RK NEWZ প্রতিনিধিত্ব আইন আর বয়স ভাঁড়ানো নিয়ে সরগরম সভা। মাস দু’য়েক আগে সিএবির স্পেশাল জেনারেল মিটিং যে দুটো বিষয় নিয়ে সরগরম হয়েছিল, এদিনের বৈঠকেও উত্তাপ ছড়ায় মূলত তা নিয়েই। সিএবি নির্বাচন যে হচ্ছে না, সেটা আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সেদিক থেকে দেখতে বৃহস্পতিবার সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা নিরুত্তাপ আবহেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। বরং একটা সময় বেশ উত্তাপ ছড়ায়। সিএবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া নিজের বক্তব্য পেশ করার সময়ই উত্তাপ ছড়ায় বার্ষিক সভায়। মাস দু’য়েক আগে সিএবির স্পেশাল জেনারেল মিটিং যে দুটো বিষয় নিয়ে সরগরম হয়েছিল, এদিনের বৈঠকেও উত্তাপ ছড়ায় মূলত তা নিয়েই। সত্তোরোর্ধ্ব এবং রাজ্য সংস্থায় ন’বছরের মেয়াদ পূর্ণ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন কি না, সেটা নিয়েই যত চর্চা চলেছে। এদিনের বৈঠকে একই ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিএবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। তখন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানান যে, বৈঠকে মোটামুটি বেশিরভাগ সদস্যই উপস্থিত রয়েছেন। অভিষেক চাইলে সবার মতামত নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতেই পারেন। সিএবিতে এতদিন পর্যন্ত যে নিয়ম মানা হয়েছে, সেটাই হবে। বৈঠক শেষে সৌরভ বলছিলেন, “সত্তরোর্ধ্বদের যেমন ভোটাধিকার থাকবে, তেমনই একই নিয়ম প্রযোজ্য নয় বছরের ক্ষেত্রেও। কেউ চাইলে আদালতে যেতেই পারেন।”
এ তো গেল প্রথম পর্ব। উত্তাপের আরও অনেক তখনও বাকি ছিল। বয়স জালিয়াতির জন্য সিএবি প্রচুর ক্রিকেটারকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। সিএবির প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বিশ্বরূপ দে সিএবির ওই পদক্ষেপের প্রশংসা করতে থাকেন। তখন অভিষেক পাল্টা বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন একইরকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর সময়েও বেশ কিছু ক্রিকেটারকে একই কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। পাল্টা বিশ্বরূপ বলেন, সেই সংখ্যাটা অনেক কম। বরং সিএবি বর্তমানে যা করেছে, দুর্দান্ত। বিশ্বরূপের উদ্দেশে অভিষেক তখন বলেন যে, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা যে সঠিক ছিল আজ প্রমাণিত। অথচ তাঁর প্রয়াসকে সমালোচনা করে নানা মন্তব্য করেছেন বিশ্বরূপ। এরপর তির্যক ভাবে বিশ্বরূপের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, “অবশ্য আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন, আপনি নব্বই শতাংশ সৎ। আর দশ শতাংশ অসৎ। তা হলে আর আপনার সঙ্গে কথা বলে কী লাভ?” বৈঠক থেকে বেরিয়ে পরে এ নিয়ে বিশ্বরূপ বলেন, “আমি ওটা রূপক অর্থ ব্যবহার করেছি। দোষ-গুণ মিশিয়েই মানুষ হয়। এখন যদি সবাই একশো শতাংশ ভালো হয়, তাহলে তিনি আর সাধারণ মানুষ থাকেন না। তিনি মণীষী হবেন।”




