Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

পুলিশি ‘নির্যাতন’ নিয়ে সরব রাহুল এবং পড়ুয়ারা‘! যৌনাঙ্গে আঘাত’, কানে থাপ্পড় খেয়ে কেউ ‘হারিয়েছেন শ্রবণশক্তি’!

RK NEWZ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের আটক করে বেধড়ক মারধর এবং হেনস্থার অভিযোগ তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। বুধবার নিগৃহীত পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। অভিযোগ, পুলিশের মারে এক ছাত্রী শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। আঘাত করা হয়েছে এক জনের যৌনাঙ্গেও! রাহুলের সামনে দাঁড়িয়ে এক ছাত্র বাঁশি বাজিয়ে দিল্লি পুলিশের হেনস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রাহুলের দাবি, পুলিশের ডান্ডার জবাব এ ভাবেই অন্য ডান্ডার (বাঁশি) মাধ্যমে দেবেন। সাংবাদিক বৈঠকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে এগিয়ে দেন রাহুল। কেরলম থেকে দিল্লিতে পড়তে এসেছেন আথিরা। মঙ্গলবার অন্যদের সঙ্গে তিনিও রাজধানীর রাস্তায় বিক্ষোভ অভিযানে শামিল হয়েছিলেন। অভিযোগ, পুলিশ রাস্তা থেকে তাঁদের আটক করে বাসে তোলে। সেখানে এমন মারধর তাঁকে করা হয় যে, তিনি একটি কানে শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন। রাহুলের কথায়, ‘‘কেরলমের আথিরা এক কানে শুনতে পাচ্ছেন না আর। ওঁর কানে আঘাত করা হয়েছে। এর আগে আমি আপনাদের এক ছাত্রকে দেখিয়েছিলাম, যিনি অন্ধ হয়ে গিয়েছেন। এ বার এই ছাত্রী বধির হলেন।’’ ঘটনাবলি আথিরা নিজেও বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, আটক করে যে বাসে তাঁদের তোলা হয়েছিল, সেখানে কোনও মহিলা পুলিশকর্মী ছিলেন না। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ ক্ষুব্ধ হয়। কনট প্লেস থানার সামনে বাস দাঁড় করিয়ে তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই সময়েই তাঁর কানে এবং গালে পর পর থাপ্পড় মারা হয় বলে অভিযোগ আথিরার। ন্যাশনাল স্টুডেন্ট্‌স ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) আর এক ছাত্রীকেও সাংবাদিক বৈঠকে এগিয়ে দেন রাহুল। তাঁকে ‘শেরনি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ওই ছাত্রী চঞ্চল যাদব নামের এক মহিলা পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন।

অভিযোগ, কনস্টেবল চঞ্চল বাসের মধ্যে ধাক্কা দিয়ে তাঁকে সিটে ফেলে দেন। পরে নখ দিয়ে গালে আঁচড়ে দেন। বাধা দিতে গেলে বার বার থাপ্পড় মারা হয় ছাত্রীকে। এর পর থানার ভিতরেও চলে মারধর। অভিযোগকারী ছাত্রীর কথায়, ‘‘থানায় ১০৭ নম্বর ঘরে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সাদা পোশাকের মহিলা পুলিশকর্মীরা আমাদের মারধর করেছেন। আমাদের হাতে-পায়ে কালশিটে দাগ হয়ে গিয়েছে। চঞ্চল যাদব নামের ওই কনস্টেবল বলছিলেন, ‘এত ঘন ঘন তোমরা এখানে এসো না। আমরা কী করতে পারি, দেখিয়ে দেব। শুধু অপেক্ষা করো। তোমাদের নেতাদের সম্পর্কে আমরা সব জানি।’ কোনও পুরুষ পুলিশকর্মীও ওঁকে বাধা দেননি।’’ রাহুল যাঁকে ‘শেরনি’ বলেছেন, তিনিই পুলিশের বিরুদ্ধে অন্য এক ছাত্রীর যৌনাঙ্গে আঘাত করার অভিযোগ তুলেছেন। দাবি, পুলিশি হেনস্থার হাত থেকে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন কেরলমের এক ছাত্রী। তাঁর যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয়। রাস্তায় ফেলে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। উল্লেখ্য, রাহুলের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের এই দাবি একতরফা। এ বিষয়ে পুলিশের কোনও বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবি জানিয়ে পথে নেমেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা-কর্মীরাও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। গত শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির কর্মসূচির আগে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। অভিযোগ, উকিল, সাংবাদিকদেরও তুলে নিয়ে যাওয়া হয় রাস্তা থেকে। পরে তাঁদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ বার মঙ্গলবারের ধরপাকড়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর, হেনস্থার অভিযোগ উঠল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles