RK NEWZ “আমি এক জন পুরুষ মানুষ, সরকারের এই বিশেষ ভাতার জন্য কখনও আবেদনই করিনি। ফলে সরকারি কোষাগারের এই টাকা পাওয়ার কোনও নৈতিক বা আইনি অধিকার আমার নেই। সেই কারণেই আমি নিজের দায়িত্বে এই টাকা আবার সরকারকে ফেরত দিতে অফিসে এসেছি।” বললেন সামজাদ শেখ। ভুলবশত নিজের নামে টাকা চলে এসেছে বুঝতে পেরেই তীব্র চিন্তায় পড়েন তিনি। তবে কোনও অনৈতিক উপায়ে সেই টাকা পকেটে না পুরে, এক মুহূর্ত দেরি না করে সোজা স্থানীয় বিডিও অফিসে দৌড়ালেন ওই বৃদ্ধ। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ এলাকায়। স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের অন্তর্গত খড়কাঠি গ্রামের বাসিন্দা সামজাদ শেখ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বহু দিন ধরেই তিনি কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমল থেকেই সরকারি নিয়ম মেনে নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতাও পেয়ে আসছেন তিনি। কিন্তু গত ১৭ অগস্ট হঠাৎই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি তহবিল থেকে ৩,০০০ টাকা জমা পড়ে। টাকা জমার এসএমএস আসতেই এবং পরিমাণের হিসাব মিলিয়ে সামজাদ বুঝতে পারেন, এটি আদতে রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদানের টাকা। দেরি না করে সোজা স্থানীয় রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের বিডিও অফিসে পৌঁছে যান সামজাদ শেখ। সেখানে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্তাদের সমস্ত বিষয় বিশদে জানান এবং নিজের মোবাইলে আসা সরকারি মেসেজটি তাঁদের সামনে তুলে ধরেন।
বিডিওর কাছে নিজের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে সামজাদ বলেন, “আমি এক জন পুরুষ মানুষ, সরকারের এই বিশেষ ভাতার জন্য কখনও আবেদনই করিনি। ফলে সরকারি কোষাগারের এই টাকা পাওয়ার কোনও নৈতিক বা আইনি অধিকার আমার নেই। সেই কারণেই আমি নিজের দায়িত্বে এই টাকা আবার সরকারকে ফেরত দিতে অফিসে এসেছি।” এক সাধারণ ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের এই সততায় কার্যত স্তম্ভিত ও আপ্লুত ব্লক প্রশাসন। রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের বিডিও শুভময় মাঝি জানান, ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির জন্য ওই পুরুষের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছে গেল, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি নিয়মবিধি ও ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ওই টাকা দ্রুত এবং সঠিকভাবে পুনরায় সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা নিয়ম ভেঙে বেশ কিছু পুরুষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পৌঁছানোর ভূরি ভূরি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছিল। রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যমের চর্চায় তাঁদের ব্যঙ্গ করে নাম দেওয়া হয়েছিল ‘পুরুষ লক্ষ্মী’! এ বার সেই ধারারই যেন পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে খোঁজ মিলল ‘পুরুষ অন্নপূর্ণা’র! তবে আগের ঘটনার সঙ্গে এবারের ফারাক একটাই – সরকারের ভুল টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে অন্যায্য টাকা নিজের পকেটে না রেখে, নিজের উদ্যোগেই তা ফিরিয়ে দিয়ে বিরল নাগরিক দায়িত্ববোধ ও সততার নজির গড়লেন সামজাদ শেখ। রাজ্যের বহু মহিলাদের অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢুকছে না, তবে এবার টাকা ঢুকল এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে! নিজের ফোনে আসা মেসেজটি দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না বৃদ্ধ। বারবার চোখ কচলিয়ে দেখেন, ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্টে আচমকাই জমা পড়েছে ৩,০০০ টাকা! খতিয়ে দেখতেই তিনি বুঝতে পারেন, এই টাকা আসলে তাঁর পাওয়ার কথা নয়, বরং ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র অধীনে পরিবারের কোনও মহিলার অ্যাকাউন্টে পৌঁছনোর কথা।




