RK NEWZ ব্যক্তিগত জীবনের তীব্র ঝড়ঝাপ্টা। আইনি জটিলতা। অনিশ্চয়তায় ছিল ক্রিকেট কেরিয়ার। আদৌ থাকবে কিনা তা নিয়েও সংশয় ছিল। নিরাশার অন্ধকার। যৌন নির্যাতনের দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন। জেলে গিয়েছেন। আবার ফিরেও এসেছেন। মনের জোর হারাননি অভিষেক পোড়েল। নিজেকে শক্ত রেখে অপেক্ষা করেছেন একটা সুযোগের। অবশেষে সুযোগ এল রনজির মঞ্চে। ধর্ষণের অভিযোগে ৩৬ দিন কারাবাসের পর প্রথমবার ব্যাট করতে নেমেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন বাংলার জার্সিতে। বাংলা দলে সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচেই যাবতীয় উত্তর দিয়েছেন অভিষেক পোড়েল। দিল্লির বিরুদ্ধে রঞ্জি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনেই শতরান। রাজকীয় প্রত্যাবর্তন বাংলার উইকেটকিপার-ব্যাটার অভিষেকের। প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ। পুলিশ এবং জেলে কাটাতে হয়েছিল ভারতের এই তরুণ ক্রিকেটারকে। রঞ্জি ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচেই দিল্লির বিরুদ্ধে অনবদ্য এক শতরান হাঁকিয়ে সব বিতর্ক ও নিন্দার জবাব দিলেন। কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট একাডেমি মাঠে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে ৫ নম্বরে ব্যাটিং করতে নামেন অভিষেক। দিল্লির বোলারদের শাসন করে ১৩৭ বলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যান। শতরান পূর্ণ করার পরপরই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে পিচের ওপরেই হাঁটু গেড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটার। মাঠের আম্পায়ার এবং সতীর্থ সুদীপ কুমার ঘরামি এগিয়ে এসে তাকে সান্ত্বনা দেন। এরপর উঠে দাঁড়িয়ে ড্রেসিংরুম ও সতীর্থদের করতালির অভিবাদন গ্রহণ করেন। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১৬১ বলে ১১৪ রানে অপরাজিত অভিষেক পোড়েল। অপর প্রান্তে ১২২ রানে অপরাজিত সুদীপ কুমার ঘরামি।

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস-সহ একাধিক অভিযোগ বিদ্ধ উইকেটকিপার-ব্যাটার। ধর্ষণ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তারির নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন অভিষেক। প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজত চাওয়া হয়েছিল। তারপর সেই মেয়াদটা বেড়ে দাঁড়ায় একমাসে। ৩৬ দিন জেলে কাটানোর পর অবশেষে ১৭ সেপ্টেম্বর জামিন মেলে। রনজির জন্য বাংলার প্রাথমিক দল ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। অভিষেক জায়গা পাননি। জামিন পাওয়ার পর অভিষেক যোগ দেন বাংলা শিবিরে। হেড কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় ২৩ বছরের তরুণ তুর্কি ফেরেন ক্রিকেট মাঠে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাটিং প্র্যাক্টিস। লক্ষ্মী-সৌরভদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলছেন, “ওই সময়টা অনেকেই পাশে ছিল। ঈশান কিষান, অভিষেক শর্মারা ফোন করেছে, সাহায্য করতে চেয়েছে। কোচরাও সকলে আমাকে বেশি সময় ধরে অনুশীলন করিয়েছেন। ওই অন্ধকার সময়টা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। তবে আমি নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। সেঞ্চুরি করার পর কাঁদতে চাইনি, তবে আবেগের বশে চোখে জল এসে গিয়েছিল।” ধর্ষণের অভিযোগ এখনও ঝুলছে তাঁর মাথার উপর। সব ভুলে ক্রিকেটে কামব্যাক! কারাবাস অতীত। অন্ধকার থেকে আলোয় প্রত্যাবর্তন।




