Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‌‘‌প্যাশনেট’‌ পেপ গুয়ার্দিওলা!‌ স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ, সাজঘরে চূড়ান্ত অশান্তি! গোপন ক্যামেরায় ফাঁস

RK NEWZ বিবাহবিচ্ছেদ, ড্রেসিংরুমের অশান্তি এবং সিটি ছাড়ার অজানা কাহিনি। পেপ গুয়ার্দিওলার নতুন ডকু-সিরিজ ‘এ বিউটিফুল অবসেশন’-এ ফাঁস। শুরুটা জুভেন্তাসের আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে। ফুটবলারদের সামনে দাঁড়িয়ে পেপ গুয়ার্দিওলা। গলা বুজে আসছে। চোখে জল। আচমকা বলে উঠলেন, ‘আমি একটা কথা স্বীকার করতে চাই। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মহিলার সঙ্গে আমার ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে।’ ম্যানচেস্টার সিটির অন্দরমহলের এমন নানা অজানা কাহিনি এবার প্রকাশ্যে। প্রাইম ভিডিওতে বুধবারই মুক্তি পাচ্ছে পেপ গুয়ার্দিওলার চার পর্বের নতুন ডকু-সিরিজ ‘এ বিউটিফুল অবসেশন’। সিটির কোচ হিসেবে তাঁর শেষ দুই মরসুমের নিখুঁত দলিল এই তথ্যচিত্র। কেভিন ডি ব্রুইনের কান্না, কাইল ওয়াকারের সঙ্গে তুমুল অশান্তি বা রায়ান চেরকির আচরণ নিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক—বাদ পড়েনি কিছুই।

বিবাহবিচ্ছেদের গভীর প্রভাব। ২০২৪-২৫ মরসুম। সিটির ঘোর দুঃসময়। ১০ ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে হার। জুভেন্তাসের কাছে পরাজয়। যার পরেই ড্রেসিংরুমে বিবাহবিচ্ছেদের কথা জানান পেপ। দীর্ঘদিনের স্ত্রী ক্রিস্টিনা সেরার সঙ্গে ডিভোর্স। কোচের গলায় আক্ষেপ, ‘আমি ওকে অবিশ্বাস্যরকম ভালবাসি। কিন্তু আমাদের মধ্যে আর সেই প্যাশন নেই।’ প্যাশনের অভাবই পেপ খুঁজছিলেন ফুটবলারদের মধ্যে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘প্যাশন ছাড়া ফুটবল খেলা যায় না। আমি শুধু ভালো প্লেয়ার চাই না। আমি প্যাশনেট প্লেয়ার চাই।’ পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে, পেপের ডানহাত ম্যানেল এস্টিয়ার্তে ফুটবলারদের আলাদা করে সতর্ক করেন। তাঁর কথায়, ‘পেপ নার্ভাস, বিষণ্ণ ছিল। আমি ছেলেদের বলি, ওর প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হতে। কারণ ও ডিভোর্সের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল।’ ওয়াকারের সঙ্গে তুমুল অশান্তি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লিভারপুলের কাছে ০-২ গোলে হার। ড্রেসিংরুমে কাইল ওয়াকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন পেপ। ইংরেজ তারকাও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। দেন পালটা জবাব, ‘আপনি সব মিটিংয়ে শুধু আমার নাম নেন।’ পেপের জবাব, ‘কারণ তুমি দলের ক্যাপ্টেন।’ ওয়াকারের পালটা তোপ, ‘আপনি তো আমাকে অধিনায়ক করতেই চাননি!’ এতদূর বাকবিতণ্ডার পর কেঁদে ফেলেন পেপ। আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, ‘আমি যদি দলের সমস্যা হই, আমাকে বলো। শুধু টাকার জন্য আমি এখানে পড়ে থাকব না।’

লেভারকুসেন ম্যাচের পর বিস্ফোরণ। গত মরসুমে বায়ার লেভারকুসেনের কাছে ঘরের মাঠে ০-২ গোলে অবিশ্বাস্য পরাজয়। ওই ম্যাচে প্রথম একাদশে ১০টি বদল করেছিলেন পেপ। হারের পর ড্রেসিংরুমে ফেটে পড়েন তিনি। ফুটবলারদের হেঁকে জানিয়ে দেন, ‘তোমাদের পারফরম্যান্স একটা চূড়ান্ত অপমান। আমি নিজের ডিভোর্স, পরিবার সব ছেড়ে তোমাদের জন্য এখানে পড়ে আছি। আর তোমরা আমাকে এই প্রতিদান দিচ্ছ!’ যোগ করেন, ‘মরসুম শেষে কারও মুখে অভিযোগ শুনলে, আমি তাকে খুন করে ফেলব।’ বিপর্যয়ের পর সিটির সিইও ফেরান সোরিয়ানো এবং চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক পেপের উপর চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ। ডকু-সিরিজের অডিয়ো ক্লিপে মুবারককে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আজ ওর সঙ্গে কথাই বলতে পারব না। ভীষণ রেগে আছি।’ হালান্ডকেও কড়া ধমক। আর্লিং হালান্ডকেও রেয়াত করেননি পেপ। প্রমাণ এফএ কাপ ফাইনাল। তখন হাফটাইম। স্প্যানিশ কোচ চিৎকার করে ওঠেন, ‘তুমি কি ক্লান্ত? ফাইনালে কেন বলের জন্য লড়াই করছ না? আমি তোমাকে বাবার মতো ভালবাসি, কিন্তু আমাকে জেতার ইচ্ছেটা অন্তত দেখাও।’

বিদায়বেলা ও অবসাদ। প্রথমে ঠিক ছিল সাংবাদিক বৈঠক করে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করবেন। কিন্তু মিডিয়া যাতে আগে খবর না পায়, তার জন্য সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়। সিজনের শেষ ম্যাচের মাত্র দু’দিন আগে ফুটবলারদের দল ছাড়ার কথা জানান পেপ। বিদায়ী ভিডিও রেকর্ড করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ‘এর কোনও নির্দিষ্ট কারণ নেই। তবে ভেতর থেকে বুঝতে পারছি, এবার আমার যাওয়ার সময় হয়েছে।’ মরসুম শেষে বার্সেলোনায় এক সাক্ষাৎকারে জানান, আপাতত তিনি বিশ্রামে যেতে চান। কাতালান শব্দ ‘বাদার’ ব্যবহার করে পেপ বলে ওঠেন, ‘আমি এখন শুধু বসে বসে সময় কাটতে দেখতে চাই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles