RK NEWZ পুজো মিটতেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফের আন্দোলনের প্রস্তুতি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের। আর সেই রণকৌশল ঠিক করতেই বৈঠকে বসছেন জোটের নেতারা। আজ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারচুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠক হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে এই বৈঠক হওয়ার কথা। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ছাড়াও যোগ দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। থাকবেন জোটের অন্যান্য সদস্যরাও। এসআইআর বাতিল এবং ভোটচুরির অভিযোগে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে একাধিকবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে রাজধানী। একদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলন, অন্যদিকে লাগাতার পথে নেমে একযোগে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সদস্যরা। সেই সময়েই রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমার যতক্ষণ না পর্যন্ত পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। তবে উৎসব থাকায় কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে আন্দোলন। কিন্তু পুজো মিটতেই ফের আন্দোলন শুরু করতে চায় বিরোধীরা। সেই রণকৌশল ঠিক করতেই এদিনের এই বৈঠক বলে জানা যাচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিরোধী শিবির। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অভিযানের অধীনে দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। যেখানে বিরোধী জোটের একাধিক নেতার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তবে শুধু মিছিলের মধ্যেই নিজেদের আটকে রাখতে চান না বিরোধীরা। ধাপে ধাপে রাজধানীর বুকে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়াতে চান তাঁরা। আর তা কীভাবে? সে বিষয়ে এদিনের ভারচুয়াল বৈঠকে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা আলোচনা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে এক সংবাদমাধ্যমকে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি জানিয়েছেন, দিল্লির মিছিল সফল হয়েছে। একাধিক বিকল্প নিয়ে এই মুহূর্তে আমাদের আলোচনা চলছে।
এদিকেও, মুক্তির কয়েকঘণ্টা পরেই ফের গ্রেপ্তার আশুতোষ-সৌরভ? ককরোচ নেতাদের সমন দিল্লি পুলিশের। ইতিমধ্যেই আশুতোষ এবং সৌরভের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলা অপরাধদমন শাখায় হস্তান্তর করেছে দিল্লি পুলিশ। তাহলে কি কয়েকঘণ্টার মধ্যে ফের গ্রেপ্তার হবেন দুই নেতা? জেল থেকে বেরনোর কয়েকঘণ্টা পরেই ফের বিপাকে সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। এবার ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতাকে সমন পাঠাল দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবারই তাঁদের হাজিরা দিতে হবে। ইতিমধ্যেই আশুতোষ এবং সৌরভের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলা অপরাধদমন শাখায় হস্তান্তর করেছে দিল্লি পুলিশ। তাহলে কি কয়েকঘণ্টার মধ্যে ফের গ্রেপ্তার হবেন দুই নেতা? যন্তর মন্তরে অনুপ্রবেশের অপরাধে সাতদিন জেলে কাটিয়েছেন দুই সিজেপি নেতা। এবার দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের মুখোমুখি হতে হবে তাঁদের। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৮৮ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে সমন পাঠানো হয়েছে সিজেপির আরেক নেতা অজিঙ্কা শিণ্ডেকেও। জানা গিয়েছে, কনট প্লেস এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট-দুই থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। দুটি অভিযোগই ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রাজোরি গার্ডেনের দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে দুই সিজেপি নেতাকে। আশুতোষদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অমান্য, অনুপ্রবেশ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, আঘাত করা-বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে ককরোচ নেতাদের বিরুদ্ধে। গত ১৩ অক্টোবর ব্যারিকেড টপকে যন্তরমন্তরে ঢুকে তেরঙ্গা উড়িয়েছিলেন সিজেপির এই নেতা কর্মীরা। বেশ খানিকক্ষণ দৌড়াদৌড়ির পর পুলিশ তাঁদের পাকড়াও করে। সেই অপরাধের ভিত্তিতেই একগুচ্ছ অভিযোগ দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। সেই অভিযোগের তদন্ত দেওয়া হয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের হাতে। আশুতোষ এবং সৌরভের জামিন মঞ্জুর হয়েছে। জানা গিয়েছে, একগুচ্ছ শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে দুই ককরোচ নেতাকে। তার মধ্যে অন্যতম, যন্তর মন্তরে কোনওরকম প্রতিবাদ করবেন না তাঁরা। স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে জামিন চেয়ে একই বয়ান দিয়েছেন সৌরভ এবং আশুতোষ। বলেছেন, ‘শান্তি বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তাই যন্তর মন্তরে বিনা অনুমতিতে কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেব না।’ সংবিধান মেনেই যাবতীয় প্রতিবাদ করবেন বলেও জানিয়েছেন দুই ককরোচ নেতা। কিন্তু এবার কি ক্রাইম ব্রাঞ্চ আলাদা করে গ্রেপ্তার করবে তাঁদের?





