RK NEWZ বিতর্কিত বিষয়। রাজনৈতিক ইস্যু। মুখ খুলতে চান না ক্রিকেটাররা। সেখানে ব্যতিক্রম সঞ্জয় মঞ্জরেকর? বরাবরের ব্যতিক্রমী। এ দেশে ক্রিকেটাররা ঈশ্বররূপে পূজিত হন। অনেকেই তাঁদের আদর্শ ভাবেন। সেই দায় থেকেই হোক, বা ব্যক্তিগত বাধ্যবাধকতা, সচরাচর কোনও বিতর্কিত বিষয় বা রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে মুখ খুলতে চান না ক্রিকেটাররা। ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ নিয়ে দেশের প্রথম সারির অধিকাংশ ক্রিকেটারের মুখে কুলুপ। বর্তমান তারকারা তো বটেই প্রাক্তনরাও সেভাবে মুখ খুলছেন না। দিল্লিতে ককরোচ বিক্ষোভের সমর্থনে সুর চড়ালেন তিনি। যেভাবে ককরোচ নেতাদের শনিবার আটক করা হয়, তা নিয়েও সরব হন মঞ্জরেকর। সোশাল মিডিয়ায় তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলন তো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অঙ্গ। আমি যতদূর শুনেছিলাম ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ।” যেভাবে বিতর্কিত ইস্যুতে সঞ্জয় সুর চড়ালেন, সেটা বেশ চমকপ্রদ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘আরশোলা’রা। তবে সেই বিক্ষোভের আগেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছিল দিল্লি পুলিশ। সকালেই আটক করা হয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে। দিল্লিতে পা রাখার সুযোগও দেওয়া হয়নি ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে। বিমান থেকেই তাঁদের আটিক করে অজ্ঞাতবাসে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। শুধু ককরোচ নেতৃত্বকে নয়, আটক করা হয় বাম নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের কর্মীদেরও। এমএ বেবি, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, বৃন্দা কারাটদের মতো বাম নেতানেত্রীদেরও আটক করা হয়। আটক করা হয় কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও। সব মিলিয়ে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী আটক হন।
রবি সকালে দীপকে-সহ তিন সিজেপি নেতাকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়। তারপরই শর্তসাপেক্ষে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। আগামী এক বছর তাঁরা শান্তিভঙ্গ করতে পারবেন না। এই শর্তেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে তিন ‘ককরোচ’ নেতাকে। সঞ্জয় মঞ্জরেকর মূলত এভাবে বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর রবিবার সকালে মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। তারপর প্রথম সাংবাদিক বৈঠক করলেন তাঁরা। বললেন, “পিছু হটব না।” পাশাপাশি, দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, বিক্ষোভ জারি রাখার জন্য ‘ককরোচ’ নেতারা দেশবাসীকে আর্জিও জানিয়েছেন। দীপকে বলেন, “দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের উপর ব্যাপক দমন-পীড়ন হয়েছে। গত ৭২ ঘণ্টায় যা যা হয়েছে তা জরুরি অবস্থাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের আন্দোলন চলবে।” সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষের অভিযোগ, তাঁদের তিনজনকে আটক নয়, অপহরণ করেছিল দিল্লি পুলিশ। তিনি বলেন, “দিল্লি পুলিশ আমাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছে। শনিবার যখন দীপকেকে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর জানানো হয়, তখন পুলিশ অত্যন্ত নিষ্ঠুর আচরণ করে।” ‘ককরোচ’ নেতা সৌরভের দাবি, বর্তমান সরকারের পতন আসন্ন। কারণ, এই সরকার তার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষার চেষ্টা করছে। জ্ঞানেশই আসল দেশবিরোধী। সৌরভের অভিযোগ, তাঁকে আর কে পুরম এলাকায় আটক করে রাখা হয়েছিল। বাকি দু’জনকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘আরশোলা’রা। তবে সেই বিক্ষোভের আগেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছিল দিল্লি পুলিশ। শনিবার দিল্লিজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় হয়। আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য এদিন মুম্বই থেকে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দেন দীপকেরা। ১০টা ১৯ মিনিটে দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁদের বিমান নামতেই উড়ানের ভিতর থেকেই তাঁদের আটক করা হয়। তিনজনকে আলাদা আলাদাভাবে নিয়ে যাওয়া হয় অজ্ঞাতস্থানে। এরপর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ এবং ১৭০ ধারায় তিন সিজেপি নেতাকে সতর্কতামূলক গ্রেপ্তার করা হয়। শনি সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয় ধ্রুবকেও।




