RK NEWZ নবান্নর অদূরে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। রবিবার নবান্ন থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে শরৎ চ্যাটার্জি রোডে ছোট ভট্টাচার্য পাড়ায় রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়, পাশ থেকে পাওয়া গিয়েছে কেবিলের তার ও পেরেক। সরু গলিতে দুটি দোতলা বাড়ির মাঝখান থেকে ওই দেহটি পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের অনুমান, ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে। তাঁরা আরও জানান, অঞ্জন চক্রবর্তী ওরফে ছোটকা নামে ওই ব্যক্তি একা থাকতেন, বিদ্যুতের কাজ ভালো জানতেন। কে বা কারা কী কারণে তাঁকে এভাবে খুন করল, তা ভেবে পাচ্ছেন না প্রতিবেশীরা। চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত অঞ্জন ওরফে ছোটকার বয়স পঁয়তাল্লিশ বছর। তিনি সেভাবে কাজকর্ম করতেন না। একাই থাকতেন, রাস্তাঘাটে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াতেন। তবে বিদ্যুতের কাজ ভালো জানতেন বলে সেসব করে কোনওক্রমে নিজের পেট চালাতেন।

আয়ের অর্থে প্রচুর নেশা করতেন বলেও জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, যেখান থেকে ছোটকার দেহ উদ্ধার হয়, তার পাশেই একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি ও তাঁর মা। বছরখানেক আগে ভাড়া দিতে না পারায় ওই বাড়ি থেকে বাড়িওয়ালা বার করে দেয় তাঁদের। ছোটকার মা মারা যায়। তারপর একাই থাকতেন তিনি। রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াতেন। মৃত ব্যক্তির এক বন্ধু সৈকত পাল জানিয়েছেন, ছোটকারা তিন ভাই। ব্যাতাইতলা বাজারে একটি ছবির দোকান রয়েছে তাঁদের। ছোটকা ভাইদের মধ্যে ছোট। নবান্নের আশেপাশে ব্রিজের ধারেই খাওয়াদাওয়া করত এবং শুয়ে থাকত। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, বুঝতে পারছেন না বন্ধু। তবে স্থানীয় অন্যান্য বাসিন্দারা জানান, নেশা করতেন বলে মাঝেমাঝেই এলাকার লোক তাঁকে মারধর করতো। সেরকমই কোনও ঘটনা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। শনিবার রাতে ওই ব্যক্তিকে মারধর করে মারা হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। পুলিশও খুনের ঘটনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। ওই ব্যক্তির গলায় তার পেঁচিয়ে শরীরে পেরেক ঠুকে ঠুকে মারা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ।




