে সময় সাইকাস জাতীয় গাছর বীজ কোন থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করতে হত এদের। হাজার কোটি বছর ধরে ‘মিলেমিশে’ বাস করে দুই প্রতিবেশী। দু’টিই কোটি কোটি নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহের ঠিকানা। আমাদের সৌরজগৎ যে ছায়াপথ বা গ্যালাক্সির ছোট্ট অংশ, সেই আকাশগঙ্গা মিল্কিওয়ে এবং তার পড়শি ছায়াপথ অ্যান্ড্রোমেডার খুঁটিনাটি নিয়ে গবেষণা করে অনেক আগেই তাদের ‘ভবিষ্যৎ’ বলে দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। বলা হয়েছিল, অ্যান্ড্রোমেডা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে মিল্কিওয়ের দিকে। ভবিষ্যতে তারা একে অপরের সঙ্গে মিশে যাবে। বা অ্যান্ড্রোমেডা গিলে নেবে মিল্কিওয়েকে। এটাই ভবিতব্য। বয়সে আমাদের ছায়াপথ বড়। মোটামুটি ১৩৫০ কোটি বছর আগে মিল্কিওয়ের জন্ম। আর অ্যান্ড্রোমেডার বয়স খুব বেশি হলে হাজার কোটি বছর। বয়সে ছোট হলে কী হবে, বহরে অনেক বড়। প্রায় দ্বিগুণ। এতদিন মনে করা হত, এই ষণ্ডামার্কা পড়শিই এক দিন গ্রাস করে নেবে আমাদের ঘরদোর। কিন্তু শতাব্দীপ্রাচীন সেই তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল সাম্প্রতিক গবেষণা! উঠে এল নতুন তত্ত্ব। যা বলছে, মিল্কিওয়ের ভবিতব্য আদৌ অ্যান্ড্রোমেডায় আত্মসমর্পণ নয়। বরং, স্বাতন্ত্র্য নিয়েই কোটি কোটি বছর পরেও ‘মাথা তুলে’ থাকতেই পারে সৌরজগতের এই ছায়াপথ। কারণ, নেপথ্যে কাজ করে চলেছে দুই ‘অনুঘটক’, যাদের এত দিন হিসাবে ধরা হয়নি!
‘নেচার’ পত্রিকায় সম্প্রতি মিল্কিওয়ে এবং অ্যান্ড্রোমেডা সংক্রান্ত নতুন গবেষণার ফল প্রকাশিত। ফিনল্যান্ডের হেলসিন্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা গবেষক টিল সাওয়ালার নেতৃত্বে এই গবেষণায় উঠে এসেছে নতুন সম্ভাবনার কথা। যা বিজ্ঞানী মহলেও সাড়া ফেলে দিয়েছে। এই গবেষণার জন্য আলাদা ভাবে কোনও তথ্যপরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়নি। বরং আগে থেকে সংগৃহীত তথ্যপরিসংখ্যান ঘেঁটে, নতুন করে বিচারবিশ্লেষণ করে, বিভিন্ন মহাজাগতিক মাপজোকের অনিশ্চয়তাগুলিকে বিবেচনা করে দেখা গিয়েছে, আগামী হাজার কোটি বছরে এই দুই ছায়াপথের সংযুক্তির সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ বা তারও কম। মিল্কিওয়ের চেয়ে অ্যান্ড্রোমেডা আকারে অনেক বড়। এই ছায়াপথের ব্যাস ২.২০ লক্ষ আলোকবর্ষ (আলো এক বছরে যতটা পথ অতিক্রম করতে পারে তাকেই আলোকবর্ষ বলে, যা সাড়ে ন’লক্ষ কোটি কিলোমিটারের সমান)। আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ের ব্যাস এক লক্ষ আলোকবর্ষ। সূর্য-সহ কয়েক লক্ষ নক্ষত্র এবং তাদের সংসারের ঠিকানা মিল্কিওয়ে। এই ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে সৌরজগতের দূরত্ব প্রায় ২৫ হাজার আলোকবর্ষ। পৃথিবী এবং সূর্যের অন্য গ্রহেরা রয়েছে মিল্কিওয়ের সর্পিলাকার অজস্র বাহুর একটিতে। পৃথিবী থেকে মিল্কিওয়ের প্রতিবেশি অ্যান্ড্রোমেডার দূরত্ব ২৫ লক্ষ আলোকবর্ষ।
১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিল্কিওয়ে এবং অ্যান্ড্রোমেডার সংযুক্তির তত্ত্ব বিজ্ঞানী মহলে প্রচলিত। মহাকাশ গবেষণা সংক্রান্ত পাঠ্যপুস্তকেও এই তত্ত্ব লেখা হয়ে আসছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছিলেন, অন্যান্য ছায়াপথের মতোই অ্যান্ড্রোমেডা একটি নির্দিষ্ট গতিতে পাক খাচ্ছে। তার সঙ্গে একটু একটু করে আমাদের কাছে সরে আসছে। ছায়াপথের এই গতিকে ‘ট্রান্সভার্স ভেলোসিটি’ বলা হয়। এই গতি সঠিক ভাবে নির্ধারণ করা দুঃসাধ্য। তবে মনে করা হচ্ছিল, অ্যান্ড্রোমেডার এই গতির ফলেই আগামী দিনে তা মিল্কিওয়েকে খেয়ে নিতে চলেছে। এই সংযুক্তি অনিবার্য বলেই মনে করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কত দিন লাগত মিল্কিওয়েকে খেয়ে ফেলতে? বিজ্ঞানীরা হিসাব কষে বলেছিলেন, মোটামুটি ৫০০ কোটি বছর পরে।আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র হাব্ল স্পেস টেলিস্কোপ দুই ছায়াপথ সম্পর্কে অনেক পর্যবেক্ষণ পাঠিয়েছে পৃথিবীতে। তাতে মিল্কিওয়ে এবং অ্যান্ড্রোমেডার কাছাকাছি আরও দু’টি পৃথক ছায়াপথের তথ্যও উঠে এসেছে। একটির নাম লার্জ ম্যাজেল্যানিক ক্লাউড এলএমসি এবং অন্যটির নাম ট্রাইঅ্যাঙ্গুলাম গ্যালাক্সি এম৩৩। নেচারে প্রকাশিত পেপারটি বলছে, এই দুই ছায়াপথই মিল্কিওয়ে এবং অ্যান্ড্রোমেডার চলনে অনুঘটকের কাজ করতে পারে। এদের কারণেই টিকে থাকতে পারে মিল্কিওয়ে এবং অ্যান্ড্রোমেডার পৃথক অস্তিত্ব। এম৩৩ অ্যান্ড্রোমেডার চারপাশে ঘোরে। আর মিল্কিওয়ের একেবারে গা ঘেঁষে রয়েছে এলএমসি। মিল্কিওয়ে এবং অ্যান্ড্রোমেডার উপরে এই দুই ছায়াপথের মহাকর্ষীয় টান কাজ করে। এম৩৩-এর মহাকর্ষের প্রভাবে অ্যান্ড্রোমেডা যতই মিল্কিওয়ের দিকে এগিয়ে আসছে, এলএমসি ততই তাকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ ভাবে চলতে থাকলে দুই ছায়াপথের সংযুক্তি প্রায় অসম্ভব। অনুঘটকের মতোই মিল্কিওয়ে এবং অ্যান্ড্রোমেডার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে এলএমসি, এম৩৩। কিন্তু এতে তাদের নিজেদের কোনও পরিবর্তন হবে না।
বিজ্ঞানীদের মতে, যদি কোনও এক কালে মিল্কিওয়ে এবং অ্যান্ড্রোমেডা পরস্পরের সঙ্গে মিশে যায়ও, তাতে পৃথিবীর খুব বড় কোনও ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। মহাকাশে এক একটি নক্ষত্রের মধ্যে বিস্তর দূরত্ব থাকে। সেই সঙ্গে ক্রিয়াশীল মহাকর্ষীয় বলও। ফলে কোনও ভাবে দুই ছায়াপথ মিলে গিয়ে একটি বড় ছায়াপথে পরিণত হলেও তার মধ্যেকার গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে দুই ছায়াপথ মিলে বৃহত্তর আকার নিলে সেই নতুন ছায়াপথের গঠনও বদলে যাবে। বর্তমানে মিল্কিওয়ে এবং অ্যান্ড্রোমেডা, উভয়েই সর্পিলাকার। আগামী দিনে সংযুক্তি ঘটলে তা উপবৃত্তাকার হয়ে যেতে পারে। যদি দুই ছায়াপথের সংযুক্তি না-ঘটে, তবে তারা একে অপরের চারপাশে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে থিতু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এই দুইয়ের সংঘাত হবে না কখনওই। একে অপরের সমান্তরালেই থাকবে। মিল্কিওয়ে আর অ্যান্ড্রোমেডা নিয়ে বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা থেকে গিয়েছে। গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের একাংশের মতে, অ্যান্ড্রোমেডার সরণের গতি বা ট্রান্সভার্স ভেলোসিটি এখনও ধাঁধার মতো দুর্বোধ্য থেকে গিয়েছে। তা নিয়ে বিস্তর অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই গতির সামান্যতম পরিবর্তনও বদলে দিতে পারে যাবতীয় হিসেবনিকেশ। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। আরও উন্নত যন্ত্রপাতি, উচ্চ মানের পর্যবেক্ষণ এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন হলেই দুই ছায়াপথের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা সম্ভব।




