RK NEWZ এশিয়ান গেমসে ইতিহাস। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে নয়া রেকর্ড গড়ে সোনা জিতল চিনের স্কুলপড়ুয়া ইউ জিদি। নজরে এবার অলিম্পিক্স। ইউ জিদি। বয়স ১৩। আগামী মাসে ১৪ হবে। এই বয়সেই এশিয়াডের পুলে রীতিমতো ঝড় তুলল চিনের এক স্কুলপড়ুয়া। ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে অনায়াসে সোনা জিতল বিস্ময়-কিশোরী ইউ জিদি। অভাবনীয় সাফল্য। যার পরেও একেবারে খুশি নয় সে। সংবাদমাধ্যমের সামনে সাফ জানাল, নিজের এই পারফরম্যান্স নাকি নেহাত ‘মোটামুটি’! জাপানের আইচি-নাগোয়ায় বসেছে এবারের মহাদেশীয় আসর। সেখানেই মহিলাদের ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ের ফাইনালে অবিস্মরণীয় ইতিহাস গড়েছে জিদি। গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লেগেছে মাত্র ২ মিনিট ০৫.০৮ সেকেন্ড। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সতীর্থ চ্যাং মোহানের চেয়ে তিন সেকেন্ডের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে থেকে অনায়াসে দৌড় শেষ করে সে। তিন বছর আগে এই ইভেন্টেই নজির গড়েছিলেন স্বদেশীয় তারকা ঝাং ইউফেই। এবার তাঁর সেই গেমস রেকর্ড অবলীলায় ভেঙে চুরমার করেছে জিদি। আগের চেয়ে প্রায় আধ সেকেন্ড কম সময় নিয়েছে চিনের এই বিস্ময়-কিশোরী। বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও খুব বেশি পিছিয়ে নেই সে। কানাডার সামার ম্যাকিনটোশের গড়া ২ মিনিট ০১.৬৫ সেকেন্ডের নজিরের চেয়ে মাত্র চার সেকেন্ড এদিক-ওদিক!
কেরিয়ারের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক সোনা। গেমসের নতুন রেকর্ডও পকেটে। তবু তৃপ্তি নেই জিদির গলায়। পদক গলায় ঝুলিয়ে একমুখ হাসি নিয়ে তার অকপট স্বীকারোক্তি, ‘এটা নেহাতই মোটামুটি একটা পারফরম্যান্স।’ বাটারফ্লাই টেকনিকে এখনও বেশ কিছুটা খামতি রয়েছে বলে মনে করে জিদি। মন্তব্য, ‘আশা করি আরও জোরে সাঁতার কাটতে পারব। এখানে নিজের আগের সময়ের চেয়ে ০.৯ সেকেন্ড উন্নতি করেছি। বিশ্বাস আছে, পরের বার পুলে নেমে এর চেয়েও ভাল পারফর্ম করব।’ বিশ্বমঞ্চে জিদির দাপট অবশ্য প্রথম নয়। গত বছর মাত্র ১২ বছর বয়সে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নজর কেড়েছিল সে। চিনের ৪x২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলে দলের সদস্য হিসেবে ব্রোঞ্জ জিতে নেয়। সাঁতারের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ পদকজয়ী হিসেবে নাম ওঠে রেকর্ড বইয়ে। রবিবার গেমসের প্রথম দিন সাঁতারের সাতটি সোনার মধ্যে ছ’টিই জিতেছে চিন। আর সেই সাফল্যের অন্যতম কারিগর ১৩ বছরের কিশোরী। আপাতত জিদির পাখির চোখ ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্স। সেখানেও পোডিয়ামের শীর্ষে ওঠাই একমাত্র চূড়ান্ত টার্গেট। সোনা জিতে এশিয়াডের সর্বকনিষ্ঠ এই চ্যাম্পিয়নের বার্তা, ‘আমি দিনের পর দিন কঠোর অনুশীলন করি। রাতারাতি কখনও সাফল্য আসে না। অলিম্পিক্সের সর্বোচ্চ মঞ্চে দাঁড়ানোই এখন আমার পরবর্তী লক্ষ্য।’ আগামী দিনে চলতি গেমসে আরও দু’টি ব্যক্তিগত ইভেন্টে পুলে নামবে এই স্কুলপড়ুয়া। আপাতত জিদির অবিশ্বাস্য জাদুতে মজে গোটা ক্রীড়াবিশ্ব।



