RK NEWZ ১৬ সেপ্টেম্বর সচিব রথীনের ঘরে ঢুকে দুষ্কৃতিরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তাঁকে মারধর এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে। সচিবের ঘরে ঢুকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর ছবি নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তার বদলে ভারতমাতা এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবি টাঙিয়ে দেয় দুষ্কৃতিরা। ১৯ সেপ্টেম্বর ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রথীন। ইতিমধ্যেই ৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের তরফে এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁবুতে সিসিটিভি লাগানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রথীন। রথীনের অভিযোগ, তাঁকে পদ ছেড়ে দিতে বলা হয়। তিনি জানান, ছাড়বেন না। কারণ তাঁর মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ পর্যন্ত। নভেম্বর মাসে নির্বাচন রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের ক্রীড়ানীতি প্রয়োগ করা হবে। কিছু বলার আগেই দুষ্কৃতিরা তাণ্ডব শুরু করে বলে রথীনের অভিযোগ। ভলিবল সংস্থার তাঁবুতে যান সভাপতি সজল। সচিবের উপর হামলার ঘটনার নিন্দা করেন। পুলিশ নিজের মতো ব্যবস্থা নেবে বলেছেন তিনি। তিনি বলেন, “পুলিশ নিজের মতো ব্যবস্থা নেবে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের কাউকে চিনি না। তাদেরও যা যা বলার বলে দিয়েছি। ভবিষ্যতে এ রকম করলে শাস্তি পেতে হবে। সেই জন্যই ছটফটানি হতে পারে।” কী কারণ ভলিবল তাঁবুতে ঢুকে তাণ্ডব, কারা জড়িত, কেন সচিব পদ ছাড়তে জোর তা জানা যায়নি। পশ্চিমবঙ্গ ভলিবল সংস্থার সচিব রথীন রায়চৌধুরির ঘরে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছিল কিছু দুষ্কৃতী। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। ভলিবল সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ জানিয়েছেন, এমন ঘটনা ভবিষ্যতে ঘটবে না। কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ময়দানে দুষ্কৃতীদের তান্ডব? আমি পদত্যাগ করিনি। ওরা প্যাডের সাদা পাতায় আমাকে জোর করে সই করিয়ে নিয়েছে
কোনও সংস্থার পদাধিকারীকে মারধর করে, গালাগাল দিয়ে, জোর করে সংস্থার প্যাডের সাদা পাতায় সই করিয়ে নেওয়া, পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। এমন জঘন্য ঘটনা সাম্প্রতিককালে ময়দান দেখেনি। যা ঘটেছে গত বুধবার, রাজ্য ভলিবল সংস্থার তাঁবুতে। গত তিন দশক ধরে ভলিবল রাজ্য সংস্থার সচিব হলেন ময়দানের পরিচিত মুখ পল্টু ওরফে রথীন রায় চৌধুরী। ঘটনার দিন সংস্থার তাঁবুতে নিজের ঘরেই বসে ছিলেন পল্টু বাবু। হটাৎ প্রায় ২৫ জন লোক ঘরে ঢুকে বলেন, কেন ৩০ বছর ধরে সচিব পদে বসে আছেন? কবে ছাড়বেন? পল্টুবাবু জবাব দেন, “২০২৭ এ আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষ। তারপরেই আমি বিদায় নেব।” কিন্তু অচেনা দুষ্কৃতীরা গালাগাল দিতে থাকে। একজন পল্টুবাবুর মুখে ঘুসি মারে। ওই ঘরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, ক্রীড়ামন্ত্রী জ্যোতি বসু ও সুভাষ চক্রবর্তীর ছবি ছিল। ছবি দুটি মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। টেবলে যে কাগজ, ফাইল ছিল ছিঁড়ে ফেলা হয়। দরজা বন্ধ করে এই তাণ্ডব চালানোর সময় রাজ্য ভলিবল সংস্থার প্যাডের সাদা কাগজে জোর করে পল্টুবাবুকে সই করাতে বাধ্য করে দুষ্কৃতীরা। পল্টু রায় চৌধুরীর বক্তব্য, “যারা তাণ্ডব করে গেল তাদের কাউকে চিনতে পারিনি। তবে যারা সম্ভবত এই ভড়াটে গুন্ডাদের দিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ময়দান থানায় FIR করা হয়েছে। আমি পদত্যাগ করিনি। ওরা প্যাডের সাদা পাতায় আমাকে জোর করে সই করিয়ে নিয়েছে।” প্রসঙ্গত, পল্টুবাবুর ৭০ বছর পার করেছেন। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, তাঁকে এখনই সরে যেতে হবে। ঘটনার দিন, পিজি হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। পরে ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় FIR করা হয়। এই ৬ জন হলেন, (১) মহামায়া চৌধুরী (প্রাক্তন ভলিবল খেলোয়াড়/বর্তমানে ইস্টার্ন রেলের কোচ ), (২) গোবিন্দ ভট্টাচাৰ্য (আয়কর দপ্তরে চাকরিরত), (৩) কৌশিক চ্যাটার্জি, (৪) বাসন্তী দাস (৫) দীনেশ দাস এবং (৬) রঞ্জন ঘোষ। অভিযোগ এই ৬ জনই নাকি দুষ্কৃতী হামলার পিছনে আছেন। পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানা গিয়েছে। সমস্যা একটাই, ভলিবল সংস্থার তাঁবুতে কোনও সিসিটিভি নেই।
মেরুকরণ! ঘটনা ধামাচাপা দিতেই তড়িঘড়ি সজল ঘোষকে সভাপতি?

এই অবস্থায় রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর সংস্থার কার্যকরী সমিতির সভা ডাকা হয়। সংস্থার সকল নথিভুক্ত ক্লাব, জেলা সংস্থাদের সেই সভার উপস্থিতি। ওইদিন বিকেল চারটের সময় একটি ধিক্কার সভাও। প্রসঙ্গত, ময়দানের তিন প্রধান, সি এ বি, আইএফএ বাদ দিলে বাকি ক্রীড়া সংস্থার থেকে একমাত্র রাজ্য ভলিবল সংস্থা আর্থিক ভাবে খুব ভালো জায়গায়। শোনা যায়, ২ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করা আছে। সূত্রের খবর, গত বছর প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ এই পল্টুবাবুকে সরানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল নিয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন। এবার তাঁকে সরানোর জন্য মারধর করা হল। নিয়ম মেনে পল্টু রায় চৌধুরীকে সরানো যাচ্ছে না বলেই কি হামলার পথ বেছে নিলেন ‘বিরোধী শিবির?’
বিরোধী শিবিরের দাবি, জাতীয় ভলিবল ফেডারেশনের নির্বাচনে ভোটাধিকার হারাল বাংলাজাতীয় ভলিবল ফেডারেশনের আসন্ন নির্বাচনের যে ‘ভোটার লিস্ট’ প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে নাম নেই বঙ্গ ভলিবল সংস্থার। নিয়মের অনিয়ম বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে পশ্চিমবঙ্গ ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনকে এই জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর সচিব পল্টু রায়চৌধুরীর পদত্যাগ। পশ্চিমবঙ্গ ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের অন্দরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের অবসান ঘটেছে। ১৯৯১ সাল থেকে টানা ৩৪ বছর ধরে সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকা পল্টু রায়চৌধুরী অবশেষে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ শাসনকালে বিভিন্ন সময়ে কাজের স্বচ্ছতা ও পরিচালনা নিয়ে সাবেক খেলোয়াড় ও কর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, যার জেরে সম্প্রতি ময়দানে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহও দেখা যায়।




