Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘স্বেচ্ছাচারী’ নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপে ‘অনিয়ম’!‌ কমিশনারদের চিঠি পেয়েও পাত্তা দেয়নি মোদি সরকার!

RK NEWZ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লুকিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি দিয়েছিলেন দুই সহকারী নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। নির্বাচন কমিশনারদের তরফ থেকে অভিযোগ পেয়েও পদক্ষেপ করেনি মোদি সরকার! আরটিআইয়ের তরফ থেকে এবার প্রকাশ্যে এল বিস্ফোরক তথ্য। দিনদুয়েক আগেই জানা গিয়েছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লুকিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি দিয়েছিলেন দুই সহকারী নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। কিন্তু সেই চিঠির ভিত্তিতে ক্যাবিনেট সচিবালয় কোনও পদক্ষেপ করেনি, এমনটাই জানা গিয়েছে আরটিআই মারফত। কেন অভিযোগ পেয়েও পদক্ষেপ করল না ক্যাবিনেট সচিবালয়? আরটিআইয়ের জবাবে বলা হয়েছে, ক্যাবিনেটের কাছে যেসব চিঠি এসেছিল লেখা হয়েছিল ব্যক্তিগতভাবে। কমিশনের তরফ থেকে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। সেকারণে ক্যাবিনেট সচিবালয় সিদ্ধান্ত নেয়, যেহেতু কমিশনের তরফ থেকে চিঠি মেলেনি তাই ব্যক্তিগত চিঠির প্রেক্ষিতে পদক্ষেপ করলে সেটা কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপের সমতুল্য হবে। যদিও ক্যাবিনেট সচিবালয় মনে করেছিল এই অভিযোগ বেশ গুরুতর এবং তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত। কিন্তু এই বিষয়টকে কমিশনের তরফ থেকে সরকারিভাবে দায়ের হওয়া অভিযোগ হিসাবে ধরা যাবে না। দিনদুয়েক আগেই জানা গিয়েছিল, সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশীর লেখা ২৯ জুলাই তারিখের চিঠি দু’টি ‘সেবা তীর্থে’ (যে কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয় এবং ক্যাবিনেট সচিবালয় অবস্থিত) পৌঁছেছিল। প্রশ্ন হল, নির্বাচন কমিশনাররা সচিবালয়ে কেন চিঠি লিখেছিলেন? মনে করা হচ্ছে, নেপথ্যে ছিল ২৮ জুলাই জারি করা কাজের বণ্টন সংক্রান্ত একটি আদেশ। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে দুই কমিশনার ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লিখেছিলেন। ওই আদেশকে নিয়মের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন তাঁরা। যদিও পরবর্তীকালে এই নতুন বণ্টন আদেশটি বাতিল করা হয়। এই পরিবর্তনগুলোর ফলে নির্বাচনী তালিকার আইটি কাঠামোর ওপর থাকা তদারকির একটি স্তর কার্যত অপসারিত হয়। কমিশনাররাও স্পষ্ট করেন, তাঁদের অগোচরেই এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছিল। এটিকে ‘প্রচলিত রীতির থেকে আমূল বিচ্যুতি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। যদিও ২৬ সেপ্টেম্বর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন জানায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিটি কমিশনের কোনও নীতিগত বিষয় বা আইটি বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। বরং এটি ছিল নির্বাচন কমিশনে (ইসিআই) কর্মরত একজন কর্মকর্তার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।

আরটিআই-তথ্য খতিয়ে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ ‘স্বেচ্ছাচার’ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সঁধু এবং জোশী। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা ছাড়াই সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার, ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার, ডিরেক্টর জেনারেল এবং অন্য অফিসারদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছেন মণীশ। অনেক সময় মৌখিক নির্দেশেই আধিকারিকদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জোশীর এ-ও অভিযোগ যে, জরুরি ফাইল চেয়ে পাঠালেও কমিশনের প্রশাসনিক বিভাগ তাঁকে তা দেয়নি। দুই নির্বাচন কমিশনার তাঁদের অধস্তন এক আধিকারিকের কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। কেন কমিশন অভ্যন্তরীণ ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করতে পারল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা এই বিষয়গুলি স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কী কী অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি কমিশনের অন্দরে যথাযথ ভাবে আলোচনা করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে আনা হোক। প্রসঙ্গত, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই কমিশনার, সঁধু এবং জোশীর অভিযোগ, তাঁদের অন্ধকারে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষা, বেআইনি ভাবে ৬ নম্বর ফর্মের বয়ান বদল, এসআইআর-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং যুক্ত করা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে জ্ঞানেশের পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়েছেন সঁধু এবং জোশী। গত ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। বিতর্কের মুখে কমিশনের ব্যাখ্যা, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন এই ব্যাখ্যা দিলেও বিতর্ক থামেনি। উল্টে বিভিন্ন বিরোধী দল এবং ককরোচ জনতা পার্টির মতো সংগঠন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেছে। এই পরিস্থিতিতে আরটিআই-তথ্য জ্ঞানেশ এবং শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের আরও এক শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকের কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন তুলেছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী। ওই আধিকারিক, কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গের কাজকর্মের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্যাবিনেট সচিবালয়কে চিঠিও দিয়েছিলেন সঁধু এবং‌ জোশী। কিন্তু সেই চিঠির প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ করতে চায়নি ক্যাবিনেট সচিবালয়। তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই)-এ করা প্রশ্নের জবাবে এমনটাই জানা গিয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই তাদের প্রতিবেদনে আরটিআই-এ করা প্রশ্নের জবাব সবিস্তার তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার গত ২৯ জুলাই এই বিষয়ে আলাদা ভাবে চিঠি দিয়েছিলেন ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথনকে। কিন্তু সেই চিঠিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করে ক্যাবিনেট সচিবালয়। সমাজসৈনিক কমোডোর লোকেশ কে বাটরার প্রশ্নের জবাবে ক্যাবিনেট সচিবালয় জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হলেও সেটি কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি। ওই পরিস্থিতিতে কোনও পদক্ষেপ করা বা কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করা যথাযথ হত না বলে আরটিআই-তথ্যে জানানো হয়েছে। আরটিআই-এ করা প্রশ্নের জবাবে ক্যাবিনেট সচিবালয় জানিয়েছে, “নির্বাচন কমিশনারেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে চিঠি পাঠিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হলেও সমগ্র নির্বাচন কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।” আরটিআই-তথ্যে বলা হয়েছে, ক্যাবিনেট সচিবালয় চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রধান ব্যক্তিগত সচিবের কাছে চিঠির প্রতিলিপিও পাঠিয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই দুই চিঠিকে বিবেচনায় রাখার কথা বলেছে ক্যাবিনেট সচিবালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles