RK NEWZ ইমামি গোষ্ঠীর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিনিয়োগকারী হিসেবে লাল-হলুদ ক্লাবে তাদের সমস্ত দায়িত্ব শেষ। এই প্রক্রিয়া মসৃণ করতে ইমামি তাদের হাতে থাকা সমস্ত ক্লাবের শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ভোটাধিকার ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারী ও পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় আইনি দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত তাঁরা। গত ইন্ডিয়ান সুপার লিগের মরসুম শেষ হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় ফুটবল মহলে জোর আলোচনা চলছিল যে – ইস্টবেঙ্গল ক্লাব এবং তাদের প্রধান বিনিয়োগকারী ‘ইমামি গ্রুপ’-এর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি মরসুমের শুরুতে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ইমামির লোগো না থাকায় সেই জল্পনা আরও তীব্র হয়। মঙ্গলবার অবশেষে সমস্ত ধোঁয়াশা কাটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল ইমামি গোষ্ঠী। লাল-হলুদ শিবিরের ইনভেস্টর বা বিনিয়োগকারীর ভূমিকা থেকে তারা সরছে ঠিকই, তবে প্রধান স্পনসর হিসেবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গেই যুক্ত থাকছে তারা। ইমামি গোষ্ঠীর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিনিয়োগকারী হিসেবে লাল-হলুদ ক্লাবে তাদের সমস্ত দায়িত্ব শেষ। এই প্রক্রিয়া মসৃণ করতে ইমামি তাদের হাতে থাকা সমস্ত ক্লাবের শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ভোটাধিকার ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারী ও পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় আইনি দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত তাঁরা। ইনভেস্টর হিসেবে না থাকলেও শতবর্ষপ্রাচীন এই ক্লাবের সঙ্গে বন্ধন পুরোপুরি ছিন্ন করছে না ইমামি। ডুরান্ড কাপের ফাইনাল ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে পুনরায় দেখা মিলেছে ইমামির লোগোর। বিবৃতিতে সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, “ভারতীয় ফুটবলের বিকাশ ও অগ্রগতির প্রতি ইমামি গোষ্ঠী সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিনিয়োগকারীর ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ালেও স্পনসর হিসেবে আমরা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পাশে থাকব এবং খেলাধুলোর উন্নয়নে ক্লাবকে সহায়তা জুগিয়ে যাব।” ২০১৯ সালের পর থেকে সময় একেবারেই ভাল যাচ্ছিল না ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের। পড়শি ক্লাব এটিকে-র সঙ্গে মার্জ করে পরপর সাফল্য পেলেও লেসলি ক্লডিয়াস সরণীর লাল-হলুদ তাঁবুতে ছিল শুধুই বিষন্নতা। এরই মধ্যে ইনভেস্টর হিসেবে ইস্টবেঙ্গলে আসে ইমামি কর্তৃপক্ষ। তারপর ২০২৪ সালের কলিঙ্গ সুপার কাপ জয়, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে কলকাতা লিগ জয়, ২০২৬ সালের আইএসএল জয় – পরপর সাফল্য পেয়েছে দল। সম্প্রতি আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ৪-১ গোলে পর্যুদস্ত করে ট্রফি জিতেছে লাল-হলুদ বাহিনী। এই আবহেই খুশির খবর দিল ইমামি। ইনভেস্টর হিসেবে লাল-হলুদের হাত ছাড়লেও, স্পনসর হিসেবে তাঁরা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে থেকে যাচ্ছে।



