RK NEWZ নেপালের বিপর্যয় ঘিরে দেশজুড়ে এখনও শঙ্কার মেঘ। শেষপর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে কত দাঁড়াবে তা এখনই বলা মুশকিল। যত উদ্ধারকাজ এগচ্ছে ততই সন্ধান মিলছে বিপর্যয়ের ভয়াবহ পরিণতির নানা চিহ্নের! আর এহেন বিপর্যয়ের সময়ে যেমন বন্যায় মৃত মানুষের শরীর থেকে গয়না খুলে নেওয়ার মতো দুষ্কর্ম করতে দেখা যাচ্ছে দুষ্কৃতীদের, তেমনই নজরে পড়ছে আরও নানা হৃদয়ছোঁয়া প্রচেষ্টাও। বিপর্যস্ত এলাকার বহু দূরের বাসিন্দা ছোট ছোট পড়ুয়ারা যেভাবে পকেটখরচ বাঁচিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে বন্যাদুর্গতদের, তা সত্যিই মন ভালো করে দেওয়ার মতো এক খবর। আসামের মঙ্গলসেন পুরসভার অন্তর্গত শোদশা সেকেন্ডারি স্কুল। সেই স্কুলেরই নবম শ্রেণির ছাত্র ইউনিক কেসি। খবরের কাগজ ও পোর্টালে লাগাতার বিপর্যয়ের খবর পড়তে পড়তে তার মনের মধ্যে ইচ্ছে জন্মায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর। ওই স্কুলের পড়ুয়ারা মিলে চাইল্ড ক্লাব নামে একটি ক্লাব খুলেছিল। সেখানে এলাকার হাজার দেড়েক পড়ুয়ারা সদস্য। গত সোমবার তারা একটা বৈঠক ডাকে। অবসরপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকের ফেয়ারঅয়েল নিয়ে আলোচনার মাঝেই উঠে আসে বন্যাবিধ্বস্ত মানুষের কথা। ইউনিক প্রস্তাব দেয় বন্যাদুর্গত পরিবারের শিশুদের জন্য কিছু করার। কিন্তু কত অর্থ জোগাড় করা সম্ভব? আলোচনায় তারা সিদ্ধান্ত নেয় নিজেদের পকেটখরচ বাঁচিয়ে সেই টাকা জোগাড় করার। যেমন ভাবা তেমন কাজ। এই অসময়ে ওই পড়ুয়াদের তোলা অর্থে বিধ্বস্ত পরিবারগুলির কতটা সুরাহা হবে তা সময়ই বলবে। কিন্তু এমনভাবে হৃদয়বেত্তার প্রতিফলন বুঝিয়ে দিচ্ছে মানুষ হয়ে মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা এখনই পেয়ে গিয়েছে ওই পড়ুয়ারা। আগামির পৃথিবীকে তারা সুন্দর করে গড়বেন এই আশা করাই যায়। ত্রিশূলী ও ভোটকোসি নদীর ধ্বংসযজ্ঞে এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে ১২৫৯ জনের। নিখোঁজ অন্তত ৫০০০ জন। এখনও পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে ৬৫৪১ জনকে। ভয়ংকর দুর্যোগে কত বাড়ি, অফিস, সেতু, দোকান-বাজার ভেঙেছে, তার স্পষ্ট হিসাব এখনও প্রশাসনের কাছে নেই। মনে করা হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ কোটি টাকা। এখনও পর্যন্ত ১২ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও বহু এলাকায় পৌঁছতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। ফলে আগামী দিনে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।



