RK NEWZ কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোট। রাজ্যের শাসনক্ষমতায় আসার পর এই দুই পুরনিগম দখল করা বড় চ্যালেঞ্জ বিজেপির কাছে। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের মত, হেলায় সেই চ্যালেঞ্জ জিতবে গেরুয়া শিবির। তবু সাবধানী শাসকদল। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনকে মজবুত করে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। শনিবার এই সংক্রান্ত বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে নিজেদের স্ট্র্যাটেজি অনেকটা স্পষ্ট করে দিলেন কলকাতা পুরভোটে দলের ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার। প্রার্থীতালিকায় ‘বেনোজল’ রুখতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই তা তৈরি হবে বলে জানালেন তিনি। আদিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করলেও রাজনীতি যে অনন্ত সম্ভাবনার ক্ষেত্র, তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন সুকান্ত। আর তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের শোচনীয় হারের জেরে একটার পর একটা প্রশাসনিক ক্ষেত্র ভেঙে পড়েছিল। পুরনিগম, পুরসভা, পঞ্চায়েতের মতো স্থানীয় প্রশাসন থেকে পদত্যাগ, দলত্যাগে ক্ষমতা হারিয়ে অকেজো হয়ে পড়েছিল। একদা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই পরে ‘ভালো তৃণমূল’ হয়ে শাসকদল বিজেপিতে যোগ দেন। তাতে বিজেপির আদি কর্মীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি পুরভোটে সেই ‘দলবদলু’রা টিকিট পাবে? এতদিন একনিষ্ঠভাবে কাজ করেও কি তাঁদের পিছনের সারিতে চলে যেতে হবে? তাঁদের আশ্বস্ত করতে প্রথমে আসরে নেমেছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, প্রার্থীতালিকায় কোনও ‘বেনোজল’ ঢুকবে না। পুরসভার প্রস্তুতি বৈঠকের পর কলকাতায় দলের ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদারের কথায় সেই ধোঁয়াশা জিইয়ে রইল। তিনি বললেন, ‘‘দলের পুরনোদের, সে ১০ বছরের পুরনোই হোক বা ১ বছরের, যাঁরা এখন পদে রয়েছেন, যাঁরা আগে কোনও না কোনও পদে ছিলেন – তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পুরনোরা যাতে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখব। ছোট থেকে বড়, সমস্ত সাংগঠনিক স্তরে সবার সঙ্গে আলোচনা করে, মতামত নিয়ে তবেই প্রার্থী ঠিক করা হবে। বিশিষ্টদেরও মতামত নেব। তাঁরা চাইলে আসতে পারেন। প্রার্থী বাছার ক্ষেত্রে জেতার ক্ষমতা ও ভাবমূর্তি খতিয়ে দেখা হবে। ২৫ অক্টোবর, বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমাদের নির্ধারিত ড্রপ বক্সে আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন জমা দিতে পারবেন। ভোট ঘোষণা হওয়ার ৩-৪ দিনের মধ্যে আমরা প্রার্থী ঘোষণা করে দেব।” তবে কি তৃণমূলত্যাগীরা ঠাঁই পাবে না বিজেপির প্রার্থীতালিকায়? এর জবাবে সুকান্তর তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া, ‘‘রাজনীতি অনন্ত সম্ভাবনার ক্ষেত্র।” অর্থাৎ ‘বেনোজল’ যে ঢুকবে না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করতে পারলেন না।
নভেম্বরে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম-সহ ৭ পুরসভায় ভোট! সেই নির্বাচনে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে জোট জল্পনা ওড়ালেন রাজ্যে বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। জানালেন, “কলকাতা পুরসভার ২০৯টি আসনে পদ্ম প্রতীকে একাই লড়বে বিজেপি।” অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমার জানা নেই। ফলে দলও জানে না। আমরা একাই লড়ব।” দুর্গাপুজো শেষ। বাংলায় এবার ভোটপুজো! সব কিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরেই কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম-সহ রাজ্যের ৭টি পুরসভায় নির্বাচন। রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা বিজেপি, এনসিপিআইয় অর্থাৎ তৃণমূলের হারের পর ২০ জন সাংসদ যে দলে যোগ দিয়েছেন সেই দলের সঙ্গে সঙ্গে জোট করে পুর নির্বাচনে নামবে। ২০ সাংসদের ঘনিষ্ঠরা টিকিট পাওয়ার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে কানাঘুঁষো। এই আবহে রাজ্যে আসেন রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। বৈঠকে বসে বিজেপি নেতৃত্ব। বালুরঘাটের সাংসদ স্পষ্ট করলেন কোনও জোট নয়! কলকাতায় সব কয়টি আসনেই বিজেপি প্রার্থী দেবে। শমীক ভট্টাচার্যও একই সুরে জানিয়েছেন, “বিজেপি একার শক্তিতে ছাব্বিশের নির্বাচন জিতেছে। কারও দয়ায় ক্ষমতায় আসেনি। বিজেপি হাওড়া ও কলকাতা পুরসভায় বোর্ড গঠন করবে।” তাঁকে প্রশ্ন করা হয় তৃণমূলের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলর বিজেপির টিকিটে দাঁড়াতে চাইছেন? উত্তরে শমীক বলেন, “এই রকম কোনও তথ্য আমার কাছে নেই। আমার কাছে নেই মানে দলের কাছেও নেই।” চলতি মাসেই বিজেপি পুরভোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে বলেই সূত্র মারফত খবর। ছাব্বিশের নির্বাচনের পর তৃণমূল ভেঙে খান খান। অধিকাংশ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নাম নিয়ে উপনির্বাচন লড়েছে। অন্যদিকে ২০ সাংসদ এনসিআইপিতে যোগ দিয়েছেন। সেই থেকেই জল্পনা, ওই দলের সঙ্গে জোট করে পুরভোট লড়বে বিজেপি। তা নসাৎ করে দিলেন রাজ্য বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা। কান্ত মজুমদার বলেন, “ড্রপবক্সে যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের জন্য সোমবার অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় আছে। এই সময়সীমার মধ্যে যারা আবেদন করবেন, তাঁদের মধ্যে থেকে প্রার্থী বাছাই করবে দল।” শুধু তাই নয়, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন কোন শর্ত মানতে হবে, তাও এদিন খোলসা করেন সুকান্ত। তাঁর কথায়, “প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন বিজেপি কার্যকর্তা ও কর্মীরা। প্রাধান্য দেওয়া হবে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও। যাঁরা বিধানসভা ভোটের আগে, দলের দুর্দিনে পাশে ছিলেন, প্রার্থী হতে তাঁদের গুরুত্ব দেবে দল।” বিজেপির প্রার্থী হতে গেলে এলাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ইমেজ কেমন, তাও নজরে রাখবে বিজেপি। তবে কি প্রার্থী তালিকায় দেখা যাবে তৃণমূলের কোনও মুখকে? সুকান্ত বললেন, “রাজনীতি মানে সম্ভাবনা। এখানে নির্দিষ্ট কোনও পথ নেই।” রাজনীতিতে ‘বেনোজল’ নিয়ে বিজেপি অন্দরেই যে চাপানউতোর উঠে আসছে, তা খারিজ করে সুকান্তর দাবি, “প্রার্থী বাছাইতে সকলের মতামত সংগ্রহ করা হবে। জেলাস্তর থেকে রাজ্যস্তরের নেতা, বিধায়ক, সাংসদদের মত নিয়ে প্রার্থীতালিকা চূড়ান্ত হবে।”





