RK NEWZ কলকাতা লিগ। ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল পাঁচ দল। তিন প্রধানের সঙ্গে যে দৌড়ে প্রবলভাবে ছিল ভবানীপুর এবং ইউনাইটেড স্পোর্টসও। খেতাবি লড়াইয়ে মহামেডানের বিরুদ্ধে জয়। সকলের নজর ছিল বারাসত স্টেডিয়ামে মোহনবাগান-মহামেডান ম্যাচের দিকে। কারণ এই ম্যাচের উপর নির্ভর করছিল যাবতীয় হিসাব-নিকাশ। লাল কার্ড, পেনাল্টি, পালটা গোল – কী না ছিল এই ম্যাচে! পিছিয়ে পড়েও শেষ হাসি হাসল ১০ জন হয়ে যাওয়া মোহনবাগান। মহামেডানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ৮ বছর পর কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হল সবুজ-মেরুন। ২৬ মিনিটে লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের মাপা ক্রস থেকে দুরন্ত হেডে গোল সাহালের। ৪২ মিনিটে পালটা আক্রমণ থেকে সমতা ফেরায় মহামেডান। থাংখিমাকে আটকাতে মোহনবাগানের একাধিক ডিফেন্ডার এগিয়ে আসেন। সেই সুযোগে ডান দিকে থাকা লালরেমসাঙ্গাকে বল বাড়িয়ে দেন থাংখিমা। ডান পায়ের জোরালো শটে দীপ্রভাতকে পরাস্ত করেন লালরেমসাঙ্গা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দীপক টাংরিকে তুলে অভিষেক সিংকে নামান মোহনবাগান কোচ। ৫৯ মিনিটে লালরেমসাঙ্গা বল নিয়ে মোহনবাগানের বক্সে ঢুকে দীপ্রভাতকে ড্রিবল করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় তাঁকে ফেলে দেন বাগান গোলরক্ষক। পেনাল্টি দিতে ভুল করেননি রেফারি। সঙ্গে দীপ্রভাতকে দেখান সরাসরি লাল কার্ড। গোলদুর্গ সামলাতে নামেন জাহিদ। ৬৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে মহামেডানকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মহিতোষ রায়। ম্যাচ তখন মহামেডানের দিকে, কিন্তু হাল ছাড়েনি ১০ জনের মোহনবাগান। ৭০ মিনিটে সাহালের গোলে সমতায় ফেরে মোহনবাগান। ৭৩ মিনিটে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোলে ৩-২ করে মোহনবাগান। একের পর এক নাটক পেরিয়ে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে মরশুমের প্রথম ট্রফি এল মোহনবাগানে। মোহনবাগান জেতায় এদিন লিগের বাকি ম্যাচের ফলাফলের দিকে কোনও প্রয়োজন ছিল না। কোল ইন্ডিয়াকে ৭ গোলে হারিয়েও লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া হল না ইস্টবেঙ্গলের। ভবানীপুর-ইউনাইটেড স্পোর্টস ম্যাচ গোলশূন্য।
এদিকে,আইএফএ শিল্ডের উদ্বোধনের সূচি অনুযায়ী প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হওয়ার কথা ইস্টবেঙ্গল ও মহমেডান স্পোর্টিংয়ের। কিন্তু ম্যাচের আগেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কলকাতা লিগের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিল্ড বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে মহামেডান। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবছে আইএফএ? এগিয়ে গিয়েও মোহনবাগানের কাছে হেরে কলকাতা লিগ হাতছাড়া হয়েছে সাদা-কালো ব্রিগেডের। তবে ৭৩ মিনিটে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই ওই গোলকে অফসাইড বলে দাগিয়েছেন। শনিবার ম্যাচ শেষে মহামেডান সচিব ওয়াসিম আক্রম বলেছিলেন, “রেফারিং জঘন্য। আমরা শিল্ড খেলব না।” এবার ক্লাবের সভাপতি গজল উজ জাফর একই সুরে বলেন, “আমরা আইএফএ শিল্ডে অংশ নেব না। এমন ঘটনা বারবার ঘটেছে। এটা সহ্য করা সম্ভব নয়। আমরা সব সময় নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে পারি না। অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে আমরা শিল্ড খেলব না। এটাই আমাদের প্রতিবাদ। দলের সঙ্গে তো বটেই, সমর্থকদের সঙ্গেও অবিচার হয়েছে। আমরা আইএফএ-কে সরকারি ভাবে ইমেল করে জানিয়েছি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা শিল্ডে খেলব না। এটাই আমাদের প্রতিবাদ। অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে দলটা এই জায়গায় এসেছে। তার পরেও যদি এমন অফসাইডের ঘটনা ঘটে, তা খুবই দুঃখজনক। এটা শুধু দলের সঙ্গে নয়, সমর্থকদের সঙ্গেও অন্যায় হয়েছে। আইএফএ যদি নিশ্চিত করে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাহলে আমরা অবশ্যই শিল্ড খেলব। কিন্তু এমন ঘটনা বারবার মেনে নেওয়া কঠিন।” আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত জানিয়েছেন, মহামেডান ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে সরকারি ভাবে কোনও চিঠি বা ইমেল এখনও তাঁদের হাতে আসেনি। তিনি বলেন, “মহামেডান ম্যানেজমেন্ট সরকারি ভাবে আইএফএ-কে কিছু জানায়নি।” পাশাপাশি সূত্রের খবর, শিল্ড না খেলার ব্যাপারে মহামেডানের উষ্মার কথা আইএফএ কর্তারা জানতে পেরে ইতিমধ্যেই বিকল্প ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন। কলকাতা লিগে ভালো খেলা দু’টি টিমের কাছে শিল্ড খেলার প্রস্তাব নাকি চলে গিয়েছে। মহামেডান যদি সত্যিই সরকারিভাবে না খেলে তাহলে দুই দলের মধ্যে থেকে একটি দলকে শিল্ড খেলতে দেখা যেতে পারে। গ্রুপে ইস্টবেঙ্গল ও মহমেডানের সঙ্গে রয়েছে পাঞ্জাব এফসি। প্রতিটি গ্রুপ থেকে দু’টি দল সেমিফাইনালে উঠবে। এ দিকে শিল্ডে সিনিয়র দল খেলানোর ব্যাপারে আগ্রহী নন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসও। এমনটাই জানা গিয়েছে। তবে কয়েকজন ফুটবলারকে শিল্ডে খেলার জন্য ছাড়ার বিষয়ে কোচের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন কর্তারা। লাল-হলুদ শিবিরে অবশ্য নতুন বিদেশিদের নিয়েও তৎপরতা চলছে। নাইজেরিয়ান ফুটবলার এফিয়ংয়ের ভিসা সমস্যা মেটার পথে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁকে কলকাতায় আনার চেষ্টা চলছে। পোল্যান্ডের স্ট্রাইকার লুকাসেরও আগামী সপ্তাহে শহরে আসার কথা। ইস্টবেঙ্গলের মূল লক্ষ্য অবশ্য এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ।




