Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডে গ্রেফতার হোটেল মালিকের বাবাও!‌ অকুস্থল ‘বিদেশিনী’ লাগোয়া পুকুরে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি

RK NEWZ এ বার গ্রেফতার করা হল হোটেল মালিকের বাবাকেও। সোমবার মধ্যরাতে তারাপীঠ থানার পুলিশ পাকড়াও করে প্রবীর পালকে। তাঁর পুত্র তথা হোটেলের মালিক কল্যাণ পালকে আগেই গ্রেফতার করা হয়। সূত্রের খবর, বাবা-ছেলে মিলেই চালাতেন তারাপীঠের ওই হোটেলটি। হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে ন’জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনই মেঘালয়ের বাসিন্দা। হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সঠিক ছিল কি না, সবরকম নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আবাসিকদের অনেকের অভিযোগ, পিছনের দিকের একটি দরজা বন্ধ ছিল। তাই তাঁরা বেরোতে পারছিলেন না। সেই অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোটেল সংলগ্ন একটি পুকুরেও তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তদন্তকারীরা। সোমবারের অগ্নিকাণ্ডের সময়ে হোটেলে আবাসিক-সহ ৪৩ জন ছিলেন বলে সূত্রের খবর। তাঁদের মধ্যে ২২ জনকে প্রাথমিক ভাবে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে তাঁদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়। বাকিদের বেশির ভাগের খোঁজ মিললেও কয়েক জনের এখনও সন্ধান মেলেনি। এ অবস্থায় ওই নিখোঁজদের মধ্যে কেউ পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কি না, বা পুকুরে তাঁদের কারও দেহ পড়ে রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে চাইছেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে ডুবুরি নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। অকুস্থল লাগোয়া ওই পুকুরে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশির পরিকল্পনা করছেন তদন্তকারীরা। তারাপীঠ মন্দিরের পাশে তারাপীঠ থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে হোটেল ‘বিদেশিনী’। সোমবার ভোরে সেখানে আগুন ধরে যায়। প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। হোটেল সূত্রে খবর, ফাইবারের অন্দরসজ্জা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল দ্রুত। অনেকে বদ্ধ ঘরে থাকতে না পেরে বেরিয়ে আসেন। হোটেলের পিছন দিক দিয়ে বেরোনোর নিরাপদ রাস্তা ছিল। কিন্তু পুণ্যার্থীরা প্রায় কেউই তা চিনতেন না। আগুন লেগে যাওয়ায় হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে দিক নির্দেশক চিহ্নও দেখা যায়নি। প্রাণ হাতে নিয়ে অনেকে সামনের দিকে রিসেপশনের দরজা দিয়েই বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেন। তাতেই ঘটে বিপত্তি। আগুন ধরেছিল রিসেপশনের দিকেই। তাতে ঝলসে যান অনেকে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই তারাপীঠ এবং রামপুরহাট থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে যায়। দমকলকর্মীরা বেশ কিছু ক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁরা বেশ কয়েক জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। সূত্রের খবর, আগুনে ঝলসে মৃতদের মধ্যে মেঘালয়ের একই পরিবারের পাঁচ সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। সূত্রের খবর, হোটেলের সবচেয়ে উপরের তলায় ছিল ওই পরিবার। আগুন লেগেছে জানতে পেরে শিশুদের নিয়ে সকলে একসঙ্গে পালানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। নীচে নামতেই আগুনের মুখে পড়েন। তাঁদের কাউকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles