Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা! সমাজের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য খুব জরুরি

RK NEWZ অবৈধ বালি উত্তোলন। রাজনৈতিক নেতাদের তোলাবাজির চিরাচরিত প্রথা। একের পর এক দুর্নীতির চিত্র। পরিচালক ধ্রুব ত্রিপাঠী তাঁর ‘রিপোর্টিং লাইভ’ ছবির জন্য এমনই এক বিষয় বেছে নিয়েছেন, যা দর্শককে আবারও মনে করিয়ে দেবে, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা আসলে সমাজের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য কতটা জরুরি। যে কোনও পেশাই সময়ের সঙ্গে বিবর্তনের দাবি রাখে। সাংবাদিকতাও এর ব্যতিক্রম নয়। প্যাশন ও সততা থেকে শুরু করে যে পেশা এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টিআরপি আর প্রফিটের ঘেরাটোপে বন্দি – সে বিবর্তন খারাপ লাগা টেনে আনে মূলত। তবু তারই মাঝে উঁকি দিয়ে যায় এমন কিছু অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতা যা এই পেশাকে আজও বাঁচিয়ে রাখে। যদিও সকলেই ওয়াকিবহাল যে এর পিছনে ঠিক কতটা লড়াই ও ঝুঁকি জড়িয়ে রয়েছে, বিশেষ করে বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে। সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা সমাজের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য খুবই জরুরি। এই ছবির গল্প এক সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যা এর তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়। জনপ্রিয় খবরের চ্যানেলে ‘প্রাইম টাইম’ খবরের খোঁজ করতে করতে হঠাৎই সেরকমই এক ঘটনার খোঁজ পায় সাংবাদিক সন্ধ্যা যাদব (পরিণীতি চোপড়া) ও তার ক্যামেরাম্যান বিনোদ শর্মা (দেবেন ভোজানি)। ভিসারগাঁওয়ে ব্রিজ ভেঙে বেশ কিছু বাচ্চার মৃত্যু হওয়ার পর বেরিয়ে পড়ে ঘটনার পিছনের আসল সত্য – অবৈধ বালি উত্তোলন। দৃঢ়চেতা স্থানীয় এক ব্যক্তি– শিবা কাকা (অমল পালেকর), তাদের দুজনকে এমন এক গভীর দুর্নীতির দিকে নির্দেশ করে, যা নীরবে নদীর তীরকে ক্ষয় করছে এবং সেতুর ভিত্তিকে ভিতর থেকে দুর্বল ও অন্তঃসারশূন্য করছে। সন্ধ্যা ও বিনোদ লেগে পড়ে এর বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করতে। ধ্রুব ত্রিপাঠী ও মিহির যাদবের চিত্রনাট্য আগাগোড়াই নিউজরুমের চিরাচরিত দ্বন্দ্ব, প্রাইম টাইম খবর নিয়ে এডিটর ও মালিকের তর্ক এবং সৎ সাহসী সাংবাদিকদের নিজের কাজ করার জন্য কী মূল্য দিতে হয় – এই বিষয়ের প্রতি সৎ থেকেছে। গ্রামীণ সূত্রের ভঙ্গুর নিরাপত্তা এবং অফিসের ঠান্ডা ঘরে বসে সাংবাদিকতার ক্রমবর্ধমান সমস্যা নিয়েও তাঁদের বিস্তারিত গবেষণা এই ছবির সব চরিত্রে ও গল্পে ফুটে উঠেছে। কিন্তু ছবির ধারা যখন থ্রিলার তখন প্লট আগে থেকেই অনুমান করা গেলে সেটা হয় ছবির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। আর ‘রিপোর্টিং লাইভ’-এ প্রথম কয়েক মিনিট বাদ দিলে সহজেই অনুমান করা যায় এরপর কী কী ঘটতে চলেছে। নির্ভীক সাংবাদিক বনাম নির্মম সিন্ডিকেটের লড়াই এগোয় এমনভাবে যেখানে গল্পে কোনও নতুন মোড় আসে না। সমস্যা রয়েছে কাস্টিংয়েও। সাংবাদিক দুনিয়ায় নতুন অথচ সৎ কাজের অনবরত চেষ্টা করে যাওয়া সন্ধ্যার চরিত্রে অল্প কিছু জায়গা বাদ দিলে পরিণীতি চোপড়াকে মানায়নি। তবে দেবেন ভোজানি পরিণীতির দুর্বলতা বেশ খানিকটা ঢেকে দিয়েছেন। স্বল্প পরিসরে অমল পালেকর ও শ্বাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে ভালো লাগে। আদিল হুসেনের অভিনীত চরিত্রে আরও বেশি মনোযোগের প্রয়োজন ছিল। চ্যানেলের মালিকের চরিত্রে শেখর সুমনের অতি-অভিনয় চোখে লাগে। দৃশ্যপট ও আবহসংগীতও বিশেষ প্রভাব ফেলে না মনে। ফলে, এই ছবি থ্রিলার হয়েও, প্রয়োজনীয় সাসপেন্স তৈরি করতে অক্ষম থেকে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles