Sunday, August 2, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

পৃথিবীতে সমস্ত একচেটিয়া একদলীয় একাধিপত্যের পতন হয়!‌ তোলাবাজি বন্ধে ১৫ দিন সময় দিয়ে কর্মীদেরও কড়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

RK NEWZ ‘‘শুধরে যান, নয়তো বুঝিয়ে দেওয়া হবে বিজেপি কী জিনিস!’’ পালাবদলের পর দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি, হুমকি-সহ নানা অভিযোগে রাজ্যে নানা প্রান্তে ধরপাকড় চলছে। পুলিশের জালে তৃণমূলের অনেক ছোট-মাঝারি-বড় নেতা। তোলাবাজি রুখতে কড়া বার্তা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি। কাটমানি, তোলাবাজি সহ নানা অভিযোগে বিদ্ধ পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন তৃণমূল সরকার। রাজ্যে পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন সরকার স্পষ্ট করে দেয়, তোলাবাজি বন্ধ হবেই। এ ক্ষেত্রে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি সরকারের। অভিযোগ, পালাবদলের পরেও তোলাবাজি-রোগ যায়নি। অনেক বিজেপি নেতানেত্রীরাই তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত, এমন অভিযোগও উঠছে। সেই আবহে এ বার তোলাবাজি রুখতে কড়া বার্তা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। বিজেপির নামে, দলীয় পতাকা হাতে অনেকে তোলাবাজি করছেন, সেই অভিযোগ একপ্রকার মেনে নিয়েছেন শমীক। তবে এ-ও ইঙ্গিত দিলেন, তাঁদের অধিকাংশই ‘রাতারাতি’ বিজেপি হওয়া নেতাকর্মী। তোলাবাজি নিয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে শমীক বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোর হাতে প্রশাসনিক স্তরে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমরাও দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ভাবে যেটা করার করছি। ‘দু’-একটা জায়গায় বিচ্যুতি আছে। আরও ১৫ দিনের সময় দিচ্ছি আমরা। তার পরে যেটা হবে বুঝতে পারবেন।’’ রাজারহাটে আইআইটি খড়্গপুর রিসার্চ পার্কে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে শমীকের বক্তৃতার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল তোলাবাজি প্রসঙ্গ। ওই মঞ্চ থেকেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন তিনি। ‘ডিম থেরাপি’-র বিষয় উল্লেখ করে শমীকের সতর্কবার্তা, ‘‘এই ডিম কিন্তু ঘুরে গিয়ে অন্য দিকেও পড়তে পারে। এটা প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে। আমাদের দলকে মনেও রাখবে হবে।’’ শমীকের মতে, পৃথিবীতে সমস্ত একচেটিয়া একদলীয় একাধিপত্যের পতন হয়। সেই পতন আটকানো মুশকিল। তাই আগেভাগেই সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘‘আমরা ২০৭, এই শরীরী ভাষা নিয়ে কেউ যদি নেমে পড়েন ময়দানে, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে।’’ পালাবদলের পর দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি, হুমকি-সহ নানা অভিযোগে রাজ্যে নানা প্রান্তে ধরপাকড় চলছে। পুলিশের জালে তৃণমূলের অনেক ছোট-মাঝারি-বড় নেতা। গ্রেফতারির পর তাঁদের অনেককে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে দেখা গিয়েছে। সেই বিষয় মনে করিয়ে দিয়ে শমীকের বার্তা, ‘‘মনে রাখবেন ডিমের অভিমুখ বদলাতে সময় লাগবে না।’’ তৃণমূল জমানার দুর্নীতি রাতারাতি শেষ করা সম্ভব হয়েছে, তা মনে করেন না শমীক। তাঁর কথায়, ‘‘দু’মাস হয়েছে একটা সরকার তৈরি হয়েছে। সমস্ত কিছু সমাধান করা যায়নি। যদি বলি সব জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করে দিতে পেরেছি, তবে ভুল বলছি। একটা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন চলেছে। সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর যে সমস্ত কিছু বদলে গিয়েছে সেটা নয়।’’ পালাবদলের পর অনেকে দল বদলেছেন রাতারাতি। তৃণমূলের ঝান্ডা ছেড়ে বিজেপির পতাকা ধরেছেন। শমীক সেই সব ‘দলবদলুদের’ সতর্ক করে বলেন, ‘‘আমরা দলের পক্ষ থেকে সেটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। আবার বলছি, পুরোপুরি করতে পেরেছি সেটা নয়।’’ তিনি আশাবাদী, শীঘ্রই তোলাবাজি-সমস্যা গোড়া থেকে নির্মূল করা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles