RK NEWZ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গলে ৬০০তম টেস্ট খেলতে নামছে ভারত। ঐতিহাসিক সেই কৃতিত্ব ঘটতে চলেছে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে। শ্রীলঙ্কায় টসের আগে তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করেন কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শুভমান গিল। তারপর জাতীয় সঙ্গীতে সুর মেলায় গোটা ভারতীয় দল। তৃতীয় দেশ হিসেবে ৬০০ টেস্ট খেলার নজির গড়ল ভারত। এর আগে শুধু ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার এই নজির আছে। ১৯৩২-এ লর্ডসে ভারতের টেস্ট অভিযান শুরু হয়েছিল। ৯৫ বছরের টেস্ট ইতিহাসে বহু উত্থানপতন দেখেছে ভারত। এর মধ্যে ১৮৬টি টেস্ট জিতেছে। হেরেছে ১৮৮, ড্র ২২৪। একটি টাই। প্রথম টেস্ট থেকে ১০০তম টেস্ট খেলতে লেগেছিল ৩৫ বছর। এখন মোটামুটি গড় ১০ বছরে ১০০টি টেস্ট খেলে ভারত। সাম্প্রতিক সময়ে জয়ের শতাংশ অনেক বেড়েছে। কেমন ছিল ভারতের টেস্ট সফর? কোন টেস্টগুলো ভারতের ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে? ২৫ জুন, ১৯৩২। সিকে নাইডু লর্ডসে ভারত অধিনায়ক হিসেবে টস করেন। তখনও ছিল পরাধীন ভারত। সেই টেস্টে ১৫৮ রানে ভারত হেরেছিল। প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় ২০ বছর পর। ১৯৫২ সালে মাদ্রাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট জেতেন বিনু মানকড়, পঙ্কজ রায়রা। বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে সময় লাগল আরও ১৬ বছর। ১৯৬৮-এ মনসুর আলি খান পতৌদির অধীনে নিউজিল্যান্ডে প্রথম টেস্ট ও সিরিজ জেতে ভারত। ১৯৭৬ সালে, পোর্ট অফ স্পেনে পাহাড় প্রমাণ ৪০৬ রান তাড়া করে ভারত। সেই সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ছিলেন ভিভিয়ান রিচার্ডস, ক্লাইভ লয়েডরা। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবিয়ানদের ৩৫৯ রানের জবাবে ভারত গুটিয়ে যায় ২২৮ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭১ রানে ডিক্লেয়ার করে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জয়ের জন্য লক্ষ্য ৪০৩। তখনও পর্যন্ত শুধু অস্ট্রেলিয়াই ৪০০ রান তাড়া করে জিতেছিল। ভারত অসাধ্য সাধন করল সুনীল গাভাসকর ও গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথের সেঞ্চুরিতে। ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ২০০১ সালে কলকাতা টেস্ট। ফলোঅন করেও যে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে হারানো যায়, সেটা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়রা দেখিয়ে দেন। স্টিভ ওয়াহদের ৪৪৫ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ভারত ১৭১ রান করে। তারপর রাহুল দ্রাবিড় (১৮০) ও ভিভিএস লক্ষ্মণ (২৮১) আড়াই দিন ক্রিজে পড়ে থেকে ৬৫৭ রান করে। এরপর অজিরা গুটিয়ে যায় মাত্র ২১২। হ্যাটট্রিক করেন হরভজন সিং। ভারত টেস্ট জেতে ১৭১ রানে। ‘বছর পর ফের ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট। এবারও দ্রাবিড়-লক্ষ্মণ জুটি। অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়া প্রথমে তোলে ৫৫৬ রান। ভারতও ছেড়ে কথা বলেনি। দ্রাবিড় (২৩৩) ও লক্ষ্মণের (১৪৮) জুটি ভারত টলে ৫২৩ রান। এরপর বল হাতে জ্বলে ওঠেন অজিত আগরকররা। অজিরা গুটিয়ে যায় ১৯৬ রানে। ২৩৩ রানের লক্ষ্য ৬ উইকেট হারিয়ে তুলে নেয় ভারত। এই ইনিংসেও ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন দ্রাবিড়। বিদেশের মাটিতেও সৌরভরা ভারতের তেরঙ্গা উড়িয়েছিলেন। এই বছরের শেষেই লর্ডসে ইংল্যান্ডকে ‘নরকদর্শন’ করান বিরাট কোহলিরা। কেএল রাহুলের সেঞ্চুরিতে ভারত ৩৬৪ রান করে। রুটের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডও ৩৯১ রান তোলে। এরপর ভারত ২৯৮ রানে ডিক্লেয়ার করে। মহম্মদ শামি ও বুমরাহ মিলে নবম উইকেটে প্রায় ৯০ রান জোড়ে। জবাবে ইংল্যান্ড ১২০ রানে অলআউট হয়ে যায়। ৩ উইকেট জশপ্রীত বুমরাহ, ৪ উইকেট মহম্মদ সিরাজের। বোলিংয়ের আগে অধিনায়ক কোহলি বলেছিলেন, “ওদের নরকদর্শন করাতে হবে।”




