RK NEWZ সরকার বদললেই ভোল বদল? দ্বিতীবার খুঁটিপুজোর আয়োজন না করতে পারলে ওই খুঁটিপুজোয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও অপমান করা হয় বলে জানান পুজো কমিটির নতুন সম্পাদক। কর্তাদের সাফআই, বছর দুয়েক আগে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভাব খাটিয়ে পুরসভার জায়গা দখল করে ক্লাব করে। তাতে পাড়ার লোকজনেরও সমস্যা হয়। পুরসভা, পুলিশের তরফে বারবার নোটিস দেওয়া হয়। তবে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভাব খাটিয়ে ক্লাব রেখে দেন। নতুন সরকার আসার পর ওই বেআইনি ক্লাব ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়। গত ২০ জুন ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তবে নোটিস হাতে পাওয়ামাত্রই গত ৫ জুন খুঁটিপুজো করা হয়। সেদিনের খুঁটিপুজোয় নিয়ম মানা হয়নি বলেই দাবি সাধারণত ঈশান কোণে খুঁটিপুজো করা হয়। তবে সে রীতি মানা হয়নি। সেই কারণেই শিল্পীর পরামর্শ নিয়ে দ্বিতীবার খুঁটিপুজোর আয়োজন। প্রশ্ন উঠছে, সরকারের বদল না হলে পুজো কর্তারা কী ভাবতেন? ৫ জুন কেন খুঁটিপুজো করা হল? তাহলে কি ফের বিজেপি নেতাদের সন্তুষ্ট করতেই দ্বিতীয়বার খুঁটিপুজো?
দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। হাতে আর বড়জোর তিন মাসও সময় নেই। ইতিমধ্যে একাধিক পুজো কমিটি খুঁটিপুজো সেরে ফেলেছে। তবে একই পুজোয় দু’বার খুঁটিপুজো শুনেছেন কখনও? শহর কলকাতার বুকে ঘটল এমনই কাণ্ড। বুধ-সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনে দ্বিতীবার খুঁটিপুজোর আয়োজন। প্রথমবার ৫ জুন। দ্বিতীয়বার ২৯ জুলাই! বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে রাজনীতি ও দুর্নীতি মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন। রাজ্যে পালাবদলের পর তাই শহরের একাধিক ক্লাবে বদলেছে পুজো কমিটির সদস্য। ব্যতিক্রমী নয় চোরবাগানও। আর এখানেই লুকিয়ে এবার দু’বার করে খুঁটিপুজোর কারণ। চোরবাগান সর্বজনীন পুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা বলেন, “বছর দুয়েক আগে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভাব খাটিয়ে পুরসভার জায়গা দখল করে ক্লাব করে। তাতে পাড়ার লোকজনেরও সমস্যা হয়। পুরসভা, পুলিশের তরফে বারবার নোটিস দেওয়া হয়। তবে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভাব খাটিয়ে ক্লাব রেখে দেন।” তবে বিজেপি সরকারের জমানায় বদলে গিয়েছে ছবি। রাজকুমারবাবু বলেন, “নতুন সরকার আসার পর ওই বেআইনি ক্লাব ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়। গত ২০ জুন ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তবে নোটিস হাতে পাওয়ামাত্রই গত ৫ জুন খুঁটিপুজো করা হয়।” কিন্তু সেদিনের খুঁটিপুজোয় নিয়ম মানা হয়নি বলেই দাবি তাঁর। তিনি জানান, সাধারণত ঈশান কোণে খুঁটিপুজো করা হয়। তবে সে রীতি মানা হয়নি। সেই কারণেই শিল্পীর পরামর্শ নিয়ে দ্বিতীবার খুঁটিপুজোর আয়োজন। ওই খুঁটিপুজোয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও অপমান করা হয় বলে জানান পুজো কমিটির নতুন সম্পাদক। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করবে বলেই দেওয়ালে মোদির মা দুর্গাকে আরতির ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। নেপথ্যে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা কলকাঠি নেড়েছেন বলেই মনে করছেন পুজো উদ্যোক্তারা। সে কারণেও চোরবাগান সর্বজনীনে দ্বিতীবার খুঁটিপুজো। কমিটি বদল হতে বদলেছে শিল্পীও। প্রথমবার সুশান্ত শিবানী পাল চোরবাগানের থিমসজ্জার দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে কোন থিমে সাজবে মণ্ডপ, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে। মধ্য় কলকাতার নজরকাড়া পুজোগুলির একটি চোরবাগান সর্বজনীন। এবার খ্যাতনামা শিল্পীর হাত ধরে মণ্ডপে মানুষের ঢল নামবে বলে আশা উদ্যোক্তাদের। পুজোর অন্যতম প্রাক্তন উদ্যোক্তা তথা সিএবির অন্যতম কর্তা বাপিবাবুর প্রশ্ন, পুজোর অন্যতম কর্তা জয়ন্তবাবু কি জানতেন না ঈশান কোনে খুঁটিপুজো করতে নেই?




