Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

গ্রেপ্তার ‘‌মাফিয়া’‌ তকমার পাপিয়া অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক?‌ জগদ্দলের সায়ন্তনের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ!

RK NEWZ বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর সদ্য প্রাক্তন আপ্ত সহায়ককে গ্রেফতার করা হল। এই মর্মে জানিয়েছেন বিধায়ক নিজেই। লক্ষ লক্ষ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তি জগদ্দলের বাসিন্দা সায়ন্তন সান্যাল। সোমবার বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। যদিও তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি নির্দোষ বলে দাবি করেছেন সায়ন্তন। অন্যদিকে বিধায়ক দাবি করেছেন, বিশ্বাস করে কাজে নিয়েছিলাম, বিশ্বাসঘাতকতা করবে ভাবিনি। পুলিশ অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করা হয় আর কে নিউজের প্রতিনিধির তরফে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনার বিরুদ্ধে চাকরির নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আছে। উত্তরে অভিযুক্ত বলেন, ‘ওটা সবটাই মিথ্যা কথা। পুলিশ দেখছে।’

আর কে নিউজ : ২৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত : ‘পুরোটাই মিথ্যা কথা। কারো কাছে কিছু নিইনি।’

আর কে নিউজ : মানে কি মিথ্যা মামলা ?

অভিযুক্ত : ‘হ্যাঁ, পুরোটাই মিথ্যা মামলা। যে করেছে সে টিএমসি করত। টিএমসির আমলে মামলা করেছে।’

আর কে নিউজ : কে ? তার নাম কী ?

অভিযুক্ত : ‘বিশ্বরূপ সাহা।’

আর কে নিউজ : কেন এরকম আচমকা মামলা ?

অভিযুক্ত : ‘আসলে চিটিংবাজ ছিল।’

এদিকে পাপিয়া অধিকারী বলছেন, “দেখুন ঘটনাটা হচ্ছে… নানারকম শুনে আমি আমার আপ্ত সহায়ককে বহিষ্কার করেছি। তাঁর ২০২৪ সালের কেস। তিনি নানারকম চিটিং…কখনো ৫৭ লক্ষ টাকা, কখনো এআই জেনারেট করে ফেক টেন্ডার…সেখান থেকে টাকা নিয়েছেন। এরকম নানা কাজ করেছেন। যখন ওঁকে জিজ্ঞাসা করেছি…উনি আমার হোয়াটসঅ্যাপটার অ্যাকসেস নিয়ে নিয়েছিলেন। আমাকে বলছেন, আপনার তো হোয়াটসঅ্য়াপ দেখার সময় হয় না, হোয়াটসঅ্যাপ দেখে দেখে আমি বলব। কী হল…আমার রাজ্য, জাতীয়, আন্তর্জাতিক যত রকম গ্রুপ, সব থেকে আমি বেরিয়ে গেলাম। উনি সেগুলো নিজের কাছে নিয়ে…। আমি না ভাল বুঝতে পারিনি। পাশের লোকটা যদি এরকম বেইমানি করে…তা আমি কী বুঝব ? কতটা আমার ইমেজকে উনি শ্যাটার করেছেন।”

প্রসঙ্গত, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে দুরমুশ করে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তারা। অন্যতম হেভিওয়েট কেন্দ্র টালিগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর কাছে পরাজিত সংশ্লিষ্ট ভোটে তৃণমূল প্রার্থী ও প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। টালিগঞ্জের বিধায়িকা পাপিয়া অধিকারীর নামেও বিপুল অভিযোগের পাহাড়। সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ যেভাবে প্রকাশ্যে পাপিয়া অধিকারীকে ‘‌মাফিয়া’ অধিকারী বলে সম্বোধন করেছেন এবং তাঁর কীর্তীকলাপ তুলে ধরেছেন, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক।‌ ব্যক্তিগত সহকারী সায়ন্তন সান্যালের গ্রেপ্তারির পর থেকেই টলিপাড়ার ক্ষমতা এবং রাজনীতির অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য। গ্রেপ্তারির ঠিক মুখেই ‘কয়েক দিন আগে বরখাস্ত করা হয়েছিল’ বলে বিধায়িকা দায় ঝাড়ার চেষ্টা করলেও, স্টুডিওপাড়ার বাতাসে এখন শুধুই অস্বস্তিকর সব প্রশ্ন।

নির্বাচনী এজেন্ট থেকে শুরু করে বিধায়কের চেয়ারের ঠিক পাশের ছায়াসঙ্গী—রাধা স্টুডিও হোক বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নীতি-নির্ধারণী বৈঠক, সর্বত্রই যাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল, সেই সায়ন্তন সান্যাল রাতারাতি ‘অচেনা’ হয়ে গেলেন কীভাবে? স্টুডিওপাড়ার অন্দরমহল থেকে উঠে আসা এমনই কিছু তথ্য ও প্রশ্ন এখন সামনে আসছে
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ—বিধায়কের খাস চেম্বারে বসেই নাকি কনফেডারেশনের ফর্ম বিলির নামে টেকনিশিয়ানদের থেকে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা করে তোলা আদায় করতেন সায়ন্তন। প্রকাশ্যে নিজের অফিসে বসে এত বড় কারবার চলল, সহকর্মীরা দেখলেন, অথচ স্বয়ং বিধায়িকা বিন্দুমাত্র টের পেলেন না? এই যুক্তি সাধারণ মানুষের গলায় কতটা নামবে? শোনা যাচ্ছে, গত জুলাই মাসেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একাধিক প্রবীণ টেকনিশিয়ান সায়ন্তনের তোলাবাজি ও অনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ে পাপিয়া অধিকারীকে সরাসরি সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তখন কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ১৯ লক্ষ টাকার তোলাবাজি যখন আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে তখন কি করে বিধায়িকা’ র এসব কানে গেল না সেটাই তো আশ্চর্যের। একজন সুদক্ষ জনপ্রতিনিধি হবেন, তার তো সবার প্রথমেই এই খবর গুলো জানা দরকার। আজ পুলিশ হাতকড়া পরাতেই দূরত্ব তৈরির মরিয়া চেষ্টা? দায় এড়ানোর এই কৌশল আসলে ‘রত্নাকরের পাপের ভাগ কেউ নেয় না’ প্রবাদেরই আধুনিক সংস্করণ।

সায়ন্তন কেবল পাপিয়া অধিকারীর ছায়াসঙ্গীই ছিলেন না, শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের ঘনিষ্ঠ বৃত্তেও তাঁর অবাধ আনাগোনা ছিল। টেকনিশিয়ান স্টুডিও পুনরায় খোলার দিনেও রুদ্রনীলের ঠিক পাশেই তাঁকে দেখা গিয়েছিল। টলিপাড়ার বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, টালিগঞ্জের অন্দরে দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সায়ন্তন কার্যত খেলছিলেন ‘টিম বি’-র ভূমিকা। পূর্ববর্তী সময়ে যেসব সংগঠক বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টেকনিশিয়ানদের কাজ বন্ধ করার অভিযোগ ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ছাড় পেলেন গিল্ডের মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বা নিরুপম দেব ওরফে বাবাইয়ের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিরা? অভিযোগ উঠছে, সায়ন্তনের প্রচ্ছন্ন মদতেই তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি ধামাচাপা পড়ে। উপরন্তু, যাঁরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন, তাঁদেরই গিল্ড কার্ড সাসপেন্ড করার মতো ঔদ্ধত্য দেখানো হয়েছে। ক্ষমতার কোন ছাতা এই সাহস জুগিয়েছিল? স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারি নিয়ে যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছিল, তার অনেক আগে থেকেই মে মাসের মাঝামাঝি এক অভিনেত্রীকে প্রভাবিত করে ও বিভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে মিথ্যে অভিযোগ সাজানোর নেপথ্যেও সায়ন্তনের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। এত বড় মাপের রাজনৈতিক ঘুঁটি সাজানো হচ্ছিল, অথচ তাঁর ‘অভিভাবক’ বিধায়কেরা নাকি কিছুই জানতেন না! রাজনীতিতে এমন দৃশ্য নতুন নয়। ক্ষমতার অলিগলিতে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে যারা দাবার বোড়ে হতে যায়, বিপদ এলে তাদেরই সবার আগে বলি দেওয়া হয়। মধুর ভাণ্ডারকরের কর্পোরেট ছবির সেই নির্মম সত্যিটাই যেন আবার সামনে এলো—ক্ষমতার ছায়ায় থাকা আর ক্ষমতার আসল সুরক্ষা পাওয়া এক জিনিস নয়। তবে জনগনের সামনে প্রশ্নটা রয়েই যায়: এতদিন ধরে বিধায়কের নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার অলিন্দে যা যা ঘটল, তার দায় কি শুধুই এক আত্মসহায়কের? নাকি ‘আমরা কিছুই জানতাম না’ বলে সবটাই ধুয়ে ফেলার চেষ্টা? প্রশ্ন উঠছেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles