মোহনবাগান: ৫ (মনবীর ২, সামাদ, সন্দীপ, কিয়ান)
কোল ইন্ডিয়া: ১ (ইরফান)
কোল ইন্ডিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে ডার্বির জ্বালা কিছুটা জুড়ালেন বাস্তব রায়ের ছেলেরা। ডুরান্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হার। পরে সিনিয়রদের খেলিয়েও কলকাতা লিগে ডার্বি ড্র করে মোহনবাগান। এর পর সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হয়েছে সবুজ-মেরুনকে। সেসব ভুলে চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের ম্যাচে দুরন্ত খেলল মোহনবাগান। শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকে মোহনবাগান। ২ মিনিটের মাথায় মনবীর সিংয়ের দুর্দান্ত সেট-আপ থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি লিস্টন কোলাসো। পরের মিনিটে লিস্টনের ফ্রিকিকও নিষ্ফলা। ৫ মিনিটে তো গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন তিনিই। কোল ইন্ডিয়ার (Coal India) গোলকিপার সঞ্জয় কুমার ভট্টাচার্য এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁকে টপকে বল জালে জড়ানোর চেষ্টা করেও সফল হলেন না লিস্টন। কোল ইন্ডিয়াও অবশ্য পালটা আক্রমণে উঠে আসছিল। ১০ মিনিটে ডান দিক থেকে সায়ন রায়ের বাঁ পায়ের শট কোনও মতে বিপদমুক্ত করেন মোহনবাগানের গোলকিপার।
১৯ মিনিটে সাহাল আবদুল সামাদের শট বার উঁচিয়ে চলে গেলেও তার ঠিক পরেই বদলে যায় ম্যাচের ছবি। ২০ মিনিটে গোল মোহনবাগানের। সামাদের ডিফেন্স-চেরা পাস পেয়ে আগুয়ান গোলকিপারকে কাটিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন মনবীর। ২৫ মিনিটে আবার সুযোগ। ডান দিক থেকে কিয়ান নাসিরির পাস ঠিক মতো পা ছোঁয়াতে পারেননি মনবীর। বল চলে যায় কোল ইন্ডিয়ার গোলকিপার সঞ্জয়ের দস্তানায়। ৩৩ মিনিটে আর ভুল করেননি সাহাল। তিন ডিফেন্ডারকে দাঁড় করিয়ে দুরন্ত শটে জাল কাঁপান। এর পর যেন গোলের বন্যা। ৩৬ মিনিটে কিয়ান নাসিরির পরিমিত সেট-আপ থেকে সাইড ভলিতে দৃষ্টিনন্দন গোল সন্দীপ মালিকের। এক মিনিট যেতে না যেতেই আবার কিয়ানের গোলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন। ৪২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ফের গোল মনবীরের। প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলে এগিয়ে ম্যাচ কার্যত হাতের মুঠোয় করে নেয় মোহনবাগান।
বিরতির পরেও আক্রমণের ধার কমেনি। ৪৭ মিনিটে মনবীরের আরও একটি সুযোগ কোনও মতে সামাল দেয় কোল ইন্ডিয়া। ৫৮ মিনিটে কিয়ানের ক্রস থেকে সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি মোহনবাগানের সায়ন। ৭৩ মিনিটে আবারও একা গোলকিপারকে পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ৭৪ মিনিটে কোল ইন্ডিয়া একটি গোল শোধ করে। সন্দীপ মালিকের হাতে বল লাগায় পেনাল্টি পায় তারা। স্পট-কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি ইরফান। ততক্ষণে অবশ্য অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলে জেতে মোহনবাগান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোল মিস চিন্তায় রাখবে সবুজ-মেরুনকে। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে যতটা সম্ভব বেশি গোলের ব্যবধান বাড়িয়ে রাখতে হত মেরিনার্সদের। সেই পরিস্থিতিতে প্রথমার্ধে পাঁচ গোলে এগিয়ে গিয়েও দ্বিতীয়ার্ধে কোনও গোল হল না!




