RK NEWZ ‘দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ় অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকা থেকে শুরু হয় ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’। যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মিছিল শেষ হয় যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ডে। সেখানেই ‘ঐতিহাসিক’ বিলের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন শুভেন্দু অধিকারী। ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে রাজ্য সরকার। সেখানেই উত্থাপন করা হবে ‘দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ় অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। তার আগে, বুধবার বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টো দিকে এইট-বি বাসস্ট্যান্ডে এক সভা থেকে এই বিলকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকা থেকে শুরু হয় ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’। যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মিছিল শেষ হয় যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ডে। সেখানেই সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “আগামী কাল বিধানসভায় এক ‘ঐতিহাসিক’ বিল পাস হতে চলেছে। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এবং পরিষদীয় মন্ত্রীকে বলেছি আমাকেও ১৫-২০ মিনিট বলার সুযোগ দিতে। আমি শপথ নিয়েছি, এই যাদবপুর যেখানে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স, যেখানে ঋষি অরবিন্দর ভূমি— সেখানে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ আর কিষেণজিকে ‘রেড স্যালুট’ দেওয়া লোকেদের শিকড় থেকে তুলে ফেলব।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলির বন্দোবস্ত করা হবে। যাঁরা দীর্ঘদিন কলকাতা বা অন্য বড় শহরের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপনা করেছেন, তাঁদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও পড়াতে যেতে হবে। এই নীতি কার্যকর হবে শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও।
এমন কোনও বিল যে পাস করানো হতে পারে, এই আশঙ্কা গত কয়েক দিন ধরেই করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একাংশ। বদলির ক্ষেত্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যে ‘সহজ শিকার’ হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক গত মাসেই জানিয়েছিলেন, পরবর্তী একমাসে এমন কিছু পরিবর্তন আনতে পারে সরকার, যাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছাই করা শিক্ষক-অধ্যাপকদের অন্যত্র বদলি করে দেওয়া যায়। সেই সুরেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি কোনও বিরোধিতা সহ্য করবেন না। শুভেন্দু বলেন, “যাঁরা দেশের ভিতরে থেকে দেশকে অপমান করছেন, তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একবার গীতা পাঠ করতে আসব, আর একবার হনুমান চালিসা পাঠ করতে আসব।” যাদবপুরে তিন দিনের জন্য বেদপাঠ হবে বলেও জানান। এর পরেই উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, “এঁদের পরিষ্কার করবেন তো? প্রস্তুত সবাই?” তার পরই টেনে আনেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধনী বিলের প্রসঙ্গ। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জানিয়ে দেন, ‘কী করে সাফ করতে হয়’ তা তিনি জানেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ব্যঙ্গের সুরে বলেন, “শিক্ষক দিবসের পর, শিক্ষকদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী যে অগাধ ‘সম্মান’ জানিয়েছেন, তা খুবই বেদনাদায়ক।” এ দিকে, যাদবপুরের ‘দেশবিরোধিতা’ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েও সংশোধনী বিল প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাননি অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের যাদবপুর ইউনিটের সম্পাদক ভাস্কর সর্দার। তিনি বলেন, “বিল যেহেতু আমরা দেখিনি তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা মুশকিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী দেশবিরোধীদের নিয়ে যা বলেছেন সেটা ঠিকই বলেছেন। আমরাও বার বার বলে এসেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সব দেশবিরোধী স্লোগান বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকার যা পদক্ষেপ করবে তাকে পূর্ণ সমর্থন জানাই।”
এই বিলের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন এআইডিএসও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়। তিনি জানিয়েছেন, এই বিল আসলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বাধিকার ধ্বংস করে দলতন্ত্র কায়েম করার সরকারি সিদ্ধান্ত। সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যেখানে পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে রাজ্যে নানা বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে না। বরং এই সমস্যাগুলির সমাধান না করে বিশ্ববিদ্যালয়ে দলতন্ত্র কায়েম করার এবং স্বাধিকার ধ্বংস করার হীন প্রচেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।” এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি-র সভাপতি নিখিল দাস বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। আমরা চাই এখানে যে ভাবে দুর্নীতি হয়েছে সেটাও ওই বিলের আওতায় যথাযথ তদন্ত হোক। আমরা তথ্যপ্রমাণ দিয়ে সরকারকে সব রকম ভাবে সাহায্য করব।”
শিক্ষক সংগঠন আবুটার তরফে সাধারণ সম্পাদক গৌতম মাইতি এক বিবৃতিতে বুধবার জানান, ১৯–২০ অগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত হামলার পর ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং বহিরাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ক্যাম্পাসে ভয়, আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব স্বাভাবিক পঠনপাঠন ও গবেষণার উপর পড়ছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা, মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক বৌদ্ধিক চর্চার স্বাধীন পরিসর, স্বায়ত্তশাসন রক্ষার পক্ষে মত প্রকাশ করেন সংগঠনের সদস্যেরা।




