RK NEWZ ‘‘ওই দেখো, ড্রোন ঘুরিয়ে বেড়াচ্ছে… কে কে আছে মঞ্চে, দেখছে।’’ ড্রোনগুলো সরে যেতে দেখে তিনি বলতে থাকেন, ‘‘পালাচ্ছে, চোরের মতো পালাচ্ছে।’’ সভার মাঝে মমতা বলেন। বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর কলকাতার বাইরে শনিবার এই প্রথম জনসভা করলেন তিন বারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ড্রোনের দিকে চেয়ে’ হুগলির শ্রীরামপুর কোর্ট মাঠ থেকে বিজেপিকে তোপ দাগলেন তিনি। অভিযোগ, জনসভায় তাঁর সঙ্গে কে কে রয়েছেন, আকাশপথে তার নজরদারি করছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এমনকি, মমতার এ-ও অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে বাড়িতে দেখা করতে যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির উপর নজরদারি করছে সরকার। সভার শুরুতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবিতে মাল্যদান করেন মমতা। তার পর এক পঙ্ক্তিতে ফেলে রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগেছেন। এসআইআর নিয়ে নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা করার সময় হঠাৎ মমতা তাকান মাথার উপরের দিকে। উপস্থিত সকলে তাঁকে অনুসরণ করেন উপরে তাকান। দেখা যায়, একাধিক ড্রোন। তাই দেখে মমতা বলতে থাকেন, ‘‘ওই দেখো, ড্রোন ঘুরিয়ে বেড়াচ্ছে… কে কে আছে মঞ্চে, দেখছে।’’ ড্রোনগুলো সরে যেতে দেখে তিনি বলতে থাকেন, ‘‘পালাচ্ছে, চোরের মতো পালাচ্ছে। কে কে বসে আছে, রাত্রে তাকে অ্যারেস্ট করবে। হাতের সামনে প্রমাণ করে দিলাম।’’ তার পর প্রশাসনকে তোপ দাগেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ড্রোনের নৃত্য হচ্ছে! মাঠে জল সাফ করার লোক নেই। আরে কার চোখকে ফাঁকি দিবি রে! আমি তো চালিয়েছি, পনেরো বছর। আমি তো জানি, কোথা থেকে কী হয়। একটা মিটিংয়ের ড্রোন ঘুরিয়ে দেখছে কে কে এসেছে।’’ নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা বিধায়কদের সমালোচনা করেছেন মমতা। বলেন, ‘‘ওদের বিজেপির কাছে খেয়ে পরে থাকতে দিন। ওরা বিরোধী দল নয়। ওরাও এক দিন যাবে। ভাবছে এই ভাবে চলবে? পুলিশ নিয়ে চলছে, টাকা নিয়ে দুলছে। আর বলছে, ‘আমার পরিবারকে বাঁচাব’! মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল।’’ মমতার এই সভা করা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি না-পেয়ে আদালতে গিয়েছেন মমতার দলের নেতারা। তার মধ্যে গত কয়েক দিনে হুগলি জেলার বেশ কয়েক জন মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, ‘‘এখন ভয় ইন। ভরসা আউট। তবে বিপদঘণ্টা বেজে গিয়েছে। আর বেশি দিন নেই।’’
হুগলির শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বিধায়ক। অভিযোগ, পথে উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়ি আটকে ভাঙচুর করা হয়েছে। পাথর, রড দিয়ে হামলার পাশাপাশি, ডিমও ছোড়া হয়েছে। কুণাল জানান, মমতার সভায় যাতে তিনি যেতে না পারেন, তাই এ সব করা হয়েছে। বিধায়কের হুঁশিয়ারি, এ সব করে তাঁকে থামানো যাবে না। তার পরেই গাড়ি ঘুরিয়ে সটান ভবানী ভবনে চলে যান বিধায়ক। তাঁকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বিধায়ক ভবানী ভবনের ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি অভিযোগ করতে যাননি। হামলা সংক্রান্ত ঘটনায় অভিযোগ তিনি উত্তরপাড়া থানায় মেল করে জানিয়েছেন। রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানী ভবনে কেবল নিজের গাড়ির অবস্থা দেখাতে গিয়েছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। সভার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ঘটনার নিন্দা করেছেন মমতা। তিনি দাবি করেছেন, ‘বিজেপির গুন্ডারা’ এ সব করেছে। এটা ‘গণতন্ত্রে অশনিসঙ্কেত’। বিজেপি সাংসদ রাহুল সিংহ জানিয়েছেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই এ সব ঘটেছে। এর সঙ্গে বিজেপির যোগ নেই।
শ্রীরামপুরে শনিবার বিকেলে জনসভা করবেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। সেখানেই যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বিধায়ক। অভিযোগ, উত্তরপাড়া সখের বাজারে কুণালের গাড়ি আটকে দাঁড়িয়ে পড়েন কয়েক জন। তার পরে লাগাতার পাথর, ডিম ছুড়তে থাকেন। লোহার রড দিয়ে আঘাত করতে থাকেন গাড়ির কাচে। কুণাল জানান, তাঁর গাড়ির পিছনের কাচ ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘চালকের পাশে বসি আমি। আমাকে নিশানা করে পাথর ছোড়া হয়। আমার শরীর কাচে ভর্তি।’’ গাড়ির কাচ ভাঙছিল না দেখে বড় বড় পাথর এনে ছোড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিধায়ক। কেন এ রকম করা হল? বিধায়কের কথায়, ‘‘ওদের মুখে ছিল একটাই কথা, গো ব্যাক। মমতার সভায় যাওয়া যাবে না।’’ তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘সাধারণ নাগরিকের মতো একজন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। সেই গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর, ডিম ছোড়া হল।’’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, গাড়ি ঘুরিয়ে সোজা চলে যাবেন ভবানী ভবনে। তাঁর কথায়, ‘‘চেষ্টা করছি ভবানী ভবনে ঢুকব সটান। দেখুক (পুলিশ) গুন্ডারাজ কেমন চলছে। পুলিশ গুন্ডাদের না সরালে যাওয়া সম্ভব নয়।’’ তবে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, এ সব করে মমতাপন্থীদের থামানো যাবে না। ঘটনার নিন্দা করেছেন মমতা। জানিয়েছেন, তৃণমূলকর্মীদের আটকাতেই এ সব করা হচ্ছে। বিধায়কের উপরে হামলা করা হয়েছে। তিনি আহত হয়েছেন।




