RK NEWZ জোসে মোরিনহোর নতুন ডকু-সিরিজ। কেন সেখানে নেই পেপ গুয়ার্দিওলা? ফুটবলের বাইরে তাঁর বিন্দুমাত্র কোনও জীবন নেই। না আছে বাগান করার শখ, না রান্না বা গল্ফ খেলার। জীবনে কোনও বিরতি বা ‘স্যাবাটিকাল’ নিতে তিনি নারাজ। তাঁর মতে, ‘স্যাবাটিকাল মানেই দুর্বলতা।’ খোঁচাটা যে পেপ গুয়ার্দিওলার দিকে, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। সদ্য নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে জোসে মোরিনহোকে নিয়ে তিন পর্বের ডকু-সিরিজ। পরিচালক জো পার্লম্যান। সাধারণ স্পোর্টস ডকুমেন্টারির একঘেয়েমি এখানে নেই। ড্রোন শট বা বাড়ির সোফায় বসে কফি খাওয়ার দৃশ্য বাদ। বরং, নজরে আসে, নিজের শহর সেতুবলের রাস্তায় ফেরারি হাঁকিয়ে চলেছেন মোরিনহো। তথ্যচিত্রে রয়েছেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, জন টেরি, জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ বা ইকের কাসিয়াসের মতো তারকা। বাদ পড়েছেন, লক্ষ্যণীয়ভাবে, রোমান আব্রামোভিচ, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং পেপ গুয়ার্দিওলা। নির্মম কোচ, নিখাদ ফুটবল-পাগল। দলের প্রতি তিনি কতটা নির্মম, তা উঠে এসেছে পরতে পরতে। চেলসির গোলরক্ষক পিটার চেক ভাঙা কাঁধ নিয়ে খেলেছিলেন। কারণ কোচের নির্দেশ ছিল, ‘খেলতে না পারলে ইনজেকশন নাও।’ মোরিনহোর সাফ কথা, ‘শক্ত ছেলেদের আমি আরও শক্ত করি। আর জঞ্জালদের বিপদ বাড়ে।’ উঠে আসে অ্যান্ডার্স ফ্রিস্কের প্রসঙ্গও৷ তাঁর অভিযোগের জেরে ওই রেফারি অবসর নিতে বাধ্য হন। অন্ধকার ঘরে বসে কয়েক দশক বাদে কোচের অমোঘ উচ্চারণ, ‘আমি মোটেও ভাল মানুষ নই।’ গত দশ বছরের কেরিয়ার এখানে কিছুটা দ্রুতলয়ে দেখানো হয়েছে। ফোকাসে মূলত বার্সেলোনার সহকারী কোচের জীবন থেকে চেলসির দ্বিতীয় অধ্যায়। ২০১৩ সালে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন অবসর নেওয়ার পর ম্যানচেস্টারের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছিলেন জোসে। কিন্তু শেষমেশ তা হয়নি। কেন? রহস্য উন্মোচনের জন্য দেখতে হবে এই সিরিজ৷
গুয়ার্দিওলা গেলেন কই? পরিচালক পার্লম্যান ধরতে চেয়েছিলেন গুয়ার্দিওলাকে। পেপ রাজিও হন। কিন্তু শর্ত দেন, মোরিনহোকে নিজে এসে তাঁকে অনুরোধ করতে হবে। এ কথা শুনে মোরিনহো পরিচালককে সটান বলে দেন, ‘এর বিন্দুমাত্র কোনও সম্ভাবনা নেই।’ দুই কিংবদন্তির অহংয়ের লড়াই ঠিক কতটা তীব্র, এই একটিমাত্র উচ্চারণে তা স্পষ্ট৷ ব্যক্তিগত জীবনে চূড়ান্ত নিঃসঙ্গ। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় জোসের জীবনযাপন। ফেনেরবাচে ক্লাবের কোচ থাকার সময় তিনি বিলাসবহুল ফোর সিজনস হোটেলে ঘুমোতেন না। ট্রেনিং গ্রাউন্ডের সাদামাটা একটি ছাত্রাবাসের মতো ঘরে একলা বিছানায় রাত কাটাতেন। সারাদিন পরনে ট্রেনিং কিট। ইস্তাম্বুলের ব্লু মস্ক বা রোমের কলোসিয়াম—কোথাও যাননি। কখনও কখনও মুখে মাস্ক লাগিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে শুধু কাবাব কিনে এনেছেন। বড়দিনের দিন ম্যানেজারের চাকরি খুইয়েছিলেন মোরিনহোর বাবা। এক কিশোরের মনে সেই ঘটনার কতটা প্রভাব পড়েছিল, তা সহজেই অনুমেয়। প্রশ্ন করতে গিয়ে খোদ পরিচালকও তাঁর মেজাজের শিকার হয়েছেন। পার্লম্যানের কথায়, ‘মোরিনহোর ডকুমেন্টারি বানাতে গিয়ে ওঁর বকুনি খাব না, তা কি হয়! তবে ওকে রাগিয়ে দেওয়াটা আমাদের কাজেরই অংশ ছিল।’
আদৌ কি সুখী তিনি? তথ্যচিত্রের প্রযোজক মাইলস কোলম্যান অবাক হয়েছেন অন্য একটি বিষয়ে। যিনি স্পোর্টস সাইকোলজির অন্যতম সেরা মাস্টারমাইন্ড, তিনি নাকি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নন। দু’বছর ধরে শ্যুটিং চললেও, পরিচালক বা প্রযোজকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একটাও প্রশ্ন করেননি তিনি। বাবার মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে অবশ্য ক্যামেরার সামনে কেঁদে ফেলেন এই ডাকাবুকো কোচ। স্বীকার করেন, ‘পরিবার আমাকে ছাড়া অনেক বেশি আনন্দে থাকে।’ কিন্তু তিনি কি আদতে সুখী? পরিচালকের জবাব, ‘না, আমার তা মনে হয় না। জীবনে তৃপ্তি বলে ওঁর কিছু নেই। চারপাশের জগতে কোনও বন্ধু নেই। চতুর্দিকে একাকীত্ব আর ভয়ের একটা দেওয়াল তুলে রেখেছেন জোসে।’ কথাটা ভুল নয়৷ রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবেও তাঁর দাপট আর পতন এক ট্র্যাজিক হিরোর গল্পই মনে করায়।




