Sunday, August 2, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘ককরোচদের’ পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে? দীপকে-র বিদেশে পড়াশোনার খরচ কী ভাবে?‌ আরটিআই করে তদন্তের দাবি

RK NEWZ ধবারের বৈঠকের পরই একটি সাংবাদিক বৈঠক করতে পারে সিজেপি। ওই সাংবাদিক বৈঠক থেকেই সংগঠনের পরবর্তী কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে। দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের লাগাতার আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবদের মূল দাবি ছিল এটিই। তবে দেশের তরুণদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বিক্ষোভে শামিল হওয়ার নেপথ্যে প্রশ্নফাঁসই একমাত্র কারণ নয়। অনেকের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ। যত সংখ্যক পড়ুয়া বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর ডিগ্রি নিয়ে বেরোচ্ছেন, সেই সংখ্যায় কাজের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে না বলে অভিযোগ। তার সঙ্গে অনুঘটকের মতো জুড়েছে ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দাম এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি। এই পরিস্থিতিতে সিজেপি তাদের পরবর্তী কর্মসূচি কী ঘোষণা করে, তা নিয়ে কৌতূহলও বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। যন্তর মন্তরের আন্দোলনও এখন স্তিমিত। এ অবস্থায় কী হতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র পরবর্তী কর্মসূচি তা স্থির করতে আগামী বুধবার আলোচনায় বসছেন সিজেপির প্রথম সারির মুখেরা। পিটিআই সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্রের সম্ভাজিনগরে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-র বাড়িতে ওই বৈঠক হবে। গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। তার মধ্যে কোনও কোনও পরীক্ষা রাজ্যস্তরে আয়োজিত হয়, যার সঙ্গে কেন্দ্রের সরাসরি যোগ নেই। বিজেপি ক্ষমতায় নেই, এমন রাজ্যেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম পঞ্জাব। সে ক্ষেত্রে ‘ককরোচেরা’ কেন শুধু নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধেই সরব, তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। পঞ্জাব প্রসঙ্গে ‘ককরোচদের’ নীরবতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় দীপকে-কেও। যদিও তিনি জানিয়েছিলেন, পঞ্জাবের বিষয়টিও তাঁদের নজরে রয়েছে। তা নিয়েও তাঁরা সরব হবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। যন্তর মন্তরে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা বলেছিলেন, “আমরা শীঘ্রই আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব। আমাদের একটু সময় দিন।” অরাজনৈতিক সংগঠন সিজেপির ডাকে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়েছেন ছাত্র-যুবরা। সূত্রের খবর, দীর্ঘ আন্দোলনের পরে সিজেপির কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের কিছু দিন বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে মতামত এবং পরামর্শ নিতেও বলা হয়। সূত্রের খবর, কী কী পরামর্শ এবং প্রস্তাব এসেছে পড়ুয়াদের কাছ থেকে তা বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে সিজেপির বুধবারের বৈঠকে।

দীপকে-র বাবা ভগবানরাও দীপকে মহারাষ্ট্র সরকারের কর্মী ছিলেন। তাঁর সম্পত্তি, আয় নিয়ে তদন্ত চেয়েছেন আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি। সেই নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-র বাবার বিষয়-আশয় এ বার আতশকাচের নীচে! অবসরপ্রাপ্ত ওই সরকারি কর্মী কী ভাবে নিজের পুত্রের বিদেশে পড়াশোনার খরচ জোগালেন, তা জানতে তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) আবেদন করেছেন সুরতের এক সমাজসৈনিক। তিনি দীপকে-র বাবা ভগবানরাও দীপকে-র বিষয়-আশয় নিয়ে তদন্তও চেয়েছেন। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় জিএসটি কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর আবেদন, সিজেপির আইনি মোতাবেক নথিভুক্তিকরণ সংক্রান্ত বিষয় এবং তহবিল নিয়েও অনুসন্ধান করা হোক। দীপকে-র বাবা ভগবানরাও মহারাষ্ট্র সরকারের কর্মী ছিলেন। তাঁর সম্পত্তি, আয় নিয়ে তদন্তের দাবি করেছেন আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি। সেই নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, অবসর নেওয়ার পরেও কী ভাবে দীপকে-র বিদেশে পড়াশোনার খরচ জোগালেন তাঁর বাবা? দীপকে আমেরিকার বস্টনে পড়াশোনা করছিলেন। জুনের শুরুতে তিনি দেশে ফেরেন।

নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদের সময় সিজেপির কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। আটক হয়েছেন বেশ কয়েক জন। তাঁদের আইনি সাহায্যের অনুদান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই আরটিআই কর্মী। তিওয়ারির প্রশ্ন, সেই টাকা কোথা থাকে আসছে, খতিয়ে দেখা হোক। ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইের ২৯এ ধারায় সিজেপি নথিভুক্ত হয়েছে কি না, কমিশনের কাছে তা-ও জানতে চেয়েছেন সুরতের আরটিআই কর্মী। তাঁর কথায়, ‘‘নথিভুক্ত না হলেও সিজেপি রাজনৈতিক দলের মতোই চলছে। আইনি সহায়তার জন্য এক কোটি টাকা অনুদান পাচ্ছে। তাই আইন মেনে তা নথিভুক্ত হয়েছিল কি না, কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত।’’ নথিবদ্ধ না করা হলে সিজেপির অনুদানের রসিদ খতিয়ে দেখা উচিত। গত সোমবার কংগ্রেস সাংসদ তথা আইনজীবী কপিল সিব্বল ঘোষণা করেছিলেন, সিজেপি-কে আইনি সাহায্য পাওয়ার জন্য তিনি ১ কোটি টাকা দেবেন। প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার খরচ চালানোর জন্য এই অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। সেই নিয়ে জিসএসটি কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন জমা করেছেন সুরতের আরটিআই কর্মী তিওয়ারি। তাঁর প্রশ্ন, সিবলের ওই অনুদানের উপরে কি ১৮ শতাংশ জিএসটি কার্যকর করা উচিত? বিষয়টি জিএসটি কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করে দেখার আর্জি জানিয়েছেন। মামলা প্রত্যাহার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে কেন্দ্রীয় সরকার এবং ককরোচদের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। সেই রায়কে তুলে ধরে কেন্দ্র জানিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে অপরাধের মামলা ছিল, তাঁদের ছাড় নয়। সিজেপি তা মানতে নারাজ। তারা জানিয়েছে, প্রয়োজনে আবার আন্দোলন শুরু করবে। যে প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে, তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য অনুদান জমা পড়ছে। তার উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আরটিআই কর্মী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles