Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

পুজোর রাতে কলকাতার আকাশজুড়ে বাংলার সংস্কৃতি!‌ আকাশে অভিনব ড্রোন শোয়ের সাক্ষী থাকবে তিলোত্তমা

RK NEWZ অভিনব ড্রোন শো ফুটিয়ে তুলবে নবান্ন। দুর্গাপুজোয় কলকাতার আকাশে দেখা যাবে অভিনব ড্রোন শো। যেমনটা যোগদিবসে গঙ্গাবক্ষে হয়েছিল, তেমনই পুজোর রাতের আকাশে অভিনব ড্রোন শোয়ের সাক্ষী থাকবে তিলোত্তমা। ৩ হাজার ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠবে দুর্গাপুজোর বিভিন্ন দৃশ‌্য। মহালয়া এবং পুজোর আরও দু’টি দিনে থাকছে বিভিন্ন বর্ণ‌্যাঢ‌্য অনুষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালি সংগঠন এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলিকেও সরাসরি যুক্ত করা হবে উৎসবে। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের সংস্কৃতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে দুর্গাপুজোয় নানা আয়োজনের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শো-তে ড্রোনের চলাচল, আলো, সঙ্গীত এবং মঞ্চের অনুষ্ঠান- সবকিছুকে একসঙ্গে মিলিয়ে দৃশ্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। মহালয়ার পাশাপাশি পুজোর আরও দু’টি নির্ধারিত দিনে বিশেষ অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে একটি অনুষ্ঠান অষ্টমীকে কেন্দ্র করে হতে পারে। সেখানে ধুনুচি নাচ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকবে। নবান্ন সূত্রে খবর, পুজো উপলক্ষে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও স্থাপত্য আলো দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে সরকারি কাঠামোয় কেবলমাত্র স্থাপত্যভিত্তিক আলোকসজ্জা করা যাবে। কোনও বড় স্টেডিয়াম, অডিটোরিয়াম বা অন্য কোনও উপযুক্ত জায়গায় প্রায় চার ঘণ্টার ‘গ্র্যান্ড দুর্গাপুজো কনসার্ট’ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে পর্যটন দপ্তর। সেখানে জনপ্রিয় শিল্পী, সেলিব্রিটি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল অংশ নেবে। ঢাক ও ধুনুচি নাচের পাশাপাশি ছৌ, ঝুমুর, বাউল, কীর্তন, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নেপালি সংস্কৃতি, লোকসঙ্গীত এবং সমকালীন শিল্পকলাকেও তুলে ধরা হবে। বাংলার থিম প্যান্ডেল, আচার-অনুষ্ঠান, খাবার, হস্তশিল্প ও তাঁতশিল্পও জায়গা পাবে প্রচারে।

দুর্গাপুজো ঘিরে শঙ্কা! ওপার বাংলায় যেতে নারাজ কুমোরটুলির প্রতিমা শিল্পীরা

কুমোরটুলির শিল্পীদের শিল্পকলার খ্যতি বিশ্বজুড়ে। এখানের মৃৎশিল্পীদের গড়া প্রতিমা পুজো পায় দেশ বিদেশেও। অনেক শিল্পী লন্ডন, আমেরিকা, দুবাই মতে দেশে গিয়ে প্রতিমা সাজিয়ে দিয়ে আসেন। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে উত্তর কলকাতার কুমোরটুলির শিল্পীদের কদর রয়েছে। কুমিল্লা, খুলনা, যশোরে দুর্গাপুজোর প্রতিমা গড়তে কুমোরটুলি থেকে শিল্পীদের নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের বেশ খাতির যত্ন করে রাখা হত সেখানে। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে চিড় ধরে। কুমোরটুলির শিল্পীদেরও ওপার বাংলায় যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি অবশ্য কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। পুনরায় ভারত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা চালু করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও শঙ্কা কাটছে না। এবছরও ওপার বাংলায় যেতে চাইছেন না পটুয়াপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। কুমোরটুলির প্রবীণ শিল্পী সনাতন পাল কুমিল্লায় গিয়ে প্রতিমা তৈরি করে আসতেন। সঞ্জীব পোদ্দার নামে এক বনেদি পরিবারের দুর্গা প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। সনাতনবাবু জানান, কুমিল্লার ওই বনেদি বাড়ির পুজো বহু পুরনো। প্রচুর লোকজন আসে। কুমোরটুলি থেকে তাঁরা শিল্পী নিয়ে গিয়ে প্রতিমা তৈরি করত। তাঁর কথায়, ‘‘আমি নিজে পরপর তিন বছর সেখানে গিয়ে প্রতিমা তৈরি করে এসেছি। ওরাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল প্রতিমা তৈরি জন্য। পুজোর আগে দু’বার যেতাম। প্রথমে যেতাম এপ্রিলে মাসে দ্বিতীয়বার যেতাম মহালয়ার আগে প্রতিমার গায়ে রঙ করতে। কিন্তু আওয়ামি লিগের পতনের পর আর সেদেশে যাওয়া হয়নি। এবারে ভিসা চালু হলেও আর আমি যোগাযোগ করিনি। ওরাও ফোন করেননি।” প্রবীণ এই শিল্পীর কথায়, নতুন সরকার এলেও সেখানে পরিস্থিতি আগের মত নেই বলে অনেকে মনে করছেন। তাই তাঁরাও কেউ এখন যোগাযোগ করছেন না। কুমোরটুলি মৃৎশিল্প ও সংস্কৃতি সমিতির সম্পাদক বাবলু পাল জানান, এখানকার কয়েকজন শিল্পী বাংলাদেশে প্রতিমা তৈরি করতে যেতেন। এখন সরকার ভিসা দিলেও সেদেশের পরিস্থিতির কথা ভেবে মৃৎশিল্পীরা সেখানে প্রতিমা গড়তে যেতে চাইছেন না। যদিও এবছর বাংলাদেশে দুর্গা আরাধনার প্রস্তুতি চরমে। প্রতিমা তৈরি শুরু হয়ে গিয়েছে। চমক দিতে চলেছে সাতক্ষীরা দেশলাই ও রেশম সুতোর তৈরি দশভুজা। তবে কুমোরটুলির ছোঁয়া থেকে এবারও ব্রাত্য থাকছে ওপার বাংলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles