Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

স্মৃতিচারণে বার বার ফিরে এলেন সেই উত্তমকুমার!‌ জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে তারকার মেলা। ডাকটিকিটে পরিচিত হাসি

R‌K NEWZ ডাকটিকিটে তাঁর মুখ। মঞ্চে তাঁর সহশিল্পীরা। আর তাঁদের স্মৃতিচারণে বার বার ফিরে এলেন সেই মানুষটি— উত্তমকুমার। জন্মশতবর্ষের চার দিন ধরে চলা অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গন যেন হয়ে উঠল উত্তম-স্মৃতির আসর। বিকাল গড়াতেই শুরু হল একের পর এক অনুষ্ঠান। প্রকাশিত হল উত্তমকুমারের ছবি দেওয়া বিশেষ ডাকটিকিট। নুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তী। মঞ্চে উঠে বাংলা ছবির পরিকাঠামো নিয়েও কথা বলেন শমীক। বাংলা ছবিকে করমুক্ত করার আবেদন জানান তিনি। পাশাপাশি, জেলাগুলিতে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। এ প্রসঙ্গে অভিনেতা মদন মিত্রের সঙ্গে তাঁর এক পুরনো কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে শমীক জানান, জেলায় প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কম— এমন অভিযোগ তিনি আগেও শুনেছেন। এর পর মঞ্চ জুড়ে শুধুই স্মৃতি। উত্তমকুমারের সময়ের এক ঝাঁক শিল্পী ও কলাকুশলীকে সম্মান জানানো হয় অনুষ্ঠানে। মিঠুন চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রভাত রায়, দীপঙ্কর দে, রত্না ঘোষাল, শকুন্তলা বড়ুয়া, মিতা চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণী মণ্ডল-সহ প্রবীণ অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীদের হাতে সম্মান তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন যিশু সেনগুপ্ত ও আবীর চট্টোপাধ্যায়। একই মঞ্চে উত্তমের এত দিনের সহশিল্পীরা— স্বাভাবিক ভাবেই কথায় কথায় খুলে গেল স্মৃতির দরজা। ফিরে এল শুটিংয়ের দিন, সেটের গল্প, উত্তমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা। ‘মৌচাক’-এর প্রসঙ্গ তুললেন আবীর। ছবিতে উত্তমকুমার ও রঞ্জিত জুটির বহুআলোচিত একটি ধূমপানের দৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। রঞ্জিত জানালেন, ছবির প্রথম দৃশ্যে উত্তমের সঙ্গে শট দেওয়ার সময় খানিকটা ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই অস্বস্তি কাটিয়ে দিয়েছিলেন উত্তম নিজেই। কয়েক দিন পরে ধূমপানের দৃশ্যের শুটিংয়ের সময়ও তাঁর সহযোগিতায় পুরো বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। মিঠুন চক্রবর্তীর স্মৃতির ঝুলি খুলল ‘কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী’ নিয়ে। সেটি-ই ছিল উত্তমকুমারের সঙ্গে তাঁর প্রথম কাজ। মিঠুনের কথায়, তাঁকে ছবিতে বেছে নিয়েছিলেন উত্তম নিজেই। নতুন অভিনেতা হিসাবে স্বাভাবিক ভাবেই একটা সংশয় ছিল। কিন্তু উত্তম এমন ভাবে তাঁকে আপন করে নিয়েছিলেন যে, তাঁদের সম্পর্ক খুব দ্রুতই হয়ে উঠেছিল আন্তরিক। মিঠুনের স্মৃতিতে, এমনও হয়েছে যে, তিনি না খাওয়া পর্যন্ত উত্তমও খাবার খেতেন না। স্মৃতিচারণের সেই আবহেই দেখানো হল উত্তমকুমারকে নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ‘মহানায়ক: আ সুপারস্টার জার্নি’। ছবিটি তৈরি করেছেন স্বপন দাশ। পর্দায় পুরনো উত্তম, আর সামনে তাঁর সময়ের মানুষ— দুই সময় যেন এক মুহূর্তে এসে মিশে যায়। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে গোটা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় এসেছেন প্রবীণ অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। আয়োজন দেখে আপ্লুত তিনিও। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “এমন একটা অসাধারণ অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা আমার ছেলে বুম্বা। বাবা হিসাবে গর্ব হচ্ছে।” তবে প্রসেনজিৎ এই আয়োজনের কৃতিত্ব একা নিতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে সকলের মিলিত প্রয়াসে। দিনের শেষে তাই রবীন্দ্রসদনে শুধুই এক তারকার জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন হল না। ডাকটিকিটে ফিরে এল পরিচিত মুখটি, মঞ্চে ফিরে এল তাঁর সহশিল্পীদের স্মৃতি আর পুরনো দিনের গল্পে ফের এক বার জীবন্ত হয়ে উঠল উত্তমকুমারের সময়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles