RKNEWZ প্রথমবার সিএবির এজিএমে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন সৌরাশিস। কিন্তু সৌরাশিস মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই ক্লাবের সচিব অভিযোগ জানান। তিনি বলেছিলেন, তাঁর সই ছাড়া মনোনয়ন জমা করা হয়েছে। তিনি সৌরাশিসের মনোনয়ন জমার ব্যাপারে কিছুই জানেন না। ক্লাবের তরফে নাকি তাঁকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন, সচিবের সই করা ছাড়া মনোনয়ন যদি জমা হয়, সেটা কোনওভাবেই বৈধ হতে পারে না। সৌরাশিসের মনোনয়ন স্ক্রুটিনির পর তা বাতিল করে দিয়েছেন সিএবির নির্বাচনী অফিসার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়। ২৪ সেপ্টেম্বর সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে ইডেন গার্ডেন্সে। তার আগে বুধবার দুপুরে সিএবিতে গিয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা করে আসেন সৌরাশিস। বলেছিলেন, “আমার কাছে এটা গর্বের মুহূর্ত। খুব নস্টালজিক লাগছে। সালকিয়া ফ্রেন্ডস আমার ক্লাব। সমস্ত সালকিয়াবাসী এবং ক্লাব সদস্যদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। গত ৩৫ বছর ধরে আমি বাংলা ক্রিকেটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। বাংলার হয়ে আমি খেলেছি। কোচিং করিয়েছি। এবার যদি নতুন ভূমিকায় আমি সুযোগ পাই কোনও ভাবে বাংলা ক্রিকেটের সেবা করার, আমি সেটা করব।” ক্রিকেট প্রশাসক হিসাবে কাজ করতেও মুখিয়ে ছিলেন প্রাক্তন পেসার। বলেছিলেন, “প্রতিটা ভূমিকা যদি সঠিক ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, তা হলে অনেক অবদান রাখা সম্ভব। একজন ক্রিকেটার হিসেবে সর্বস্ব দিয়েছি আমি। একজন কোচ হিসাবেও দিয়েছি। যদি নতুন ভূমিকায় কোনও অবদান রাখতে পারি, নিজেকে ভাগ্যবান মনে করব।” কিন্তু সেই ইচ্ছা আপাতত পূরণ হচ্ছে না সৌরাশিসের।
এবারের বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্ব করার পথে বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরাশিস লাহিড়ী। তিনি সালকিয়া ফ্রেন্ডস থেকে মনোনয়ন জমা করেছেন। শোনা যাচ্ছে, তাঁর মনোনয়ন জমা নিয়ে একটা প্রতিবাদপত্র জমা পড়েছে। তবে ড্রাফট ইলেকটোরাল রোলে নাম রয়েছে সৌরাশিসের। পরবর্তীতে যদি সব ঠিকঠাক চলে, ত্রুটিনিতে যদি না আটকায়, তাহলে তাঁকে বার্ষিক সভায় আসতে দেখা যাবে। বাংলার হয়ে একশো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। বাংলার সিনিয়র থেকে শুরু করে বয়সভিত্তিক টিমের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কোচিং অনূর্ধ্ব তেইশ বাংলা টিম ট্রফি জিতেছে। এবার নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। সৌরাশিস বলছিলেন, “নতুন ভূমিকায় কিছু করার সুযোগ পেলে, সর্বস্ব দেব।” তাঁকে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। সৌরাাশিস লাহিড়ী প্রশ্ন তুলেছিলেন কোচ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। তবে সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভায় আসতে পারেন প্রাক্তন অফস্পিনার। বুধবার ইডেন গার্ডেন্সে গিয়ে সালকিয়া ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের ক্লাব প্রতিনিধি হিসাবে সিএবি এজিএমে আসার জন্য় মনোনয়ন জমা করলেন তিনি। বুধবার রাতে সিএবি মনোনয়ন জমা করা ব্যক্তিদের যে তালিকা প্রকাশ করল, সেখানে ৮০ নম্বরে রয়েছে সৌরাশিসের নাম। এখনও চূড়ান্ত স্ক্রুটিনি বাকি। তবে সব কিছু ঠিকঠাক চললে ২৪ সেপ্টেম্বর সিএবি এজিএমে আসতে পারেন একশো প্রথম শ্রেণির ম্য়াচ খেলা ক্রিকেটারই।
তবে সৌরাশিস মনোনয়ন জমা করার দিন বিতর্কও রইল। কারণ, সালকিয়া ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের সচিব প্রদীপ বসুর একটি চিঠি। যিনি সিএবি-কে জানিয়েছিলেন, মনোনয়নের ফর্ম তাঁর হাতে পৌঁছয়নি। এবং এ নিয়ে তিনি অন্ধকারে। সৌরাশিস যে মনোনয়নপত্র জমা করেছেন, সেখানে অ্যাপেন্ডিক্স এ-তে ক্লাবের যে অঙ্গীকারপত্র জমা করতে হয়, সেখানে সহকারী সচিবের সই রয়েছে। শোনা গেল, মনোনয়নের ফর্ম জমা নেওয়ার সময় সিএবির ইলেক্টোরাল অফিসার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায় এ নিয়ে প্রশ্নও করেন। জানতে চান, কেন সচিবের সই নেই রেজ়োলিউশনে। সৌরাশিসের ব্যাখ্যা শুনে প্রাথমিক স্ক্রুটিনির পর তাঁর নাম তালিকায় রেখেছেন ইলেক্টোরাল অফিসার। সালকিয়া ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের সচিব প্রদীপ বলেন, ‘আমি জানি না কে মনোনয়ন জমা করেছে। কারণ মনোনয়নের ফর্ম আমি পাইনি। সেটাই সিএবিকে জানিয়েছিলাম। তাছা়ড়া সচিবের সই ছাড়া রেজোলিউশন জমা হল কী করে?’
তাঁকে বলা হল, মনোনয়নের ফর্ম তো ক্যুরিয়র মারফত যায়। সিএবি সচিব বাবলু কোলে আগেই বলেছিলেন, ‘সিএবি-তে প্রত্যেক ক্লাবের যে ঠিকানা নথিবদ্ধ রয়েছে, সেখানেই মনোনয়নের ফর্ম যায়। ক্লাবে তো কারও পক্ষে ২৪ ঘণ্টা থাকা সম্ভব নয়। ক্লাবে ক্যুরিয়র যাওয়ার সময় যে থাকেন, সেই রিসিভ করেন।’ প্রদীপ বসু বললেন, ‘আমি তো মনোনয়নের ফর্ম পাইনি। ক্যুরিয়র সংস্থা ক্লাবে গিয়ে আমাকে না পেলে তাদের উচিত ছিল সেটা সিএবিকে ফেরত দেওয়া। তারপর সিএবি ঠিক করত আমার হাতে কী করে পৌঁছে দেওয়া যায়।’ আপনি কি সিএবি-র বিরুদ্ধে মনোনয়নের ফর্ম বিলি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করছেন? যে ফর্ম বিলির স্বচ্ছতা নিয়ে ইতিমধ্যেই ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে? প্রদীপ বললেন, ‘আমি এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’ যোগ করলেন, ‘ইলেক্টোরাল অফিসারের নির্দেশিকায় তো স্পষ্ট বলা রয়েছে ক্লাব সচিবের সই থাকতেই হবে রেজোলিউশনে। সেটা ছাড়া কী করে মনোনয়ন জমা পড়ল?’ পাল্টা প্রদীপের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সালকিয়া ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের সহকারী সচিব তপন চক্রবর্তী। বললেন, ‘সচিব তো ক্লাবেই আসেন না। ক্লাবে ১০ বছর ধরে এজিএম হয় না। অচলাবস্থা কাটাতে আমরা প্রেসিডেন্ট সুব্রত বক্সী ও সচিব প্রদীপ বসুকে চিঠি দিয়েছিলাম। বারংবার বলেছি। তাতে সুব্রত বক্সী আমাদের বাড়িতে ডেকেছিলেন। সেখানে ক্লাবের সহকারী সচিবকে অ্যাড্রেস করে তাঁর হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেন সুব্রত বক্সী। শারীরিক অসুস্থতার জন্যই প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়েন। তারপরেও আমরা ক্লাব সচিবকে একাধিকবার বলেছি, গভর্নিং বডির বৈঠক করতে।’
তপন চক্রবর্তী বলেন, ‘সিএবি বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য ক্লাব সচিবের উদ্দেশে মনোনয়ন ফর্ম পাঠিয়েছিল ক্লাবে। আমরা সেটা ক্লাব সচিবকে চিঠি লিখে জানাই। চিঠি, ই-মেল ও হোয়াটসঅ্যাপ – তিন জায়গায় লিখিতভাবে অনুরোধ করি, ক্লাবের গভর্নিং বডির বৈঠক করুন। উনি সাড়া দেননি। প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করায় ক্লাবের সংবিধান মেনে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১১ সেপ্টেম্বর ক্লাবের এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠক ডাকেন। সচিবকেও তা লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। সেই বৈঠকে অন্যান্য আলোচ্যসূচির পাশাপাশি সিএবি এজিএমে প্রতিনিধি পাঠানো নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ক্লাবের সংবিধান মেনেই সহকারী সচিবকে স্বাক্ষর করার ক্ষমতা দেওয়া হয়। তারপরই এগজিকিউটিভ কমিটি সৌরাশিসের নামে সিলমোহর দেয়।’ অভিযোগ ওড়ালেন প্রদীপ। বললেন, ‘আমি ক্লাবে যদি নাই গেলাম, তাহলে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকায় ক্লাব সংস্কারের টেন্ডার হল কী করে, চেক সই করলেন কে? সচিবের সই ছাড়া মনোনয়ন জমা দেওয়া যায় না।’ আপনি কেন এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠক ডাকলেন না? প্রদীপ বললেন, ‘১৬ সেপ্টেম্বর তো শেষ দিন ছিল। তার আগে কী করে এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠক হয়!’ জুলাই মাসে সিএবি-র বিশেষ সাধারণ সভার প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কি এই নিয়ম মেনে এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠক ডেকেছিলেন? প্রদীপ বললেন, ‘অত জটিলতায় যেতে চাই না। ক্লাব সচিবের হাতে মনোনয়নপত্রের ফর্ম আসা উচিত। আমাকে ক্লাবে না পেলে সিএবি-তে তা ফেরত দেওয়া যেত।’




