Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘সেরা সময়ের মধ্যেই আছি, কার কখন প্রয়োজন হয়’! ভারতীয় দলে ফেরা নিয়ে আবার মুখ খুললেন মহম্মদ শামি

RK NEWZ অজিত আগরকর জমানা শেষ হওয়ার পরও নিউ জ়িল্যান্ড সফরের ভারতীয় দলে জায়গা হয়নি মহম্মদ শামির। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভাবে সাফল্য পাওয়ার পুরস্কার ভুবনেশ্বর কুমার পেলেও শামি ব্রাত্যই রইলেন। তবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার আশা ছাড়তে নারাজ বাংলার জোরে বোলার। রঞ্জি ট্রফিতে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে বাংলার জয়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ খুলেছেন শামি। জাতীয় নির্বাচকেরা এবং ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর মনে করছেন শামির ফিটনেসের সমস্যা রয়েছে। লম্বা স্পেলে তাঁর পক্ষে বল করা সম্ভব হবে না। সে কারণেই নাকি ভারতীয় দলের জন্য শামিকে বিবেচনা করা হচ্ছে না। নিউ জ়িল্যান্ড সফরের টেস্ট এবং এক দিনের দলে জায়গা না পাওয়ার পর সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে বাংলার প্রথম একাদশেও ছিলেন না শামি। তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। হতাশায় কি তিনি ২২ গজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন? ক্রিকেটপ্রেমীদের আশঙ্কা নিজেই উড়িয়ে দিয়েছেন শামি। জানিয়েছেন দেশের হয়ে খেলার আশা ছাড়ছেন না। শামি বলেছেন, ‘‘আমি কেন আশা ছাড়ব? সব সময় আশাবাদী থাকা উচিত। যে কোনও পেশাতেই আশা ধরে রাখতে হয়। সব সময় একটা লক্ষ্য থাকা উচিত। আমারও আবার দেশের হয়ে খেলার লক্ষ্য রয়েছে। অস্বীকার কেন করব!’’ বাংলার জোরে বোলার ফিটনেস নিয়ে বলেছেন, ‘‘আমি লম্বা স্পেলে বল করতে পারব কিনা, এটা অন্য কেউ কী করে বুঝতে পারছে? এক জন বোলার কতক্ষণ বল করবে, এটা নির্ভর করে দলের চাহিদা এবং ম্যাচের পরিস্থিতির উপর। এমন তো নয় আমি ওভারের পর ওভার বল করেই যাব।’’ তা হলে কেন বাংলার হয়ে খেললেন না? শামি বলেছেন, ‘‘পিচের চরিত্রও গুরুত্বপূর্ণ হয়। যেমন ধরুন বাংলা-সার্ভিসেস ম্যাচের উইকেট। এক জন জোরে বোলারকে দিয়ে এই ধরনের পিচে কি টানা পাঁচ বা ১০ ওভার বল করানো যায়? যদিও কোনও ব্যাটারের জোরে বল খেলার ক্ষেত্রে অস্বস্তি থাকে, তা হলে বল করানো হবে। যদি মনে হয়, পিচে স্পিনারেরা সুবিধা পাবে, উইকেট পাবে, তা হলে স্পিনারেরা বল করবে। এগুলো পুরোপুরি খেলার পরিস্থিতি এবং পিচের চরিত্রের উপর নির্ভর করে। অধিনায়ক সিদ্ধান্ত নেয়।’’ আপনি কি সম্পূর্ণ ফিট? ৩৮ বছরের জোরে বোলার বলেছেন, ‘‘একদম। টানা ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টাও বল করতে পারি। আমার কোনও সমস্যা নেই। এখনও নিজের সেরা ফর্মে রয়েছি। ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথ বলার কোনও মানে হয় না। আমি যেমনই হই না কেন, আমি আমার সেরা সময়ের মধ্যেই রয়েছি।’’

সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে না খেলার কারণ হতাশা নয়, পিচের চরিত্র বলে জানিয়েছেন শামি। তিনি বলেছেন, ‘‘পিচের অবস্থা তো আপনারা দেখছেন। দু’-চার ওভারের জন্য খেলার কোনও মানে হয় না। বরং তরুণ ক্রিকেটারেরা সুযোগ পেল। ওদের জন্য ভালই হল। ওরা যত বেশি খেলবে, তত অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। দলের যখন প্রয়োজন হবে, তখনই মাঠে নামব। আমার মনে হয় না, এখানে সত্যিই আমার খেলার দরকার ছিল। দল ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। আমি তো ব্যাটার হিসেবে খেলতাম না।’’ তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে প্রায় ৯০ মিনিট বোলিং অনুশীলন করেন শামি। প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না। সতীর্থদের নানা পরামর্শ দিয়েছেন। মাঠের বাইরে থাকলেও সব সময় সক্রিয় ছিলেন। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘হতাশার কোনও ব্যাপার নেই। গত মরসুমেও আমি সব ম্যাচ খেলেছি। আমার লক্ষ্য আগামী প্রতিযোগিতাগুলোতেও যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলা। কার কখন প্রয়োজন হবে, তা কেউ জানে না।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘তা ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা আইপিএলের প্রস্তুতির জন্যও ভাল। যত বেশি খেলব, তত ভাল ছন্দে থাকব। দলের সঙ্গে থাকলে সব কিছুই ভাল থাকে। আমি সেই চেষ্টাই করি।’’ আপনি কি এখনও নিজেকে ভারতের অন্যতম সেরা জোরে বোলার হিসেবে বিবেচনা করেন? শামি বলেছেন, ‘‘নিজের প্রশংসা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রশ্নটা সাংবাদিকদেরই করা উচিত। তবে যে ম্যাচই খেলি, যে দলের হয়েই খেলি, নিজের সেরাটা সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করি।’’ ভুবনেশ্বর তো এত দিন পর জাতীয় দলে ফিরলেন। জাতীয় নির্বাচকেরা আপনাকে কোনও বার্তা দিয়েছেন? শামি বলেছেন, ‘‘আমি এখন দলে নেই। আমার সঙ্গে কোনও চুক্তিও নেই। কেন আমার সঙ্গে কথা বলতে যাবেন ওঁরা! তা ছাড়া, আমি এত কিছু ভাবি না। জীবনে কখন কী হবে কেউ জানে না। কে রান পাবে, কে উইকেট পাবে— আগে থেকে বলা যায় না। এত ভেবে তাই লাভ নেই। শুধু ম্যাচ খেলতে হবে আর যতটা সম্ভব নিজের উন্নতি করতে হবে।’’ শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য তিরস্কৃত শেফালি, জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কী করেছিলেন ভারতীয় ওপেনার? বাংলা দলও শামির কাছে আলাদা। বিশ্বাস করেন, বাংলাই তাঁকে বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘‘এই দলই তো আমায় পরিচিতি দিয়েছে। আপনারা কি আমায় কোনও ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছেন? তবে শুনুন, আজ আমার সব কিছুই এই দলের জন্য। যখন ক্রিকেটজীবন শেষ করব, সেই সময়ও এই দলের সঙ্গেই থাকতে চাই। কোন মঞ্চে বা স্তরে খেলছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রত্যেকের আনুগত্য থাকা উচিত। কঠোর পরিশ্রম করা উচিত। আমি সেটাই করি। কারণ শুধু এটুকুই আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। বাকি কিছুই আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। শুধু খেলে যেতে হবে। যখন যেমন সুযোগ পাব, খেলে যাব।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles