RK NEWZ রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। প্রশাসক বসিয়েই চলছে পুর পরিষেবা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হাওড়া পুরসভা, যেখানে গত ১৩ বছর ধরে কোনও নির্বাচন হয়নি। ২৭ অথবা ২৮ অক্টোবর পুরভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। সেই অনুযায়ী কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা, ২৮ বা ২৯ নভেম্বর ভোটগ্রহণ এবং ২ ডিসেম্বর ভোটগণনা হতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং। জানা গিয়েছে, এই সাতটি পুরসভায় মোট ৬৩০১টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ভোটের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে শুক্রবার সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে ইভিএম পৌঁছোনোর কাজ শুরু হয়ে যাবে। বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। প্রশাসক বসিয়েই চলছে পুর পরিষেবা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হাওড়া পুরসভা, যেখানে গত ১৩ বছর ধরে কোনও নির্বাচন হয়নি। ওই পুরসভায় শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৮-তে মেয়াদ ফুরোয়। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে বার্তা দিয়েছিলেন। মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল হাওড়া-সহ দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পুরসভাগুলির ভোট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। হাওড়া ছাড়াও যে সব পুরসভায় দীর্ঘ দিন নির্বাচন হয়নি, তার মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর পুরসভা, মুর্শিদাবাদের ডোমকল, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পূজালি, দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং ও মিরিক, কালিম্পং জেলার কালিম্পং, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ও হলদিয়া, নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্প, বীরভূমের নলহাটি, হাওড়ার বালি এবং জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি পুরসভা। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, এই পুরসভাগুলির অধিকাংশেরই শেষ বার নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অধিকাংশ পুরসভার পুরবোর্ডই অচল হয়ে পড়েছে। একাধিক পুরবোর্ড ভেঙেও গিয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক পরিষেবা। আগামী বছরের শুরুতে রাজ্যের আরও ১১২টি পুরসভার বোর্ডের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আটকে থাকা বাকি পুরসভা এবং মেয়াদ শেষ হতে চলা পুরসভা মিলিয়ে আগামী ন’মাসের মধ্যে রাজ্যের মোট ১২৭টি পুরসভার ভোট সঠিক সময়ে সম্পন্ন করাই এখন নবান্ন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে সব চেয়ে বড় পরীক্ষা।




