RK NEWZ সকালে মেয়েদের হার। পিভি সিন্ধুদের ১-৩ ব্যবধানে বিদায় নিশ্চিত করে আয়োজক জাপানি শিবিরে তখন রীতিমতো উৎসবের মেজাজ। ইচিনোমিয়া সিটি মিউনিসিপ্যাল জিমন্যাসিয়ামের গুমোট আবহে বদলার মঞ্চটা যেন তৈরিই ছিল। যেখানে দাঁড়িয়ে কার্যত অসম্ভবকে সম্ভব করলেন লক্ষ্য সেন। তৃতীয় গেম। স্কোরবোর্ড দেখাচ্ছে ১৪-১৯। পরাজয় একপ্রকার নিশ্চিত। সেখান থেকে অবিশ্বাস্য কামব্যাক। টানা সাত পয়েন্ট জিতে ম্যাচ পকেটে। লক্ষ্যের জাদুই যেন তাতাল গোটা দলকে। জাপানকে ৩-০ ব্যবধানে ধুয়েমুছে সাফ করে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে উঠল ভারতের পুরুষ ব্যাডমিন্টন দল। সেইসঙ্গে নিশ্চিত হয়ে গেল টানা দ্বিতীয়বারের জন্য পোডিয়াম ফিনিশ। গতবার এসেছিল রুপো। এবার পাখির চোখ সোনা।
কোর্টের হাওয়া ও লক্ষ্যের মগজাস্ত্র
বিশ্বের সাত নম্বর কোডাই নারাওকার বিরুদ্ধে লক্ষ্যের শুরুটা মোটেই ভাল হয়নি। কোর্টের একপ্রান্ত থেকে শাটলের ফ্লাইট বুঝতে সমস্যা হচ্ছিল। দোসর সাইডওয়েজ ড্রিফট। প্রথম গেমে ১১-২১ ব্যবধানে কার্যত উড়ে যান ভারতীয় তারকা। বিরতিতে কোচিং স্টাফরা ভুলচুক বোঝান। ছোট আর ফ্ল্যাট র্যালি খেলে লাভ নেই। বরং ডিফেন্স মজবুত করতে হবে। নারাওকাকে ভুল করতে বাধ্য করানোটাই আসল কৌশল। সকালে ঠিক এতেই খামতি দেখান সিন্ধু। দ্রুত গেম শেষ করতে গিয়ে অহেতুক আগ্রাসন দেখিয়ে নিজের এনার্জি নষ্ট করেন। লক্ষ্যকে তাই বলা হয়েছিল ধৈর্য ধরতে। কোর্টের ‘খারাপ’ প্রান্ত থেকে বিপক্ষ ভুল করবেই।
খাদের কিনারা থেকে ফিনিক্স পাখি
ম্যাচ তখন ১-১। নির্ণায়ক গেমে হাড্ডাহাড্ডি স্নায়ুর লড়াই। বিরতির সময় ৬-১১ স্কোরে পিছিয়ে লক্ষ্য (Indian Badminton Team)। কোর্ট বদলের পর খেলা ঘুরতে শুরু করলেও, পরপর কয়েকটি আনফোর্সড এররে স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় ১৪-১৯। নারাওকার চোখেমুখে তখন আসন্ন জয়ের হাসি। কিন্তু লক্ষ্য হার মানতে নারাজ। জাপানি তারকার একের পর এক শাটল নিখুঁত ডিফেন্সে ফেরাতে থাকেন। সঙ্গে বিষাক্ত ফ্ল্যাট হাফ-স্ম্যাশ। ওই প্রবল চাপের মুখে ভেঙে পড়েন নারাওকা। খাদের কিনারা থেকে ২১-১৯ ব্যবধানে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে ভারতকে ১-০ লিড এনে দেন লক্ষ্য। লড়াই চলে ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট।
সাত্ত্বিক-চিরাগ ও আয়ুষের দাপট
লক্ষ্যের এই অমানসিক লড়াই যেন বাকিদের আত্মবিশ্বাস একধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রথম ডবলসে কোর্টে নামেন চলতি মরসুমের জোড়া খেতাব জয়ী সাত্ত্বিকসাইরাজ রাঙ্কিরেড্ডি এবং চিরাগ শেট্টি। প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হকি তাকুরো ও কোবায়াশি ইউগো জুটিকে ২১-১৮, ২৪-২২ গেমে হারিয়ে ভারতের লিড দ্বিগুণ করেন তাঁরা।
এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দ্বিতীয় সিঙ্গলসে কোর্টে নামেন এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালিস্ট আয়ুষ শেট্টি। যিনি বিশ্বের ১৬ নম্বর কোকি ওয়াতানাবেকে ২১-১০, ২১-১৯ ব্যবধানে স্ট্রেট গেমে হারিয়ে জাপানের কফিনে শেষ পেরেক ।
বুধবার সেমিফাইনালে ভারতের সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ: গতবারের চ্যাম্পিয়ন চিন অথবা কোরিয়ার মধ্যে যে কোনও এক দল। তবে যে আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে লক্ষ্যরা এদিন কোর্ট ছাড়লেন, তাতে পদকের রং বদলানোর স্বপ্নটা কিন্তু ক্রমশ উজ্জ্বল হচ্ছে।




