RK NEWZ ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে টিকিট পান ইন্দ্রনীল। কলকাতায় জন্ম। সেখানেই বেড়ে ওঠা। তিলোত্তমাতেই প্রথম সারির সংগীতশিল্পী হিসাবে নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক ইনিংসও কম বর্ণময় নয়। রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর সেই ইন্দ্রনীল সেনই আজ জেলবন্দি। বুধবার সিজিও কমপ্লেক্স থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। পুজো পাস নিয়ে দুর্নীতি মামলায় কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে ইন্দ্রনীল সেনকে। রাজনৈতিক দুনিয়ায় ইনিংস শুরুর আগে সঙ্গীতজগতে পায়ের মাটি শক্ত করেছিলেন। আধুনিক বাংলা গানের সিরিজ ‘দূরের বলাকা’ দিয়ে প্রায় সকলের ড্রয়িংরুমে পৌঁছে যান। তারপর একের পর এক গান গেয়ে সাড়া ফেলেছেন। পরবর্তী সময়ে ‘অধরা মাধুরী’, ‘একা’ এবং ‘অনুপমা’র মতো অ্যালবামেও গান গেয়েছেন। ১৯৯৯ সালে বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়কের পুরস্কার পান। রাজনৈতিক জীবনে বারবার নিজের পথ বদলেছেন ইন্দ্রনীল সেন। একসময় তিনি ছিলেন বামপন্থী। ২০১১ সালের মে মাসে বাম শাসনের অবসান। তারপরও ২০১২ সালের জানুয়ারিতে লালপতাকা না ছাড়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। সিপিএমের মুখপত্রর প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ধরো হাল শক্ত হাতে’ গেয়েছিলেন। ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলার সময় সিপিএমের সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রীর সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সিপিএমের সবচেয়ে বড় ক্যাম্পেনার ছিলেন ইন্দ্রনীল। সিপিএমের ব্লু আইড বয় বলেও খোঁচা দেন শুভেন্দু। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ের এনজিও-র সঙ্গে ইন্দ্রনীল যুক্ত ছিলেন বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সময়ে সময়ে জল যেমন আকার ধারণ করে তেমন আকার ধারণ করেন ইন্দ্রনীল। মমতার ‘ছায়াসঙ্গী’ হয়ে ওঠার কাহিনি যেন সে-ই ইঙ্গিতই দেয়। কারণ, যে ইন্দ্রনীল বামেদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন, তারই মমতার আশপাশে আনাগোনা বাড়তে থাকে। ২০১৪ সালে পান ‘ঘনিষ্ঠতা’র পুরস্কার। লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর থেকে টিকিট দেওয়া হয়। ভোটে জিততে পারেননি। তা সত্ত্বেও মমতার সঙ্গ ত্যাগের কথা ভাবেননি ইন্দ্রনীল। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে ফের ইন্দ্রনীলকে প্রার্থী করেন মমতা। চন্দননগর থেকে বিধানসভা ভোটে লড়েন। জেতেনও। প্রথমবার বিধায়ক হয়েই মন্ত্রিত্ব পান। তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী করা হয় তাঁকে। পর্যটন মন্ত্রীও ছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও টিকিট পান। ভোটে জিততে পারেননি। মমতার মঞ্চে সবসময় গায়কের ভূমিকায় দেখা যেত ইন্দ্রনীলকে। অনেকেই ‘মমতার তানসেন’ বলে টিপ্পনি কাটতেন তাঁকে। মমতা একবার বলেছিলেন, “আমি ফটাফট গান লিখে পাঠিয়ে দিই। ইন্দ্রনীল স্যাটস্যাট কী সুন্দর করে সুর করে দেয়। ইচ্ছে থাকলে সব কজ সামলেও ক্রিয়েটিভ কাজ করা যায়।” এরপর একাধিক মঞ্চে একসঙ্গে মমতা-ইন্দ্রনীলকে গাইতে দেখা যায়। গানের সুর নিয়ে কখনও কখনও ধমকও দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সুতরাং দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক যে বেশ ভালো ছিল তা বলাই বাহুল্য। সেই ইন্দ্রনীলের পুজো পাস দুর্নীতির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগসূত্র রয়েছে বলেই মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। সবদিক খতিয়ে দেখে সকলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এবার দেখার তদন্তের মোড় কোনদিকে ঘোরে।





