RK NEWZ পাহাড় ভ্রমণে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। পর্যটকরা ‘রোপওয়ে’-তে চড়ে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পৌঁছাতে পারবেন মাত্র ৪৫ মিনিটে। পাহাড় ভ্রমণে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। পর্যটকরা ‘রোপওয়ে’-তে চড়ে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পৌঁছাতে পারবেন মাত্র ৪৫ মিনিটে। এজন্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটির ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ শেষ হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে এমনই জানা গিয়েছে। কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং, বিশেষত ঘুম-এর পর রাস্তায় তীব্র যানজটের সমস্যা দেখা যায় প্রায় নিত্যদিন। ওই যানজট এড়াতেই ওই রোপওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা। রাতে এই রোপওয়ে মারফত পণ্য পরিবহণের কথাও ভাবা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের কর্তারা ওই বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। কারণ, প্রকল্পটি এখনও প্রস্তাব আকারে রয়েছে। সেটি কোনও বড় শিল্পগোষ্ঠীকে দিয়ে রূপায়ণের চেষ্টা চলছে। ঘুম থেকে দার্জিলিং শহরে পৌঁছতে রাস্তায় তীব্র যানজটের সমস্যা এড়াতে এই রোপওয়ে প্রকল্পের প্রস্তাব বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, গত মে মাসে শিলিগুড়ি থেকে সড়কপথে দার্জিলিং পৌঁছতে প্রায় আট ঘণ্টা সময় লেগেছিল। পর্যটকরা শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত দু’ঘণ্টায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর তীব্র যানজটে বাকি পথটুকু যেতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছে। রোপওয়ে পরিষেবা চালু হলে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং শহরে পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৪৫ মিনিট। প্রশাসনের কর্তারা সমীক্ষা চালিয়ে জেনেছেন, এই যানজটের মূল কারণ কার্শিয়াং ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে মাত্র একটি রাস্তা ‘হিল কার্ট রোড’ নামে পরিচিত ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। অথচ, শিলিগুড়ি ও কার্শিয়াংয়ের মধ্যে সংযোগকারী রাস্তার সংখ্যা তিনটি-হিল কার্ট রোড, রোহিণী রোড এবং পাঙ্খাবাড়ি রোড। ওই কারণে শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত গাড়িগুলো যানজটের সমস্যা ছাড়াই চলাচল করছে। সমস্যা শুরু হয় কার্শিয়াং পার হওয়ার পর। পর্যটন মরশুমে কার্শিয়াং ও দার্জিলিং শহরের মধ্যে ৩২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায় দিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। কারণ, হিল কার্ট রোড গাড়ির এত বিরাট চাপ সামলাতে পারছে না। কিন্তু দুর্গম ভূ-প্রকৃতির জন্য কার্শিয়াং ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে নতুন রাস্তা তৈরি করাও সম্ভব হচ্ছে না। ওই সমস্যা সহজেই মিটবে সড়কপথে কার্শিয়াং পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে কেবল কারে চড়ে দার্জিলিং শহরে যেতে পারবেন। এর ফলে যানজট কমবে। রোপওয়ে তৈরি হলে। তখন পর্যটকরা রাতে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং শহরে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে কেবল কার ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রশাসনের এক কর্তা জানান, কার্শিয়াং ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে চারটি অথবা পাঁচটি স্টেশন থাকবে। খাদ্যশস্য ও শাকসবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দার্জিলিংয়ে পাঠানোর কাজে রোপওয়ে ব্যবহার করা হবে। কারণ, ট্রাকে দার্জিলিং শহরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পাঠাতে রাস্তার যানজটের যন্ত্রণা বাড়ে। রোপওয়ের মাধ্যমে কালিম্পং ও গ্যাংটককে যুক্ত করা হবে।




