Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দেশের গনতন্ত্র আজ ধর্ষিত?‌‌জ্ঞানেশ কুমার একজন ক্রিমিনাল! সুপ্রিম কোর্টে মামলা! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধেএফআইআর

RK NEWZ ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে তিনি এফআইআর দায়ের করেন। ঘটনার নেপথ্যে যে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া অন্তত ১৪টি নীতিগত সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি তুলেছিলেন বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার— সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করে এবং পুরো কমিশনকে অন্ধকারে রেখেই একতরফাভাবে নিজের ইচ্ছেমতো সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে গিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পর মহুয়া মূলত তিনটি অভিযোগ তোলেন,
প্রথমত, নিয়ম বা রুল সংশোধন না করেই নতুন ভোটার নিবন্ধনের ‘ফর্ম-৬’-এ একটি বেআইনি প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে জানতে চাওয়া হচ্ছে আবেদনকারীর বাবা, মা, ঠাকুরদা বা ঠাকুরমার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল কি না। দ্বিতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৩৩ লক্ষ বৈধ ভোটারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন যে মামলা বা আপিল দায়ের করেছিল, সে বিষয়ে দুই কমিশনার সান্ধু ও জোশীকে বিন্দুমাত্র জানানো হয়নি। কার নির্দেশে এই আপিল করা হল তা নিয়ে অন্য দুই কমিশনার লিখিত প্রশ্ন করলেও সিইসি তার কোনও উত্তর দেননি। তৃতীয়ত, মহুয়ার অভিযোগ, কমিশনের ডিজি (আইটি) সীমা খান্নাকে সঙ্গে নিয়ে ভোটার তালিকায় মারাত্মক কারচুপি করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বুথ স্তরের কর্মকর্তা বা ইআরও-রা নথিপত্র যাচাই করে যাঁদের নাম ভোটার হিসেবে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন, ব্যাকএন্ড থেকে সিস্টেমের মাধ্যমে তাঁদের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে। ২০২৩ সালে কেন্দ্র সরকারের পাস করা ‘আইনি সুরক্ষাকবচ’ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলা হলে মহুয়া স্পষ্ট জানান, ওই আইনি সুরক্ষা কেবল কমিশনের যৌথ ও সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই কমিশনারের লিখিত বিরোধিতা ও নথিভুক্ত মতামতকে অগ্রাহ্য করে সিইসি একা যে সব ‘বেআইনি ও ভুয়ো’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার ক্ষেত্রে কোনও সুরক্ষাকবচ কার্যকর হতে পারে না। এই পুরো প্রক্রিয়াকে জালিয়াতি আখ্যা দিয়ে সিইসি-র বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের সওয়াল করেছেন।

জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ! কমিশনের সাফাই!‌

ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের নাম তুলতে ইচ্ছাকৃত ভাবে দেরি? অভিযোগ জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে! প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি, ২০২৪ সালের পর থেকে দেশ জুড়ে কোনও এসএসআর না হওয়ায় ফলে বহু তরুণ-তরুণী ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সাঁধু এবং জোশী এই ‘ঢিলেমি’ নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা জ্ঞানেশকে জানিয়েছিলেন। বিতর্ক এ বার নতুন ভোটারদের নাম তোলার বার্ষিক প্রক্রিয়া বা ‘বার্ষিক সংক্ষিপ্ত সংশোধন’ (‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ বা এসএসআর) প্রক্রিয়া স্থগিত রাখাকে কেন্দ্র করে। এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীর মতবিরোধের খবর প্রকাশ্য আসার পরেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাল নির্বাচন সদন। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম তোলায় গড়িমসির অভিযোগ উড়িয়ে কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালে এসআইআর শুরুর পর থেকে ১৮-২৮ বছর বয়সি ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের পর থেকে দেশ জুড়ে কোনও এসএসআর না হওয়ায় ফলে কয়েক কোটি তরুণ-তরুণী ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সঁধু এবং জোশী এই ‘ঢিলেমি’ নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা জ্ঞানেশকে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়। সাধারণ ভাবে ফর্ম-৬ পূরণ করেই নতুন ভোটারেরা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এর আগে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ফর্ম-৬-এর পরিবর্তন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা যুক্ত করা এবং সেন্ট্রাল ডাটাবেস অ্যাক্সেস সংক্রান্ত বিষয়ে অন্তত ১৪ বার ‘অন-রেকর্ড’ (চিঠি লিখে বা ফাইলে নোট দিয়ে) আপত্তি জানিয়েছেন। যদিও কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত আইন মেনেই হয়েছিল। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম তোলায় জ্ঞানেশের নির্দেশের গড়িমসির খবর প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা নতুন করে সুর চড়িয়েছে। এই আবহে শুক্রবার কমিশন জানিয়েছে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৪ নম্বর ধারার ২০২১ সালে করা সংশোধনী এবং ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী এমন যে কোনও ব্যক্তি যাঁর নাম ভোটার তালিকায় নেই বা যিনি ১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই বা ১ অক্টোবর ১৮ বছর বয়সে পৌঁছবেন, তিনি এসএসআর-এর জন্য অপেক্ষা না করেই ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তি করতে পারেন। এসএসআর এবং এসআইআর উভয়ই ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২১(৩) ধারার অধীনে করা হয়। দু’টিই একসঙ্গে করা আইনত বাধ্যতামূলক নয়। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন-এর ১৪(খ) ধারায় সংশোধনী অনুযায়ী যে যোগ্য নাগরিক চারটি তারিখের যে কোনও একটিতে ১৮ বছর পূর্ণ করেছেন, বা পূর্ণ করছেন, তিনি ফর্ম ‘৬-এ’-র মাধ্যমে অগ্রিম আবেদন জমা দিতে পারেন। আবেদনটি সংশ্লিষ্ট ত্রৈমাসিকে যাচাই করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিষয়টি চূড়ান্ত হয় বলে কমিশনের যুক্তি। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকেই বার্ষিক এসএসআর প্রক্রিয়া কার্যত থমকে গিয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি, কমিশনার সঁধু ও জোশীর যুক্তি ছিল, এসআইআর-এর মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে প্রতি বছর ১৮ বছর পূর্ণ করা তরুণ-তরুণীদের ভোটাধিকার পাওয়ার বাৎসরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম তোলার কাজ চলছে বলে দাবি করলেও কেন এসএসআর স্থগিত রয়েছে, সে বিষয়ে কোনও ‘সাফাই’ দেয়নি কমিশন।

গণতন্ত্রে বুলডোজার!‌ সুপ্রিম কোর্টে মামলা! কমিশন নীরব?‌

নির্বাচন কমিশন— ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে উঠেছিল। নরেন্দ্র মোদী সরকারের দৌলতে আজ সেই কমিশন ক্ষমতার অপব্যবহারের এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ভারতীয় গণতন্ত্রকে বিশ্বের কাছে কালিমালিপ্ত করল। গত নির্বাচনের আগে যে ভাবে এসআইআর পশ্চিমবঙ্গে সাধিত হয়েছিল, তা নিয়ে বহু আপত্তি ওঠে, প্রক্রিয়াগত ত্রুটির দিকে নির্বাচন কমিশন তথা কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এই সম্পাদকীয় স্তম্ভে লাগাতার এসআইআর প্রক্রিয়ার অগণতান্ত্রিকতার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। লাভ হয়নি, কেননা নির্বাচন কমিশন প্রায় স্বৈরক্ষমতায় প্রক্রিয়া চালিয়ে গিয়েছে, এবং বহু মানুষের ভোটাধিকার অগ্রাহ্য করে বিধানসভা নির্বাচন সংঘটন করেছে। কিছুতেই স্বীকার করেনি গণতন্ত্রের একটি মৌলিক নৈতিক শর্ত যে— ভোটার তালিকার সংশোধন জরুরি কাজ, কিন্তু ভোটের সময় এত লক্ষ ভোটারকে অন্যায় ভাবে বাদ না দেওয়া আরও অনেক বেশি জরুরি কাজ। পশ্চিমবঙ্গের মতো ব্যাপক ভাবে না হলেও অন্য রাজ্যেও এ নিয়ে বহুবিধ প্রশ্ন উঠেছে। তবে ক্রমশই বিষয়টি চাপা পড়ে গিয়েছে। ভারতের বর্তমান নিষ্করুণ রাজনীতি চর্চার ধরন মেনে এসআইআর-অনৈতিকতার বিষয়টিরও পরোক্ষ স্বীকৃতি ও স্বাভাবিকীকরণ ঘটেছে। ইতিমধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর একটি সর্বভারতীয় দৈনিক দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সমস্ত হিসাব পাল্টে দিল। নির্বাচন কমিশনের ভিতরে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক ধস উন্মোচিত হল। জানা গেল, তিন সদস্যের কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিরুদ্ধে অন্য দুই কমিশনার— সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী— গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন, ক্যাবিনেট সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছেন। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন শুধু বাইরে থেকে গণতন্ত্রের উপর বুলডোজ়ার চালায়নি, ভিতর থেকেও চালিয়েছে।

জ্ঞানেশের ইস্তফা চেয়ে ক্রমশ বিক্ষোভ রাজ্যে রাজ্যে!‌

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে বিরোধী দলগুলি কেন তাকে বৈধতা দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সিজেপির প্রধান। সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের পাল্টা বক্তব্য, বিরোধীরা ভোট বয়কট করার অর্থ, সব আসন একাই জিতে যাবে বিজেপি। শুধু বিরোধীরা নয়, এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে সরব শাসকজোট এনডিএ-র তিন শরিকদলও। তাদের দাবি, বিরোধীদের স্বার্থে না-হলেও সাধারণ ভোটারদের স্বার্থে মুখ খুলুন জ্ঞানেশ। জল গড়াল সুপ্রিম কোর্টেও। সেখানে মামলা করে বলা হল, ‘সাধারণ অভিযুক্তের মতোই’ বিচারের আওতায় আনা হোক মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাল বিরোধী দলগুলি। তাঁদের দাবি একটাই— ইস্তফা দিন জ্ঞানেশ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী ফর্ম-৬-এর পরিবর্তন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা যুক্ত করা এবং সেন্ট্রাল ডেটাবেস অ্যাক্সেস সংক্রান্ত বিষয়ে অন্তত ১৪ বার ‘অন-রেকর্ড’ (চিঠি লিখে বা ফাইলে নোট দিয়ে) আপত্তি জানিয়েছেন। যদিও কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, সমস্ত সিদ্ধান্ত আইন মেনেই হয়েছিল। সেই নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কংগ্রেস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলির দাবি, ‘ভোটচুরি’ করা হয়েছে। আদতে ভোটারদেরই প্রতারণা করা হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সময় আসবে, ছাড় পাবেন না! বিচার হবে। এ বার বিচার চেয়ে গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পথে নামল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। আটক হলেন বহু নেতা-কর্মী। ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকের প্রশ্নের তির আবার বিরোধীদের দিকেই। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে বিরোধী দলগুলি কেন তাকে বৈধতা দিচ্ছে? জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারী শৈলেন্দ্র মানি ত্রিপাঠীর দাবি, জ্ঞানেশকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনা দরকার। সেই সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনে গাফিলতির জন্য সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ এবং ডিরেক্টর জেনারেল (আইটি) সীমা খন্নাকেও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের (আরপিএ আইন) ৩২ নম্বর ধারার অধীনে তদন্ত এবং বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে মামলায়। শৈলেন্দ্র পেশায় আইনজীবী। ২০২৩ সালের আইন অনুযায়ী সরকারি কাজ বা যে কোনও পদক্ষেপের জন্য বিশেষ রক্ষাকবচ পান নির্বাচন কমিশনারেরা। সেই রক্ষাকবচ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী। আবেদনে তিনি বলেছেন, ‘‘যখন কোনও কাজ এবং সরকারি দায়বদ্ধতার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে না, তখন যৌক্তিক সংযোগ বাতিল হয়ে যায়। সেই কারণেই ২০২৩ সালের আইনের ১৬ নম্বর ধারার অধীনে প্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনারদের রক্ষাকবচও অকার্যকর হয়ে যায়।’’ প্রশ্ন উঠেছে নতুন ভোটারদের নাম তোলার বার্ষিক প্রক্রিয়া বা ‘বার্ষিক সংক্ষিপ্ত সংশোধন’ (‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ বা এসএসআর) প্রক্রিয়া স্থগিত রাখাকে কেন্দ্র করেও। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম তোলায় গড়িমসির অভিযোগ উড়িয়ে কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালে এসআইআর শুরুর পর থেকে ১৮-২৮ বছর বয়সি ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেও সরব হয়েছে এনডিএ-র তিন শরিক দল— লোক জনশক্তি পার্টি, টিডিপি এবং রাষ্ট্রীয় লোকদল। তাদের দাবি, জনগণের স্বার্থে মুখ খুলুন জ্ঞানেশ। সাধারণ মানুষের উদ্বেগ নিরসন করুন।

জ্ঞানেশ-কাণ্ডে সরব হয়েছে এনডিএ-র তিন শরিক দল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান, রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহা জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে জনগণের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কমিশনের এ বার মুখ খোলা উচিত। পটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নে চিরাগ জানান, বিরোধীদের প্রশ্ন নিয়ে মুখ খোলার প্রয়োজন নেই, তবে জনগণের উদ্বেগ নিরসন করা উচিত। তাঁর কথায়, ‘‘একটা বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, সাংবিধানিক সংগঠনের হয়ে কথা বলতে চাই না। বিরোধীরা যা বলছে, তা নিয়েও আমি খুব একটা চিন্তিত নই, কারণ ওটাই ওদের রাজনৈতিক অবস্থান।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘তবে বলতে পারি, বিরোধীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের ভরসা ধরে রাখতে নির্বাচন কমিশনের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা দরকার।’’ উপেন্দ্র সংবাদমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে একই ভাবে কমিশনকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার কথা বলেছেন। টিডিপি নেতা চন্দ্রবাবু নাইডুরও একই দাবি। তাঁরও মত, জ্ঞানেশের এ বিষয়ে মুখ খোলা উচিত। দেশ জুড়ে বিরোধী দলের সমর্থকদের এখন একটাই দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। শুক্রবার বিভিন্ন রাজ্যে পথে নেমেছেন কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকেরা। দিল্লিতে কংগ্রেস সমর্থকদের একটি দল ব্যারিকেড ভেঙে নির্বাচন কমিশনারের দফতরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ বেশ কয়েক জন কংগ্রেসকর্মীকে আটক করে। দুপুরে আটক করা হয়েছে যোগেন্দ্র যাদব, আইসা নেত্রী নেহা বরা, অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিক্ষোভের জন্য আগে থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। অসমেও বিক্ষোভ দেখানোর সময় জেলা কংগ্রেস প্রধান গৌরব গগৈ-সহ বেশ কয়েক জন কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পটনায় মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের উদ্দেশে এগোচ্ছিলেন বহু কংগ্রেস সমর্থক। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। পুদুচেরী, ইম্ফল, শিমলা, শ্রীনগর, দেহরাদূন, জম্মু, কলকাতা-সহ আরও বেশ কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘বিজেপির হয়ে ভোটচুরির’ অভিযোগ

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরেই বিরোধী দলগুলি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘বিজেপির হয়ে ভোটচুরির’ অভিযোগ এনেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে বিরোধী দলগুলি কেন তাকে বৈধতা দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রধান দীপকে। শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে দেশের বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে দীপকে বলেন, “ভোটে কারচুপি হচ্ছে। কিন্তু আপনি যদি কারচুপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তা হলে সেগুলিকে বৈধতা দেওয়া হয়ে যায়। নির্বাচন অবাধ এবং স্বচ্ছ এমন একটি ভুল ধারণাও তৈরি হয়।” দীপকের মতে, অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্যই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ‘কারচুপির’ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই সূত্রেই বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে সিজেপি নেতার প্রশ্ন, “যখন ভোট চুরি হয়ে যাচ্ছে, আপনাদের বিধায়ক-সাংসদদের ভাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে, দল ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, তখন কোন ধরনের অস্তিত্ব টেকানোর চেষ্টা করছেন আপনারা?” একই সঙ্গে দীপকের সংযোজন, “যে ব্যবস্থা আপনাদের দুর্বল করে, দল ভেঙে দেয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভাঙিয়ে নেয়, সেই ব্যবস্থা এই ভাবে কত দিন টিকে থাকা সম্ভব?” এই প্রসঙ্গে মমতাপন্থী তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সমাজমাধ্যমে লেখেন, বিরোধীরা ভোট বয়কট করার অর্থ, সব আসন একাই জিতে যাবে বিজেপি। ভোটে না লড়াই করলে তা দলের কর্মীদের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারকে না জানিয়েই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলি খারিজ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মানি ত্রিপাঠী। কমিশনের অন্দরে জ্ঞানেশের সিদ্ধান্তগুলিকে খারিজ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘সাধারণ অভিযুক্তের মতো’ আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন মামলাকারী। ভোটারদের নাম তোলার বার্ষিক প্রক্রিয়া বা ‘বার্ষিক সংক্ষিপ্ত সংশোধন’ (‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ বা এসএসআর) প্রক্রিয়া স্থগিত রাখাকে কেন্দ্র করেও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম তোলায় গড়িমসির অভিযোগ উড়িয়ে কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালে এসআইআর শুরুর পর থেকে ১৮-২৮ বছর বয়সি ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের পর থেকে দেশ জুড়ে কোনও এসএসআর না হওয়ায় ফলে কয়েক কোটি তরুণ-তরুণী ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সঁধু এবং জোশী এই ‘ঢিলেমি’ নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা জ্ঞানেশকে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়। সাধারণ ভাবে ফর্ম-৬ পূরণ করেই নতুন ভোটারেরা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। খবর প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা নতুন করে সুর চড়িয়েছে। এই আবহে শুক্রবার কমিশন জানিয়েছে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৪ নম্বর ধারার ২০২১ সালে করা সংশোধনী এবং ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী এমন যে কোনও ব্যক্তি যাঁর নাম ভোটার তালিকায় নেই বা যিনি ১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই বা ১ অক্টোবর ১৮ বছর বয়সে পৌঁছোবেন, তিনি এসএসআর-এর জন্য অপেক্ষা না-করেই ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তি করতে পারেন। এসএসআর এবং এসআইআর উভয়ই ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২১(৩) ধারার অধীনে করা হয়। দু’টিই একসঙ্গে করা আইনত বাধ্যতামূলক নয়। জ্ঞানেশের কন্যা বলেই কি নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপমের মামলা রস্টার অমান্য করে একটি নির্দিষ্ট বেঞ্চে পাঠানো হচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিল আইনজীবীদের সংগঠন ‘লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন’। বুধবার জ্ঞানেশ-কন্যার মামলার শুনানির সময় ভিডিয়ো কনফারেন্সের অডিয়ো মিউট রাখা হয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আইনজীবীদের ওই সংগঠনটি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, সুপ্রিম কোর্টে গত ১৩ জুলাই থেকে যে রস্টার চালু রয়েছে, তাতে হেবিয়াস কর্পাস এবং সতর্কতামূলক আটক সংক্রান্ত মামলাগুলি প্রথম চারটি বেঞ্চে যাওয়ার কথা। অর্থাৎ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি এমএম সুন্দরেশের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে যাওয়ার কথা। বস্তুত নয়ডার যে শ্রমিক বিক্ষোভের সূত্রে জ্ঞানেশ-কন্যা মেধার নাম উঠে আসে, সেই সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলি বিচারপতি নাগরত্নের বেঞ্চেই রয়েছে। তা হলে এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মেধা এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের দু’টি মামলা একত্রে বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চে তালিকাভুক্ত হয় কী করে, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েই।

জ্ঞানেশ-বিতর্কে জোরদার বিরোধীদের জোটধর্ম!

দিল্লিতে বৈঠকে বসছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের মাঝে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই বৈঠক থেকেই বিরোধী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হতে পারে। ইতিমধ্যে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার। কথা হয়েছে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গেও। এ বার শনিবার বিকেলে শ্রীরামপুরের সভা থেকেও জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের ‘ঐক্য’ বোঝাতে চাইলেন মমতা। “সারা দেশ ঐক্যবদ্ধ। জোটবদ্ধ। আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবেই লড়াই করব। কে লাল, কে নীল, কে হলুদ দেখার দরকার নেই। নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতেই হবে। আমরা দেখব না ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’ না কি ‘জ়েড’ দল আন্দোলন করছে। আমরা দেখব ইস্যুটা। সেটা যদি মানুষের পক্ষে হয়, কোন পার্টি, কী কালার আমার দেখার প্রয়োজন নেই। আমরা থাকব তাদের সঙ্গে।” কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক বরাবরই ভাল। রাহুলের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে এ বারের বিধানসভা ভোটের আগে পর্যন্ত কংগ্রেসকে বিভিন্ন সময়ে খোঁচাও দিয়েছেন তিনি। বিধানসভা ভোটে বিজেপির জয়ের পরে অবশ্য ফের সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। তৃণমূলের ভোট বিপর্যয়ের পর মমতাকে ফোন করেছিলেন রাহুল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও ফোনে কথা হয় লোকসভার বিরোধী দলনেতার। ভিন্ন পথে শ্রীরামপুরে মমতা! নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে গেল পুলিশের গাড়ি, উত্তরপাড়ায় অশান্তির পর কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিধানসভা ভোট পরবর্তী সময়ে কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেন মমতা। সেখান থেকেও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের উদ্দেশে জোটবার্তা দেন তিনি। বাম এবং অতিবাম দলগুলিকে তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধার ডাক দিয়েছিলেন। এ বার সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মমতার আলোচনা ফের জাতীয় রাজনীতির পরিসরে দুই প্রতিপক্ষকে কাছাকাছি নিয়ে এল বলে মনে করছেন অনেকে। পূর্বের জোট-আহ্বানের কথা স্মরণ করিয়ে এ দিন মমতা বলেন, “আমি তো প্রথমেই বলেছিলাম, আসুন সবাই জোট বাঁধি। আসুন সবাই তৈরি হই। সে দিন অনেকেই অনেক কিছু বলেছিলেন।” রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাকে মিস্টার বেবি চিঠি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন— আমরা মনে করি এটা বড় ইস্যু। আসুন আমরা একসঙ্গে বসি।” তাঁর সংযোজন, “আমি সঙ্গে সঙ্গে বলেছিলাম— হ্যাঁ, আমি আপনার সঙ্গে একমত। চলুন একসঙ্গে আলোচনায় বসি।”

‘ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো’
এসআইআর পর্ব থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকে নিশানা করে এসেছেন মমতা। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের প্রচারের সময়েও বার বার তোপ দেগেছেন জ্ঞানেশকে। এ বার নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর কলকাতার বাইরে প্রথম জনসভা থেকে ফের জ্ঞানেশকে বিঁধলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে সরব হন তিনি। বলেন, “ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো। যত দিন না যাবেন, আমাদের আন্দোলন চলবে।” পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও এ দিন ফের কমিশনকে নিশানা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তোপ দাগেন সীমা খন্নার বিরুদ্ধেও। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে মমতার দাবি, তাঁর দলই প্রথম সীমা খন্নার কথা প্রকাশ্যে এনেছিল।

‘আমরা হারিনি, জোর করে হারিয়েছে’
নির্বাচনে পর্যুদস্ত হওয়ার পর থেকেই মমতা বলে আসছেন, তাঁর দল হারেনি। এ দিন কমিশন এবং বিজেপি-কে বিঁধে ফের সেই একই দাবি করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আমরা হারিনি। আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে।” মমতার দাবি, নির্বাচনের সময়ে ইভিএম মেশিন, গণনাকেন্দ্র ‘হাইজ্যাক’ করা হয়েছে। “আস্তে আস্তে সবই বেরিয়ে আসবে। সত্য চাপা দিয়ে রাখা যায় না,” বলেন তিনি।

‘দিল্লি টলমল’! তোপ মমতার
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত হলেও জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-কে কোনঠাসা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মমতা। শনিবার শ্রীরামপুরের সভা থেকে ফের কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন তিনি। মমতার কথায়, “দিল্লি টলমল”। ২০২৯ সাল পর্যন্ত বিজেপি টিকবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। “ঝড় উঠেছে ঝড়। চার দিকে ঝড়। ঝড়ে খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে,” বলেন মমতা।

পুলিশকে হুঁশিয়ারি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যেতে গিয়ে ‘আক্রান্ত’ হলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন হয় যে গাড়ি ঘুরিয়ে কলকাতায় ফিরে আসতে হয় তাঁকে। মমতাকেও ঘুরপথে পৌঁছোতে হয় সভাস্থলে। পরে সভামঞ্চ থেকেও কুণালের উপরে হামলা নিয়ে সুর চড়ান তৃণমূল নেত্রী। শুধু তা-ই নয়, কালীঘাট তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদেরও পুলিশ হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। “আমি আসার আগে খবর পেয়েছিলাম, উত্তরপাড়া, জিটি রোড জ্যাম করে রেখে দেওয়া হয়েছে। যারা আসছিল, কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমাদের বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। শ্রীরামপুরেও কাল রাতে সবার বাড়ি বাড়ি গিয়েছে পুলিশ,” বলেন মমতা।

বাহিনীকে নিশানা করে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “পুলিশ কিন্তু আমার শত্রু নয়। আমি মনে করি আপনারাও আমার পরিবারের অংশ। কিন্তু বিজেপি আপনাদের দিয়ে যে কাজটা করাচ্ছে— এক বার নিজের পরিবারকে, নিজের বিবেককে জিজ্ঞেস করে দেখবেন… আপনারা মানুষের পাহারাদান হোন। কিন্তু আপনারা আজ কী করছেন! আমাদের তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি গিয়ে গিয়ে সারারাত থ্রেট করেছেন।”

রাজ্য সরকারকে খোঁচা
এ দিনের সভা থেকে রাজ্যের বিজেপি সরকারকেও একহাত নেন মমতা। সরব হন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-পাওয়াকে কেন্দ্র করে মহিলাদের একাংশের ক্ষোভ নিয়েও। যোজনার সব শর্ত কেন ভোটের আগে বলা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তৃণমূলনেত্রীর। তাঁর অভিযোগ, “মা-বোনেদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।” সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “এই ক’মাসে যা অত্যাচার দেখলাম, যমরাজও এত অত্যাচার করে না। এই চার মাসে কত লক্ষ কোটি টাকা লুট হয়েছে! মিষ্টির দোকান, বিরিয়ানির দোকানে গিয়ে বলছে টাকা চাই! কয়লা, জমি, বালির টাকা চাই।” রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে পুলিশ সংখ্যালঘুদের ভোটার কার্ড ‘কেড়ে নিচ্ছে’ বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূলনেত্রী। বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আগেও বার বার সরব হয়েছেন তিনি। এ বার পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে মমতার দাবি, “যোগীরাজ্যেও এত অত্যাচার হয়নি।”

‌‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করতে নেমেছেন জ্ঞানেশ কুমার!‌

নির্বাচন কমিশনের ৩ শীর্ষ আধিকারিকের একফ্রেমে ছবি প্রকাশ করে ধামাচাপার চেষ্টা। নির্বাচন কমিশনের ৩ শীর্ষ আধিকারিকের একফ্রেমে ছবি ও বিবৃতিকে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বলছেন বিরোধীরা। কমিশনের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, এসআইআর নিয়ে কমিশনের অভ্যন্তরে কোনও মতপার্থক্য ছিল না। এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখেছে কমিশন। জানানো হয়েছে, বিহার থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্যান্য ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের ২৪ জুন এসআইআর নির্দেশ জারি হয়েছিল। কমিশনের সর্বসম্মতিতেই সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। গোটা বিতর্কের সূত্রপাত গত ২৩ সেপ্টেম্বর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর রিপোর্টকে কেন্দ্র করে। যেখানে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে এসআইআর, ভোটার অন্তর্ভুক্তি/বাদ, ডেটা কেন্দ্রীকরণ নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের অন্তত ১৪টি সিদ্ধান্তে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন বাকি দুই কমিশনার। এই ঘটনার পরই সরব হয় বিরোধী শিবির। এরপর নির্বাচন কমিশনের ৩ শীর্ষ আধিকারিকের একফ্রেমে ছবি ও বিবৃতিকে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বলছেন বিরোধীরা। কমিশনের অন্দরে কলহ, স্বেচ্ছাচারিতা করছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, এসআইআর-সহ একাধিক ইস্যুতে একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টকে কেন্দ্র করে গোটা দেশ যখন উত্তাল, বিরোধীরা ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। ঠিক সেই সময় একফ্রেমে ছবি প্রকাশ করে যাবতীয় সংঘাতের জল্পনায় জল ঢালল নির্বাচন কমিশন। বার্তা স্পষ্ট কোনও দ্বন্দ্ব নেই কমিশনের অন্দরে। শুধু তাই নয়, কমিশনের তরফে বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, ঐক্যমতের ভিত্তিতেই দেশজুড়ে এসআইআর-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ‘বিদ্রোহী’ ২ সতীর্থ বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিং সান্ধুর সঙ্গে আলোচনায় বসেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার। সেই বৈঠক শেষে একফ্রেমে তিন কমিশনারের ছবি প্রকাশ করা হয়। সেই সঙ্গে দেওয়া হয় বিবৃতিও। যেখানে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল তা কোনও নীতি বা তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ নিয়ে নয়, বরং নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে থাকা এক আধিকারিকের কাজের বণ্টন নিয়ে। কাজ বণ্টনের নির্দেশ দুই নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশের পরও কার্যকর হয়নি এবং আইটি ডিভিশনের উপর ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের তদারকিও প্রত্যাহার করা হয়নি। প্রসঙ্গত, ২ নির্বাচন কমিশনার যে চিঠি লিখেছেন তাতে কমিশনের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের কাজকর্ম নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষ করে ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি ও বাদ দিতে যে সফটওয়্যার তৈরি হয়। তাঁর সফটওয়্যারের কাজের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি ছিল ওই ২ জনের।

ভোট চুরি থেকে আইন চুরি দেশদ্রোহী নির্বাচন কমিশনারের

দেশের মুখ্য নির্বচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ফের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে এককাট্টা বিরোধী শিবির। সূত্রের খবর, সংসদের দু’কক্ষেই নোটিস জারি করা হতে পারে। তার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। নোটিসের সপক্ষে আইনি পরামর্শও নিচ্ছে বিরোধীরা। এর আগে জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে লোকসভা এবং রাজ্যসভায় প্রস্তাব আনা হয়েছিল। যদিও বিরোধীদের জারি করা নোটিস খারিজ করে দেওয়া হয়। দেশীয় সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা ও কমিশনের অন্দরের টানাপোড়েনের বিষয় নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, গত ১০ মাসে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে একাধিকবার মতপার্থক্য হয়েছে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী ও সুখবীর সিং সিধুর। অভিযোগ, তাঁদের আপত্তি সত্ত্বেও একাই একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। এর ভিত্তিতেই এবার জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে বিরোধী শিবির। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদ থেকে সরাতে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হচ্ছে বলে খবর। কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ প্রস্তাবের একটি খসড়াও তৈরি হচ্ছে। বিরোধী দলগুলি পৃথকভাবে সংসদের দুই কক্ষেই নোটিস জারি করতে পারে। জ্ঞানেশের পদত্যাগ, গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, রাহুল গান্ধীরা। এই মর্মে বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে জ্ঞানেশকে তদন্তের আওতায় আনার আবেদন জানান তিনি। সেই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘ক্রিমিনাল’ বলে কটাক্ষ করে মহুয়া বলেন, “দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সিধু এবং বিবেক জোশীর সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার যা করছেন, তা বেআইনি। তাঁদের অগ্রাহ্য করে জ্ঞানেশ কুমার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” এই প্রসঙ্গে রাজ্যসভার তৃণমূল ডেরেক ও’ব্রায়েন ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই বার্তা দিয়ে একটি বিবৃতিও জারি করেন। উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ। সেই পদের বিরোধিতা করে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের সম্মতি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিরোধী শিবির নতুন করে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনলে, তা সংসদে গৃহীত হয় না কি খারিজ হয়ে যায়, সেটাই দেখার।

“ভোট চুরি থেকে আইন চুরির জন্ম। আজ ভোট নেই, আইন প্রণয়নের ব্যবস্থাও নেই। যদি ভোট চুরি হয়ে থাকে, তবে ভোট চুরির মাধ্যমে সংসদে আসা আইনপ্রণেতারা যেসব আইন বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন এনেছেন, সেগুলোও অবৈধ।” বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ভাষাতেই একধারে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে দেশদ্রোহী বলেও তোপ দাগলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার বিস্ফোরক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনে ঘোরতর ভিন্নমতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে! অপর দুই কমিশনারের বক্তব্য উপেক্ষা করে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার গত ১০ মাসে বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের লিখিত আপত্তি জানিয়েছিল দুই নির্বাচন কমিশনার। ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযোজন, বাদ দেওয়া, বাদ দেওয়া নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় সংযোজনের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর সম্মতি ছিল না। যা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটে গিয়েছে। ভোটচুরি নিয়ে সরব হয় কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। বৃহস্পতিবার সংবিধান হাতে সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, “দেশ বিরোধী কাজ করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। ভোট কেড়েছেন মানেই দেশদ্রোহী। অপরাধীদের শাস্তি পেতেই হবে। সব ফাঁস করব আমরা। ” এখানেই না থেমে লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগের সময়েও আপত্তি তুলেছিলাম। গণতন্ত্রের উপর এত বড় আক্রমণ আগে হয়নি। ভোটজালিয়াতি নিয়ে ছেড়ে কথা বলবে না কংগ্রেস। কারণ ভোট কাড়া হচ্ছে মানে গণতন্ত্রকেও ধ্বংস করা হচ্ছে।” জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে রাহুল বলেন, “২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে ভোটচুরি হয়েছে, আমি একশো শতাংশ নিশ্চিত।” এদিকে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ নিয়ে আসরে নেমেছে জেন-জিদের দল ককরোচ জনতা পার্টিও। তারাও সাংবাদিক সম্মেলন করে অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা দাবি করেছে। বিরোধীরা একযোগে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা একসুরে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। বিজেপির দিকে নিশানা করে বিরোধীদের বক্তব্য, গেরুয়া শিবির যে চুরি করেই ভোটে জিতছে, সেটা এবার প্রমাণিত হয়ে গেল। এদিকে বিতর্কের মধ্যে কমিশন জানিয়েছে, “কমিশন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাজ করে। কোনও বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন মত থাকা অস্বাভাবিক নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই ধরনের আলোচনা ও মতবিনিময় হয়। কমিশনের ৩ সদস্যের পাশাপাশি অন্য আধিকারিকরাও নিজেদের মতামত স্বাধীনভাবে জানাতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় ঐক্যবদ্ধভাবেই।” পালটা মুখ খোলে বিজেপি। গেরুয়া সাংসদ সম্বিত পাত্র সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গড়বড় আছে, এই ধারণাটা ভাঙা দরকার। বারবার ভোট চুরি করে জিতছি, এই ভ্রান্ত ধারণা বন্ধ করতে হবে। কংগ্রেস এবং শরিকদের মিথ্যার চক্রব্যূহ একেবারে নিচের স্তর পর্যন্ত ভাঙতে হবে।” পাত্রর দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি যদি কোথাও হয়ে থাকে তাহলে সেটা হয়েছে কংগ্রেস আমলে। দুর্নীতির জন্মই কংগ্রেস থেকে হয়েছে। ১৯৫৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত একের পর এক উদাহরণ তুলে সম্বিত দাবি করেন, কংগ্রেস আমলে বহু নির্বাচন কমিশনারকে আনুগত্যের উপহার দেওয়া হয়েছে। সেই কেভিকে সুন্দরন থেকে নবীন চাওলা পর্যন্ত কোন নির্বাচন কমিশনার পরে সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, কে সরকারি পুরস্কার পেয়েছেন, কে অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং পেয়েছেন, সব উদাহরণ তুলে ধরেছে বিজেপি। সম্বিত পাত্র সবচেয়ে বড় উদাহরণ দিয়েছেন, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনের। তিনি কংগ্রেসের হয়ে ১৯৯৬ নির্বাচন লড়েছিলেন। টিএন সেশন নিজের সহকারী নির্বাচন কমিশনারদের ‘গাধা’ ও ‘বোকা’ বলেছিলেন। সে সময় রীতিমতো বিতর্কও হয়। এদিকে রাহুলের এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনকে কটাক্ষ করলেন বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। তিনি বিরোধী দলনেতার সংবাদিক সম্মেলনকে নিষ্ফল বলে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘উনি এমন এক জন হতাশ নেতা, যিনি গণতান্ত্রিক উপায়ে মানুষের সমর্থন পেতে সক্ষম নন।’’ গত কয়েক দশকে বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের পতন নিয়েও রাহুল কটাক্ষ করেন ভান্ডারি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles